advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মূলধন ঘাটতি পূরণে তিন প্রস্তাব সোনালীর

আবু আলী
৭ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৭ জুলাই ২০২০ ০৮:৫৪
advertisement

ব্যাসেল থ্রির কঠোর নিয়মানুবর্তিতায় বিভিন্ন সমন্বয় ও শ্রেণিকৃত ঋণাধিক্য এবং প্রভেশনিং ঘাটতির কারণে নিট মুনাফা অর্জনের মাধ্যমে মূলধন ঘাটতি পূরণ সম্ভব নয়। খেলাপি ঋণ ও এর বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণে ঘাটতি বাড়ছে। এ ঘাটতি মেটাতে ১০ হাজার কোটি টাকা চায় রাষ্ট্রায়ত্ত সবচেয়ে বড় ব্যাংক সোনালী ব্যাংক লিমিটেড। ঘাটতি অর্থায়নে তিনটি প্রস্তাবনা দিয়েছে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। খবর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রের।

প্রস্তাবনায় বলা হয়, ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণে সরকার তিনটি বিকল্প গ্রহণ করতে পারে। এর মধ্যে ঘাটতি পূরণে দেওয়া নগদ অর্থের বিপরীতে সরকারের অনুকূলে শেয়ার ইস্যু, ব্যাংকের অনুকূলে ১০ হাজার কোটি টাকার সরকারি গ্যারান্টিপত্র ইস্যু এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের একে মূলধন হিসেবে স্বীকৃতি অথবা সরকারের এই ব্যাংকের অনুকূলে নামমাত্র কুপন হারে ১০ হাজার কোটি টাকার সরকারি পারপিচুয়াল বন্ড ইস্যু করা। ওই বন্ডের বিপরীতে ব্যাংককে সরকারের অনুকূলে শেয়ার ইস্যুকরণের সুযোগ দেওয়া। এর মধ্যে যে কোনো একটিকে বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণের পদক্ষেপ কার্যকর হবে বলে জানায় ব্যাংকটি।

চিঠিতে বলা হয়েছে, মূলধন ঘাটতি থাকলে বিদেশি ব্যাংকগুলো এলসি নিতে চায় না। নিলেও বাড়তি খরচ দিতে হয়। এ ছাড়া করোনা পরিস্থিতির কারণে ব্যাংকের ব্যবসাও কমে গেছে। ২০২০ সালে সোনালী ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ৮০০ কোটি টাকা কমবে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০০৭ সালে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরকালে পুঞ্জীভূত ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা। এই ক্ষতিকে ইনটেনজেবল অ্যাসেট বা সুনাম হিসাবে রূপান্তর করে গত ১০ বছরে মুনাফার বিপরীতে সমন্বয়সহ নানা কারণে মূলধন ঘাটতি ক্রমেই বৃদ্ধি পায়। কিন্তু নানা পদক্ষেপে ব্যাংকটির মুনাফা বাড়লেও খেলাপি ঋণ ও প্রভিশন ঘাটতির কারণে মূলধন সংকট বাড়তে থাকে। এখন করোনার এই ক্রান্তিকালে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে ১০ হাজার কোটি টাকার মূলধন প্রয়োজন। এর মাধমে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থার ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ নগদ টাকানা চেয়ে বিকল্প পন্থার কথা বলা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নিবিড় তদারকিসহ যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে সোনালী ব্যাংক দেশের সব বাণিজ্যিক এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে ২০১৮ সালে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২৫ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা করেছে। ২০১৯ সালেও প্রায় অনুরূপ ফল প্রত্যাশা করছে। পরিচালন মুনাফা বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখা সম্ভব হলেও নিট মুনাফা অর্জনের মাধ্যমে ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণ সম্ভব হবে না।

এ ছাড়া করোনায় দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ব্যাপক হুমকির সম্মুখীন; যার উল্লেখযোগ্য প্রভাব ব্যাংকিং সেক্টরের ওপরও পড়েছে। সর্ববৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক হিসেবে সোনালী ব্যাংকের ওপর এর প্রভাব আরও বেশি হবে। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক যদিও কোভিড ১৯-এর প্রভাব মোকাবিলায় ১ লাখ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। তবু প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ২০২০ সালে এ ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৮০০ কোটি টাকা কম হবে, যা ব্যাংকের মূলধন ঘাটতিকে আরও নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে ব্যাসেল-৩ বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকগুলোকে ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফার বাবদ ২ দশমিক ৫০ শতাংশ ঝুঁঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে মূলধন সংরক্ষণ করতে হবে। তা ছাড়া সোনালী ব্যাংককে বিভিন্ন বিষয়ে মোট ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধন সংরক্ষণ করতে হবে। এ অবস্থায় ব্যাংকের বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় মূলধন ঘাটতি পূরণে ১০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। নিট মুনাফা দ্বারা এই ঘাটতি পূরণ অসম্ভব। করলেও দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার, যা ব্যাসেল-৩ পরিপালনে বড় অন্তরায়।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সোনালী ব্যাংক সর্ববৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত ও একমাত্র ট্রেজারি ব্যাংক হিসেবে সরকারি বড় বড় এলসি খুলে থাকে। যেমন সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের জন্য প্রায় ৯৫ হাজার কোটি টাকা মূল্যের একটি এলসি এ ব্যাংক থেকে খোলা হয়েছে। এ ছাড়া বিপিসি, খাদ্য, সমরাস্ত্র, রেলওয়ে এসব মন্ত্রণালয় তো রয়েছেই। ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি থাকলে অনেক বিদেশি ব্যাংক এলসি গ্রহণ করতে চায় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করলেও কনফারমেশন ফি দাবি করে। এতে সরকারের ও দেশের আমদানি ব্যয় প্রায় ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেড়ে যায়। এ কারণে সোনালী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণ অত্যাবশ্যক।

advertisement