advertisement
advertisement

ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাট
কৈজুরীতে নৌকা আর নৌকা

আমিনুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ
৬ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ জুলাই ২০২০ ০১:২৫
advertisement

যেদিকে তাকাই চারিদিকে শুধু নৌকা আর নৌকা। ৫ শতাধিক ডিঙি নৌকা সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিক্রির জন্য। এসব আনা হয়েছে পাবনার বেড়া, প্যাচাকোলা, শৈলজানার চর এবং সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী, চরকৈজুরী, পাঁচিল, জামিরতা, গুদিবাড়ি, রতনদিয়া, ধীতপুর থেকে। বলছি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরীর নৌকার হাটের কথা। যমুনা, করতোয়া, বড়াল, হুড়াসাগর আর গোহালা নদীর মতো বেশ কটি নদী শাহজাদপুর উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবহমান থাকায় প্রায় ৪০ বছর ধরে কৈজুরীতে বসে এই হাট। কালের বিবর্তনে কোষা, বজরা, গয়নার নৌকার বিলুপ্তি ঘটলেও কৈজুরীতে ডিঙি নৌকারহাট এখনো টিকে আছে। সিরাজগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে শাহজাদপুরের কৈজুরীতে নৌকার পসরা সাজিয়ে হাট বসে প্রতি শুক্রবার।

চলমান করোনা দুর্যোগের সঙ্গে আকস্মিক বন্যার কারণে নৌকার চাহিদা বেড়েছে এ অঞ্চলে। তাই তো পার্শ্ববর্তী পাবনা জেলাসহ সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা থেকে মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় পছন্দের নৌকা কিনতে ভিড় করছে কৈজুরীতে। আষাঢ়-শ্রাবণ দুই মাস বর্ষাকাল হলেও শাহজাদপুরের নদীপারের মানুষের বর্ষার পরও অনেক দিন নৌকা চড়েই চলাফেরা করতে হয়। একাধিক নৌকা বিক্রেতা জানান, নৌকা বিক্রি তাদের পৈতৃক ব্যবসা। এ বছর আগাম বন্যা হওয়ায় তারা দাম একটু বেশি পাওয়ায় ব্যবসা ভালো হচ্ছে বলে তারা দারুণ খুশি। তাদের মতে, ১২ হাত লম্বা একটি ডিঙি নৌকা ৬ থেকে থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে আগের দিনে সারা বছর নৌকার চাহিদা থাকলেও এখন শুধু বর্ষা মৌসুমেই তাদের ব্যবসা।

একাধিক ক্রেতা জানান, যমুনাতীরবর্তী হওয়ায় আষাঢ়ের প্রথমেই বাড়ির চারপাশে বন্যার পানিতে থইথই করে এ বাড়ি ও বাড়ি যেতে নৌকাই একমাত্র বাহন। এ অঞ্চলে গবাদিপশুর খাদ্য সংগ্রহ করতে নৌকার কোনো বিকল্প নেই। তবে কেউ কেউ বলছেন, পশুর হাটে যেমন দালালচক্র থাকে তেমনি নৌকার হাটও তার ব্যতিক্রম নয়।

নৌকার হাট এবং নিরাপত্তা বিষয়ে কৈজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, ক্রেতা-বিক্রেতার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করছি। একই সঙ্গে করোনা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য হাটে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে সবাইকে সচেতন করছি।

advertisement