advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সব খবর

advertisement

সুনামগঞ্জে ভেসে গেছে ৩০ কোটি টাকার মাছ

বিন্দু তালুকদার সুনামগঞ্জ
৬ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ জুলাই ২০২০ ০১:২৫
advertisement

টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সুনামগঞ্জের মাছ চাষিরা। অন্তত ৪ হাজার পুকুরের মাছ ও মাছের পোনা বন্যার পানির সঙ্গে হাওর ও নদীতে ভেসে গেছে। বিক্রি যোগ্য মাছ বন্যার পানিতে চলে যাওয়ায় পথে বসেছেন অনেক চাষি।

মাছ চাষিদের দাবি, বন্যায় মাছ ভেসে গিয়ে তাদের ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকা। তবে জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্যÑ ক্ষতির পরিমাণ সাড়ে ২১ কোটি টাকা। মাছ চাষিদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত সব মাছ চাষিকে প্রণোদনা দিতে হবে। না হলে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে। করোনা দুর্যোগের কারণে মাছের দাম কম ছিল তখনই বানের জলে পুকুর থেকে বেরিয়ে গেছে সব মাছ।

জানা যায়, জেলার চাষযোগ্য মোট পুকুর ২০ হাজার ৭৬৯টি। গত সপ্তাহে (২৫ জুন থেকে ২৯ জুন) সুনামগঞ্জ অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত ও ভারতের চেরাপুঞ্জিতে অধিক বৃষ্টিপাতের ফলে সুনামগঞ্জ জেলায় বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে সুনামগঞ্জ সদর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ, দিরাই, শাল্লা, জগন্নাথপুর, ছাতক, দোয়ারাবাজার, তাহিরপুর ও ধর্মপাশায় প্রায় ৪ হাজার পুকুরের চাষকৃত মাছ ও মাছের পোনা বন্যার পানির সঙ্গে বেরিয়ে যায়।

জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত পুকুরের সংখ্যা ২ হাজার ৮৪৬। সবেচেয় বেশি ক্ষতি হয়েছে সদর উপজেলায়। এই উপজেলায় ১ হাজার ২১৮টি পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সারা জেলায় পুকুর তলিয়ে ও পাড় ভেঙে মোট মাছের ক্ষতি হয়েছে অন্তত ২১ কোটি ১৪ লাখ টাকার।

সুনামগঞ্জ শহরের হাছননগরের মাছ চাষি রফিকুল ইসলাম কালা মিয়া বলেন, তিনটি পুকুরে বিক্রি যোগ্য অন্তত ১৫ লাখ টাকার মাছ ছিল। কিন্তু করোনার কারণে মাছের দাম ছিল না, তাই পরে বিক্রি করার জন্য রেখে দিয়েছিলাম। মাত্র একদিনের পানিতে সব মাছ পুকুর থেকে রেরিয়ে গেছে। সব মাছ বেরিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছি। ঋণ করে মাছ চাষ করেছিলাম। সরকার কিছু কিছু আর্থিক সহযোগিতা না করলে কীভাবে ঋণ পরিশোধ করব তা ভেবে পাচ্ছি না।

জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বড় মাছ চাষিদের একজন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ইব্রাহীমপুর গ্রামের মুসলিম উদ্দিন। তার প্রতিষ্ঠান ইব্রাহীমপুর মর্ডান এগ্রো কমপ্লেক্স লিমিটেড। মুসলিম উদ্দিন জানান, ব্যাংক থেকে ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে সাড়ে ৩১ কেদার (প্রতি কেদার ৩০ শতক) জমিতে ৯টি পুকুরে মাছ চাষ করেছিলেন তিনি। গত ২৬ জুন শুক্রবার মধ্যরাতে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি সব পুকুরের পাড় তলিয়ে যায় এবং পুকুরের পাড় ভেঙে নিমিষেই সব পুকুরের পোনাসহ প্রায় ৭০ লাখ টাকার মাছ ভেসে যায়। ঋণ পরিশোধ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

ইব্রাহীমপুর গ্রামের মুসলিম উদ্দিন শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হননি। এই গ্রামের মাছ চাষি কবির মিয়া ও সাইফুল ইসলাসসহ আরও অনেকের অন্তত ১০টি পুকুরের সব মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।

সুনামগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বন্যায় অন্তত ২৫০০ জন মাছ চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ২০ হাজার ৭৬৯টি পুকুরের মধ্যে ২ হাজার ৮৪৬টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সদর উপজেলায়। বন্যায় চাষিদের পুকুরের মাছ, মাছের পোনা ও পুকুরের পাড়ের ক্ষতি হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের আর্থিক সহায়তার সুযোগ নেই। তবে মাছ চাষিরা ইচ্ছে করলে সরকারের ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনার প্যাকেজ থেকে স্বল্প সুদে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবেন।

advertisement