advertisement
advertisement

ফেরত গেল উন্নয়ন প্রকল্পের কোটি টাকা

মুকুল কান্তি দাশ চকরিয়া
৬ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ জুলাই ২০২০ ০১:২৫
advertisement

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উন্নয়ন প্রকল্পের প্রায় এক কোটি টাকা ফেরত চলে গেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সঠিক সময়ে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করতে না পারায় এ টাকা ফেরত গেছে বলে জানা গেছে। যার কারণে চলতি বছর চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে দারুণভাবে সংকট সৃষ্টি হবে। ফলে জরুরি সেবা থেকে বঞ্চিত হবে চকরিয়াসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি উপজেলার অন্তত ২০ লাখ মানুষ।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ২১ এপ্রিল প্রথম টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এর পর ১১ মে ঠিকাদাররা টেন্ডার ড্রপ করেন। এতে অন্তত ঢাকা-চট্টগ্রাম ও স্থানীয় মিলে ১০ ঠিকাদার অংশ নেন; কিন্তু সর্বনিম্ন দরদাতা না পাওয়া এবং কাগজপত্র সঠিক নেই অজুহাতে ওই টেন্ডার বাতিল করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে গত ২৯ মে আবারও দ্বিতীয়বারের মতো দরপত্র আহ্বান করা হয়। ১৪ জুন আবারও টেন্ডার ড্রপ করেন ঠিকাদাররা। ওই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় চারটি ঠিকাদারি কোম্পানি অংশ নেয়; কিন্তু ওই টেন্ডারও নানা অজুহাতে বাতিল করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

দরপত্র সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে ছয়টি গ্রুপে ৬টি সরঞ্জামের ওপর ৭৪ লাখ ১৩ হাজার ৬৩০ টাকার টেন্ডার আহ্বান করেন। এর মধ্যে অ্যাসেনসিয়াল ড্রাগ কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) বহির্ভূত ওষুধের জন্য ৩১ লাখ ২৬ হাজার ২৪৬ টাকা, যন্ত্রপাতি বাবদ ১৭ লাখ ৮৬ হাজার ৪১০ টাকা, গজ-ব্যান্ডিজ বাবদ ৮ লাখ ৯৩ হাজার ২০৫টাকা, লিনেন বাবদ ৮ লাখ ৯৩ হাজার ২০৫ টাকা, ক্যামিকেল বাবদ ৩ লাখ ৫৭ হাজার ২৮২ টাকা, মেরামত বাবদ ৩ লাখ ৫৭ হাজার ২৮২ টাকা এবং আসবাব বাবদ ৩ লাখ ৫৭ হাজার ২৮২ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

অপরদিকে হাসপাতালের জন্য ৯৩ লাখ ৭৮ হাজার ৬৫২ টাকার ওষুধের চাহিদা পাঠানো হয়। তার বিপরীতে ৭০ লাখ টাকার ওষুধ দেওয়া হয়। বাকি ২৩ লাখ ৭৮ হাজার ৬৫২ টাকার ওষুধ সংগ্রহ করতে না পারায় সেই টাকাও ফেরত চলে যায়।

জানা যায়, ইডিসিএল হলো সরকারি প্রতিষ্ঠান। মোট বরাদ্দের ৭৫ শতাংশ তারা সরবরাহ করে থাকে। বাকি ২৫ শতাংশ কাজ টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদাররা সরবরাহ করেন।

সূত্র জানায়, ইডিসিএলবহির্ভূত ওষুধসহ ছয়টি গ্রুপের সরঞ্জাম বাবদ ৭৪ লাখ ১৩ হাজার ৬৩০ টাকাসহ সরকারি ওষুধ বরাদ্দে ২৩ লাখ ৭৮ হাজার ৬৫২ টাকাও ফেরত গেছে। এতে প্রায় ৯৮ লাখ টাকা ফেরত চলে যায়।

টেন্ডার প্রক্রিয়ার অংশ নেওয়া মেসার্স শাহিন ফার্মেসির প্রতিনিধি আবদুল হামিদ বলেন, আমরা সব ধরনের প্রক্রিয়া অবলম্বন করে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা বাতিল করে দেয়।

এ রকম আরও বেশ কয়েক ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, পর পর দুবার সব ধরনের প্রক্রিয়া মেনে টেন্ডারে অংশ নিলেও কোনো এক অদৃশ্য কারণে তা বাতিল করা হয়েছে, যার কারণে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে হাসপাতালের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ১ কোটি টাকা ফেরত গেছে। এর ফলে চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে দারুণ সংকটে পড়বে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৫০০ রোগী চিকিৎসা নেন। তার মধ্যে জরুরি সেবা অর্থাৎ হাত-পা ভাঙা, দুর্ঘটনা ও মারামারিতে আহত রোগী বেশি। এসব জরুরি রোগীর সেবার জন্য দরকার হয় গজ-ব্যান্ডিজসহ নানা সরঞ্জাম; কিন্তু ২০১৯-২০ অর্থবছরের এসব সরঞ্জাম কেনার টাকা ফেরত যাওয়ায় কষ্টে পড়বেন জরুরি বিভাগের এসব রোগী। আগে যেখানে এসব সরঞ্জাম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিনামূল্যে দিত এখন তা রোগীদের বাহির থেকে বেশি দামে কিনে আনতে হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহবাজের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

কক্সবাজা-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জাফর আলম বলেন, আমি আসলে সভাপতি হলেও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আমার কোনো হাত নেই। এটা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে এটা ঠিক, এতো বড় অঙ্কের টাকা ফেরত যাওয়ায় চকরিয়াবাসীর জন্য চরম ক্ষতি হয়েছে। এমপি আরও বলেন, আমি সিভিল সার্জন ও টিএইচওকে বলেছিÑ যাতে প্রকল্পের টাকা ফেরত না যায়। তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছিলেনÑ টাকা ফেরত যাবে না। পরে শুনলাম প্রকল্পের টাকা ফেরত গেছে।

advertisement