advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নুসরাত হত্যা মামলার শুনানি আটকে গেছে হাইকোর্টে

কবির হোসেন
৭ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৭ জুলাই ২০২০ ০১:২৬
ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি
advertisement

করোনা মহামারীর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বিচার বিভাগও। করোনার প্রভাবে বিচার বন্ধ থাকায় চাঞ্চল্যকর অনেক মামলার শুনানি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। আলোচিত মামলা ফেনীর নুসরাত হত্যার ডেথরেফারেন্স (মৃত্যু অনুমোদন) মামলার শুনানিও আটকে গেছে হাইকোর্টে। মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য মার্চের প্রথম সপ্তাহে প্রধান বিচারপতি নির্দেশ দিলেও তা কার্যকর করা যায়নি। করোনা পরিস্থিতিতে না পড়লে এতদিনে হাইকোর্টে মামলাটি নিষ্পত্তি হয়ে যেত। এটি কবে নিষ্পত্তি হবে তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না।

হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি ড. মো. বশির উল্লাহ জানিয়েছেন, নিয়মিত আদালত চালু হলেই মামলাটি শুনানির জন্য উত্থাপন করা হবে। নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, ‘মহামারীর কারণে বিচার আটকে আছে। এখন একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেলাম।’

যৌন হয়রানির অভিযোগে গত বছর ২৭ মার্চ ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে মামলা করেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার।

মামলাটি প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় গত বছর ৬ এপ্রিল পরীক্ষার হল থেকে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয় মুখোশধারী ও বোরকা পরা দুর্বৃত্তরা। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ফেনী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন গত বছর ১০ এপ্রিল রাতে মারা যান নুসরাত। এ ঘটনা তখন দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি করে।

পরে এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গত বছর ২৯ মে মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলাটির বিচার হয়। অভিযোগপত্র দাখিলের পাঁচ মাসের মধ্যে বিচার শেষ করে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গত বছর ২৪ অক্টোবর রায়ে ১৬ আসামিকেই মৃত্যুদ- দেন।

পরে আইন অনুযায়ী আসামিদের মৃত্যু অনুমোদনে ডেথ রেফারেন্স হিসেবে মামলার যাবতীয় নথি পাঠানো হয় হাইকোর্টে। নিম্ন আদালতের রায়ের কপিসহ যাবতীয় নথি গত বছর ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টে পৌঁছলে এটি ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। এর পর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ মামলার পেপারবুক (শুনানির যাবতীয় নথি) তৈরি করে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন। সরকারি ছাপাখানায় (বিজি প্রেস) পেপারবুক তৈরির কাজ শেষ হলে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য গত ২ মার্চ হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ নির্ধারণ করেন। বিচারপতি সৌমেন্দ্র সরকারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে পাঠানো হয় মামলাটি। তবে তা সংশ্লিষ্ট আদালতে যাওয়ার পর পরই গত ১৩ মার্চ থেকে সুপ্রিমকোর্টে শুরু হয় অবকাশকালীন ছুটি। এর পর করোনা ভাইরাসের কারণে আদালত বন্ধ থাকায় শুনানি শুরু হয়নি এই ডেথ রেফারেন্সের।

মৃত্যুদ-প্রাপ্ত ১৬ আসামি হলেনÑ বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. রুহুল আমিন, মাদ্রাসার প্রভাষক আফছার উদ্দিন, পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, হাফেজ আবদুল কাদের, ছাত্র নূর উদ্দিন, ইফতেখার উদ্দিন রানা, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, মো. শামীম, সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, আবদুর রহিম শরীফ, মহিউদ্দিন শাকিল, ইমরান হোসেন মামুন, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন্নাহার মনি, শাহাদাত হোসেন শামীম।

advertisement
Evaly
advertisement