advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সব খবর

advertisement

ভালো আছি ভালো থেকো

তারেক আনন্দ
৭ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ জুলাই ২০২০ ২২:৩৩
advertisement

জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প, যা কিছু দেখার নাও দেখে নাও, যা কিছু বলার যাও বলে যাও, পাবে না সময় আর হয়তোÑ তিনি কি পেরেছেন সব দেখতে? তার জীবনের গল্প বলা কি শেষ? আর কি কোনো গল্প বলা বাকি ছিল? আমাদের তো বলে গেলেন না। প্লেব্যাক সম্রাট গল্প বলার ইতি টানলেন। এক জীবনে আমরা গানে গানে তার কত্ত গল্প শুনেছি, কিন্তু আমরা তো কোনো দিন তার গল্প জানতে চাইনি। মানুষের কত গল্প থাকে। সুখ, দুঃখ, হাসি, কান্না। এ মানুষটি আমাদের দুঃখের দিনেও পাশে ছিলেন, সুখের দিনেও ছিলেন। আমরা তার গান আনন্দেও শুনেছি, শুনেছি দুঃখ ভারাক্রান্ত হƒদয়েও। আহা কত শত গান!

আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি, এই চোখ দুটো মাটি খেয়ো না, আমি মরে গেলেও তারে দেখার সাধ মিটবে না গো মিটবে না...। মানুষের জীবনের গল্প অনেক সময় ছবির গল্পের সঙ্গে মিলে যায়। ‘নয়নের আলো’ ছবির এই গানটি যখন বেজে ওঠে পর্দায় তখন দেখা যায়, নায়কের মা অন্তিমশয্যায়। ছেলের কাছে শেষ ইচ্ছা হিসেবে শুনতে চান গান। গা না বাবা ওই গানটা। মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণের জন্য ছেলে গেয়ে ওঠেনÑ আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি, ওই চোখ দুটো মাটি খেয়ো না, আমি মরে গেলেও তারে দেখার সাধ মিটবে না গো মিটবে না। গান শুনতে শুনতে মা চলে যান ওপারে। এই দৃশ্য পর্দায় ছিল বেদনার। বাস্তবের নায়ক জাফর ইকবালও চলে গেছেন অনেক আগে, চলে গেছেন কালজয়ী এই গানের গীতিকার সুরকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলও। এবার গানের মানুষ এন্ড্রু কিশোরও পাড়ি জমালেন দূর দেশে। নয়নের আলোর ছবির কাহিনি, নায়ক জাফর একবালের অভিনয়, এন্ড্রু কিশোরের গানÑ কোনোটাই ভুলবে না মানুষ। সারা দেশের মানুষের মনে দাগ কেটেছে কিশোরের গাওয়া সেই গানগুলোÑ ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান’, ‘আমার বুকের মধ্যিখানে মন যেখানে হƒদয় সেখানে’, ‘সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’ প্রভৃতি।

মানুষ চলে যাবে। এটাই অমোঘ নিয়তি। চলে যাওয়া নিয়ে তার আরেকটি গান দাগ কেটে যায়। এই গানটাই এই মুহূর্তে যারা শুনবেন আনমনে চোখের কোণে জমে যাবে জল। সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের লেখাÑ হায়রে মানুষ রঙিন ফানুশ দম ফুরাইলে ঠুস...। আহা রে নিয়তি। গানে গানে সব চিরন্তন সত্যি কথাগুলোই যেন বলে গেলেন।

এন্ড্রু কিশোরের অনেক গান হƒদয় স্পর্শ করে। গানে উঠে আসে ভালোবাসার মানুষকে না পাওয়ার কথা, বেদনার কথা, ছেড়ে চলে যাওয়ার আর্তনাদ! গানগুলো ছবির গল্পের প্রয়োজনে লেখা হলেও মানুষের জীবনের সঙ্গে মিলে যায়। তেমনি একটি গান ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, রইব না আর বেশিদিন তোদের মাঝারে। ‘প্রাণসজনী’ ছবিতে প্রেমিকাকে ছেড়ে চলে যাবার মুহূর্তে এ গানটি বেজে উঠলেও এখন মনে হচ্ছে দয়ালের ডাকেই তিনি চলে গেলেন আমাদের ছেড়ে। মাত্র ৬৫ বছর বয়সেই আমরা হারালাম প্রিয় গায়ককে। আর কিছুদিন থাকলে বিধাতার কী এমন হতো! যে মানুষের জন্য দেশের কোটি কোটি প্রাণ কাঁদে সেই মানুষটার প্রতি বিধাতা কেন এত নিষ্ঠুর হলেন?

সবাই তো ভালোবাসা চায়। কেউ পায় কেউ বা হারায়...। প্লেব্যাক সম্রাট অগণিত মানুষের ভালোবাসাই পেয়েছেন। রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লার লেখা গানের কথায় তাকে বিদায় জানাইÑ ভালো আছি

ভালো থেকো...

advertisement
Evaly
advertisement