advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ভার্চুয়ালিই হতে পারে বিচার

রহমান জাহিদ
৭ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৭ জুলাই ২০২০ ০১:০৯
advertisement

বহুল আলোচিত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বী হত্যার মামলায় অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন কাজলকে প্রধান করে তিন সদস্যের প্রসিকিউটর প্যানেল নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে গত ২ জুলাই চিঠি ইস্যু করেছেন আইন মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব (পিপি/জিপি) মো. আব্দুস সালাম ম-ল। এদিকে মহামারী করোনা ভাইরাস দ্রুতই নিয়ন্ত্রণে না এলে ভার্চুয়ালিই বিচার শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিফ স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর কাজল।

প্রসিকিউটর নিয়োগের চিঠিতে বলা হয়েছে, আবরার ফাহাদ রাব্বী হত্যা মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় সেটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য জনস্বার্থে অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন কাজলকে চিফ স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর এবং অ্যাডভোকেট এহসানুল হক সমাজী ও অ্যাডভোকেট মো. আবু আব্দুল্লাহ ভূঁইয়াকে স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দেওয়া হলো। তারা বিধি মোতাবেক ভাতা-সম্মানী পাবেন।

ছেলে হত্যার দ্রুত বিচার চেয়ে আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বলেন, ‘নয় মাস পার হয়ে গেছে। এখন যদি বিচার শুরুর সুযোগ থাকে তবে তাড়াতাড়ি করুক। তবে সমস্যা হলোÑ মামলার

অধিকাংশ সাক্ষীই ছাত্র, তারা এর মধ্যে কীভাবে আদালতে আসবে? যদি তাদের (সাক্ষী) এখন আনা সম্ভব না হয়, তবে সাক্ষীর আগে অন্যান্য কার্যক্রম তো শুরু হতে পারে। মৃত্যুর আগে আমি ছেলে হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই।’

বিচার শুরুর বিষয়ে প্রসিকিউটর কাজল বলেন, ‘করোনার জন্য দীর্ঘদিন সব কিছু থেমে থাকবে না। কোরবানির ঈদের পরও যদি ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে যায়, তবে ভার্চুয়ালিই এ মামলার বিচার শুরু হতে পারে। আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। সরকার এর মধ্যে ভার্চুয়ালি বিচারের আইনও করে ফেলেছে। তাই এখন আসামিদের কারাগারে রেখেই বিচার শুরুর আইনগত আর কোনো বাধাও নেই।’

চিফ প্রসিকিউটর মোশারফ হোসেন কাজল পিলখানা হত্যা মামলা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার প্রসিকিউটর ছিলেন। এ ছাড়া তিনি দুদকের পক্ষে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা হওয়া জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেল মামলারও প্রসিকিউটর ছিলেন। এ ছাড়া তিনি নাইকো ও গ্যাটকোসহ বিচারাধীন অন্যান্য দুর্নীতির মামলারও দুদকের পক্ষের প্রসিকিউটর। অন্যদিকে নিয়োগ পাওয়া প্রসিকিউটর সমাজী বিগত তত্ত্বাবাধায়ক সরকারের সময় ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ছিলেন। আর প্রসিকিউটর আবু আব্দুল্লাহ ভূঁইয়া আবরার হত্যা বিচারের জন্য আসা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ১-এর স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর।

বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) ছাত্র ছিলেন আবরার। থাকতেন বুয়েটের শেরেবাংলা হলের নিচতলার ১০১১ নম্বর কক্ষে। গত বছরের ৬ অক্টোবর একই হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। ওইদিন রাত ৩টার দিকে হল থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যাক-ের পর তার বাবা বরকত উল্লাহ ১৯ জনকে আসামি করে ওই বছরের ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। গত ১৩ নভেম্বর ডিবি পুলিশের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. ওয়াহিদুজ্জামান ২৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত সেই চার্জশিট আমলে নেন গেল ২১ জানুয়ারি। এর পর গত এপ্রিলে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ১-এ আসে এবং ৬ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালে শুনানির প্রথম তারিখ ঠিক হয়। কিন্তু তার আগে করোনা ভাইরাসের হানায় আদালতের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ায় বিচার শুরু হতে পারেনি।

আবরার হত্যা মামলায় বর্তমানে ২২ আসামি কারাগারে রয়েছেন। এরা হলেনÑ বুয়েট ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. অনিক সরকার, উপ-সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক ইফতি মোশাররেফ সকাল, ক্রীড়া সম্পাদক মো. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, মো. মনিরুজ্জামান মনির, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর, শিক্ষার্থী মো. মুজাহিদুর রহমান ও এএসএম নাজমুস সাদাত, বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহতামিম ফুয়াদ, কর্মী মুনতাসির আল জেমি, গ্রন্থ ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ইসাতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, শিক্ষার্থী আবরারের রুমমেট মিজানুর রহমান, শিক্ষার্থী শাসছুল আরেফিন রাফাত, বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৬তম ব্যাচের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আকাশ হোসেন, শিক্ষার্থী মো. মাজেদুর রহমান মাজেদ, শামীম বিল্লাহ, হোসেন মোহাম্মাদ তোহা, মুয়াজ ওরফে আবু হুরায়রা, বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের ছাত্র মোর্শেদ অমত্য ইসলাম ও এসএম মাহমুদ সেতু। এদের মধ্যে প্রথম আটজন আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। অপর ৩ আসামি বুয়েটের ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স বিভাগের ১৭তম ব্যাচের ছাত্র মুহাম্মাদ মোর্শেদ-উজ-জামান মন্ডল ওরফে জিসান, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারং বিভাগের একই ব্যাচের এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারং বিভাগের ১৬তম ব্যাচের মুজতবা রাফিদ পলাতক।

advertisement
Evaly
advertisement