advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ব্যবধান কমাল বার্সা

ক্রীড়া ডেস্ক
৭ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ জুলাই ২০২০ ২৩:০৪
advertisement

লেগানেসকে ২-০ গোলে হারানোর পর চারটি ম্যাচ খেলেছে বার্সেলোনা। এর মধ্যে শুধু জয়ের দেখা মিলেছে অ্যাথলেটিকো বিলবাওয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচটিতে। তার আগে সেভিয়া এবং পরে সেল্টা ভিগো ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ড্র করে যেন জিততেই ভুলে গিয়েছিল কিকে সেতিয়েনের শিষ্যরা।

অবশেষে ভিয়ারিয়ালের মাঠে খেলতে গিয়ে জয়ের দেখা পেলেন লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজরা। তাও কষ্টার্জিত কোনো জয় নয়, রীতিমতো স্বাগতিকদের উড়িয়ে দিয়ে ৪-১ গোলের জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। দুর্দান্ত খেলেছেন দলের তিন তারকা মেসি, সুয়ারেজ ও অ্যান্টনিও গ্রিজম্যান। গোল পেয়েছেন তরুণ তুর্কি আনসু ফাতিও।

এ জয়ের পরও অবশ্য রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ৪ পয়েন্টে পিছিয়ে আছে বার্সা। লিগে বাকি আর ৪ ম্যাচ। গাণিতিক হিসাবে শিরোপা স্বপ্ন এখনো টিকে আছে। তবে খোদ বার্সা খেলোয়াড়রাও নিশ্চয়ই জানেন সেই সম্ভাবনা প্রায় অসম্ভবের মতোই।

তবে আপাতত এ জয়টাতেই ফোকাস করতে চাইবেন বার্সা সমর্থকরা। বহু দিন পর আক্রমণাত্মক বার্সার দেখা মিলেছে। লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ, গ্রিজম্যানকে প্রথম একাদশে মাঠে নামিয়ে সফল হয়েছেন কোচ সেতিয়েন। মেসি করেছেন দুই অ্যাসিস্ট, তাতে পরের দুজন করেছেন দেখার মতো দুই গোল। আর মৌসুমে মেসির অ্যাসিস্ট দাঁড়িয়েছে ১৯টি। ২০১০-১১ আর ২০১৪-১৫ মৌসুমে সর্বোচ্চ ১৮টি অ্যাসিস্ট ছিল মেসির। লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের নিজের রেকর্ডটা ছাড়িয়ে গেছেন বার্সা অধিনায়ক।

লা সিরামিকায় শুরুতেই নিজেদের ওপর চাপ কমিয়ে ফেলেছিল বার্সা। ম্যাচের ৩ মিনিটে জর্দি আলবার ক্রস থেকে পাউ তোরেস আত্মঘাতী গোল করে বসেন। তবে এর পরও পুরোপুরি স্বত্বি মেলেনি বার্সার। এই মৌসুমে যেন নিয়মিত ঘটনাই হয়ে গেছে সেটি। ভিয়ারিয়ালও ক্ষমা করেনি। জেরার্ডো মরেনো ১৪ মিনিটেই গোল শোধ দিয়ে ভিয়ারিয়ালকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন।

২০ মিনিটে মিডফিল্ডে বল পেয়ে মেসি ঝলক দেখিয়েছেন। ভিয়ারিয়ালের দুই ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে বক্সের সামনে গিয়ে বাঁ পাশে থাকা সুয়ারেজকে পাস দিয়েছেন। উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার ডান পায়ের বাঁকানো শটে বল জড়িয়েছেন টপ কর্নারে। বিরতির আগে জয়ের পথ সহজ করে দিয়েছেন গ্রিজম্যান। ৪৫ মিনিটে গ্রিজম্যান দেখিয়েছেন কতখানি ধারালো হতে পারেন তিনি। ভিয়ারিয়ালের বক্সের ঠিক বাইরে মেসির সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ার পর ব্যাকহিল থেকে বল পান। সুয়ারেজ যেখান থেকে গোল করেছেন সেখানেই বল পেয়েছিলেন তিনি। গ্রিজম্যানও একই কোনায় বল জড়িয়েছেন, তবে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত এক চিপে।

দ্বিতীয়ার্ধে বেশিরভাগ সময়ই দেখা গেছে বার্সার দাপট। মেসি গোল করেছিলেন ৬৯ মিনিটে। কিন্তু অফসাইডের কারণে পরে ভিএআরে বাতিল হয়েছে সেই গোল। রিকি পুজ মাঠে নেমেছিলেন ৬০ মিনিটে, আরেক তরুণ ফাতি ৭২ মিনিটে। দুজনই দিশেহারা বার্সাকে আলোর রেখা দেখিয়েছেন আরেকবার। ফাতি অবশ্য এক ধাপ বেশি গেছেন। ১৭ বছর বয়সী ৮৬ মিনিটে করেছেন সলো গোল। আলবার কাছ থেকে বাঁ প্রান্তে বল পেয়ে ঢুকে গিয়েছিলেন বক্সের ভেতর, নিজেই শট নিয়েছেন। সেই বল গড়িয়ে গড়িয়ে গিয়ে জড়িয়েছে ভিয়ারিয়ালের জালে।

এ ম্যাচের পর আপাতত নতুন একটা লাইফলাইন পেয়ে গেল বার্সা। তবে তার ধারাবাহিকতা কতখানি থাকে সেটাই এখন প্রশ্ন।

ভিএআরে সন্তুষ্ট নন বার্সা প্রেসিডেন্ট

লা লিগায় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি প্রযুক্তির (ভিএআর) ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জোসেপ মারিয়া বার্তোমিউ। তার অভিযোগ, ভিএআরের অধিকাংশ সিদ্ধান্ত যায় একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে। সরাসরি কোনো দলের নাম উল্লেখ না করলেও বার্সেলোনা সভাপতির ইঙ্গিত, সুবিধা পাওয়া সেই দল হলো রিয়াল মাদ্রিদ।

লা লিগায় গত রবিবার ভিয়ারিয়ালকে ৪-১ গোলে হারিয়ে রিয়ালের সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান চারে নামিয়ে এনেছে বার্সেলোনা। লিগের মুকুট ধরে রাখার আশাও বাঁচিয়ে রেখেছে কিছুটা। একই দিনে সার্জিও রামোসের একমাত্র গোলে অ্যাথলেতিক বিলবাওয়ের মাঠ থেকে ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে ফেরে রিয়াল। আর সেই ম্যাচে ভিএআরের সিদ্ধান্ত দেখেই বার্সা প্রেসিডেন্টের মনে হয়েছে ভিএআর আসলে নির্দিষ্ট একটি দলের পথ প্রশস্ত করছে। আর এ ঘটনা দেখেই ক্ষেপে গেলেন বার্সা প্রেসিডেন্ট বার্তোমিউ। কোনো রাখঢাক না করেই বললেন, ‘আমি বিলবাওয়ের খেলাটা দেখেছি। মাদ্রিদের আরেকটি জয়। আমাদের কথা হচ্ছে যেটা আমি বারবার বলব, বলতে খারাপ লাগে, তবে বিশ্বের সেরা লিগে ভিএআর যে পর্যায়ে থাকা উচিত, এটা এখন সে পর্যায়ে নেই। লিগ নতুনভাবে শুরু হওয়ার পর থেকেই এটা ঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। আর এতে করে ম্যাচের ফলে প্রভাব পড়ছে।’

advertisement