advertisement
advertisement

করোনাকালেও বন্ধ হয়নি চাঁদাবাজি

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
৬ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ জুলাই ২০২০ ০১:২৫
advertisement

মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমণে জনজীবন থমকে গেলেও নেত্রকোনার সড়কপথে অবাধে চলছে চাঁদাবাজি। জেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের বিভিন্ন স্থানে বালুবাহী ট্রাক, ট্রাক্টর, লরি থেকে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে হামলা, মামলার ঘটনা ঘটেছে। এর পরও চাঁদাবাজি থামছে না। এর প্রতিবাদে শ্রমিকরা শুক্রবার বিকালে সড়ক অবরোধ করেন।

অভিযোগে রয়েছে, জেলার দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীর বালুমহাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রাক, ট্রাক্টর, কাভার্ডভ্যান, লরিতে করে বালু পরিবহন করা হয়। জেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে এসব যানবাহন থেকে বিভিন্ন সংগঠনের নামে উত্তোলন করা হয় চাঁদা। এতে বিরোধিতা করছিল নেত্রকোনা জেলা ট্রাক, ট্রাক্টর, কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন। এ নিয়ে নেত্রকোনা জেলা মোটরযান কর্মচারী ইউনিয়নের সঙ্গে ওই সংগঠনটির বিরোধের সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার রাতে দুর্গাপুরের বিরিশিরি এলাকায় দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং সংঘর্ষের উপক্রম হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরদিন বুধবার সকালে নেত্রকোনা জেলা ট্রাক, ট্রাক্টর, কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে দুর্গাপুর যাওয়ার পথে বিরিশিরিতে তাদের ওপর হামলা চালান স্থানীয় কিছু শ্রমিক। এ সময় বলাই সরকার, শামীম আহমেদ, আরশাদ মিয়া, আবুল হাসেমসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুর্গাপুর থানায় মামলা হয়েছে। শ্রমিক নেতা সাইফুল ইসলাম বাচ্চু বাদী হয়ে ২৩ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ২৫-৩০ জনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন। এর পরও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ওইসব যানবাহনে চলে চাঁদা উত্তোলন। চাঁদাবাজি বন্ধে শুক্রবার বিকালে ওই সড়কের পূর্বধলা এলাকায় চার ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে ট্রাক, ট্রাক্টর, কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের লোকজন। এ সময় সড়কের ওপর যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেন। স্বাভাবিক হয় সড়কে যান চলাচল।

নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্সী বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধে আমরা জিরো টলারেন্স। সড়ক ও নৌপথ কোনো ক্ষেত্রেই চাঁদাবাজি চলতে দেওয়া হবে না। শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কে স্থানীয় দুটি শ্রমিক সংগঠন নিজেদের বৈধ সংগঠন দাবি করছে। বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

advertisement