advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

চীনে প্লেগ রোগীর সন্ধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৭ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ জুলাই ২০২০ ২২:৫৪
advertisement

করোনা ভাইরাসের পর এবার চীনে সম্ভাব্য বিউবনিক প্লেগে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। ওই ব্যক্তি বেইজিংয়ের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত মঙ্গোলিয়ার বায়ান্নুর শহরের বাসিন্দা। শহরজুড়ে জারি করা হয়েছে ৩ মাত্রার প্লেগ প্রতিরোধ সতর্কতা।

সিএনএন জানিয়েছে, ২০২০ সালের শেষ পর্যন্ত এই সতর্কতা জারি রাখার কথা ভাবছে প্রশাসন। রোগটি মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।

প্লেগের তিনটি ধরনের একটি হলো বিউবনিক প্লেগ। বন্য ইঁদুর এবং ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর শরীরে এক ধরনের পোকা জন্মায়। সেই পোকার মাধ্যমেই বিউবনিক প্লেগের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত হয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, দ্রুত এই ব্যাকটেরিয়া একজনের শরীর থেকে অন্যের শরীরে ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইনেও সতর্ক করে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা না হলে এই রোগ থেকে মৃত্যু হতে পারে।

শনিবার মঙ্গোলিয়ার একটি হাসপাতালে অজানা রোগ নিয়ে ভর্তি হন এক রোগী। শনিবার সন্ধ্যায় চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন, ওই রোগী বিউবনিক প্লেগে আক্রান্ত হয়েছেন। এটি একটি সংক্রমক এবং ভয়াবহ অসুখ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে।

বিউবনিক প্লেগ বোঝার পরেই চিকিৎসকরা স্থানীয় প্রশাসনকে খবর দেন। আর রবিবার প্রশাসন তৃতীয় স্তরের হাই অ্যালার্ট জারি করে। মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের ঝুঁকি ঠেকাতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়ার জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বায়ান্নুর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। শিকার পরিহার করা এবং সংক্রমণ ছড়াতে পারে এমন পশুর মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

চায়না ডেইলিকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘বর্তমানে এ শহরে মানুষের মধ্যে প্লেগ মহামারী ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। মানুষের উচিত নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, সচেতনতা ও সক্ষমতা বাড়ানো এবং শারীরিকভাবে অস্বাভাবিকতা দেখা যাওয়া মাত্রই দ্রুত তা অবহিত করা।’

এর আগে গত ১ জুলাই দক্ষিণ মঙ্গোলিয়াতেও দুজনের শরীরে বিউবনিক প্লেগের জীবাণু পাওয়া গিয়েছিল। একজনের বয়স ২৭, অন্যজনের বয়স ১৭। জানা গিয়েছে, তারা ম্যারমোটের মাংস খেয়েছিলেন। ম্যারমোট হলো এক ধরনের পাহাড়ি মূষিক। মঙ্গোলিয়া অঞ্চলে অনেকেই এর মাংস খেয়ে থাকেন। তবে নতুন আক্রান্ত ব্যক্তি কীভাবে সংক্রমিত হয়েছেন তা জানা যায়নি।

চতুর্দশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বিশ্বে বিউবনিক প্লেগের মহামারী দেখা দিয়েছিল। এ মহামারীর নাম দেওয়া হয়েছিল ব্ল্যাক ডেথ। এটি প্রাণ কেড়েছিল অসংখ্য মানুষের। শুধু ইউরোপেই ৫ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

advertisement
Evaly
advertisement