advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

টাঙ্গাইলে মুহূর্তেই বিলীন ২৯ বাড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক কুড়িগ্রাম গাইবান্ধা ও টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
৭ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৭ জুলাই ২০২০ ০১:০৯
advertisement

কুড়িগ্রামে বিভিন্ন নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে গত নয় দিন পানিবন্দি আছে দেড় লাখ মানুষ। গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। এ ছাড়া টাঙ্গাইলে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। বাঁধ ভেঙে মুহূর্তেই বিলীন হয়ে গেছে ২৯টি বাড়ি। এদিকে বিভিন্ন এলাকার বানভাসি মানুষগুলো বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য, পয়োনিষ্কাশনের স্থান, গোখাদ্যসহ বিভিন্ন সংকটে ভুগছেন।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে, চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে, তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং ধরলা নদীর পানি সদর পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, পানি বেড়ে আবার কমে যাওয়ায় বাঁধের ১৯টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন এলাকাগুলোয় জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করা হয়েছে।

গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার সার্বিক বন্যা

পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। জেলার সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার চরাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী এলাকাগুলো ও চরাঞ্চলগুলোর মানুষ এখনো শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, জ্বালানি ও গোখাদ্যের সংকটে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বিশেষ করে বন্যায় কর্মহীন হওয়ার কারণে শ্রমজীবী মানুষগুলোর মধ্যে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সোমবার ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার এবং ঘাঘট নদীর পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার ২৬টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়ে পড়ায় ১ লাখ ২২ হাজার ৩২০ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া বন্যায় প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এতে চীনা বাদাম, আউশ ধান ও পাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে টাঙ্গাইলে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কিন্তু নদীভাঙন অব্যাহত আছে। সোমবার যমুনা নদীর পানি ১৮ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া ধলেশ^রী নদীর পানি ৭৯ এবং ঝিনাই নদীর পানি ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, তবে নদীর পানি আবার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব পাড়ে দ্বিতীয় গাইড বাঁধ ভেঙে শনিবার রাতে ২৩টি বাড়ি মুহূর্তেই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ওই পরিবারগুলোর সদস্যরা বসতবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্তরা আশ্রয় নিয়েছেন অন্যের বাড়িতে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বঙ্গবন্ধু সেতুর দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী এহসানুল কবির পাভেল ভাঙনের সত্যতা স্বীকার করেছেন। ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় এমপি হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম, কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা নিপা, সহকারী কমিশনার ভূমি শাহরিয়ার রহমান প্রমুখ। তারা তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের ২ হাজার করে টাকা এবং ২০ কেজি করে চাল বিতরণ করেন। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে বাঁধ মেরামতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

ভাঙনের শিকার যমুনাতীরবর্তী বেলটিয়া গ্রামের নুরুল ইসলাম, ছামাদ, হযরত আলীসহ অনেকে আক্ষেপ নিয়ে বলেন, নদীতে আমাদের সব কিছু শেষ হয়ে গেছে। আমরা নামমাত্র ত্রাণ চাই না। নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ চাই। ক্ষতিগ্রস্তরা বলেন, বছরের পর বছর আমাদের বসতবাড়ি নদীর পেটে চলে যাচ্ছে। আমরা সহায়সম্বল হারিয়ে একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি। অনেকে ৮ থেকে ১০ বার পর্যন্তও নতুন বাড়ি বানিয়েছেন।

এ ছাড়া ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল সদর ও নাগরপুর উপজেলাও নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনকবলিতদের অভিযোগÑ সরকারি ত্রাণ সহযোগিতা অনেকেই পায়নি কিংবা পেলেও চাহিদার তুলনায় সেগুলো অপ্রতুল।

টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ত্রাণ শাখা আমাদের সময়কে জানায়, জেলার ৬টি উপজেলায় বন্যার কড়াল থাবা পড়েছে। এর মধ্যে গোপালপুর উপজেলার ৩টি, ভূঞাপুরের ৪টি, কালিহাতীর ৪টি, টাঙ্গাইল সদরের ৫টি, নাগরপুরের ৫টি ও দেলদুয়ারের ৩টি সহ মোট ২৪টি ইউনিয়ন এবং এলেঙ্গা পৌরসভা বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ১৩৭টি গ্রামের ২৬,৯২২টি পরিবার এবং ১,২৯,১২১ জন ব্যক্তি বন্যায় ক্ষতির শিকার হয়েছে। ৫৭২টি বাড়ি নদীতে একেবারে বিলীন এবং ১০৬৫টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নাগরপুরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পূর্ণ নদীতে চলে গেছে। ৫০ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা এবং ৭ কিলোমিটার পাকা সড়ক, ৩টি কালভার্ট এবং ২.৫ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, জেলায় ৩৬৮৬ হেক্টর, এ ছাড়া ৩,০৮৬ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

advertisement
Evaly
advertisement