advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মাঠে একাই আ.লীগের প্রার্থী বর্জনের ঘোষণা বিএনপির

প্রদীপ মোহন্ত বগুড়া
৭ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৭ জুলাই ২০২০ ০১:০৯
advertisement

আগামী ১৪ জুলাই বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) শূন্য আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হবে। ঘোষণার পর থেকেই করোনার ঝুঁকি মাথায় নিয়ে প্রচারে নেমেছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সাহাদারা মান্নান শিল্পী। তবে বিএনপি এবং অন্য স্বতন্ত্র চার প্রার্থীর কেউ-ই মাঠে নেই। যদিও এরই মধ্যে বিএনপি ঘোষণা দিয়েছে তারা করোনা আর বন্যার কারণে নির্বাচনে অংশ নেবে না।

নির্বাচন কমিশন ১৪ জুলাই ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত জানানোর পর পরই রবিবার থেকে নৌকায় ভোট চেয়ে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাহাদারা মান্নান ও তার সমর্থকরা।

সাহাদারা মান্নান গতকাল সোমবার সোনাতলা উপজেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। এর আগে রবিবার চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নের একাধিক স্থানে গণসংযোগ করেন। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

সাহাদারা মান্নান বলেন, ছয় মাস ধরে এলাকায় নির্বাচিত সাংসদ নেই। উন্নয়ন কর্মকা- স্থবির হয়ে রয়েছে। লোকজন তাদের চাওয়া, দাবির কথা কাউকে জানাতে পারছেন না। স্থগিত ভোটগ্রহণের ঘোষণায় উচ্ছ্বসিত ভোটাররা। তারা নির্বাচিত সাংসদ চান। বন্যা-নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াইয়ে অভ্যস্ত মানুষ। করোনা-বন্যায় ভোটের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। ভোটার উপস্থিতি আশাতীত হবে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী ইয়াসির রহমতুল্লাহ ইন্তাজ বলেন, সরকারের যে কোনো আইন-সংবিধান জনগণের কল্যাণের জন্য। আমি শুধু প্রার্থী না, দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আইন-সংবিধানের প্রতি আস্থা রেখে ভোটের মাঠে থাকব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুই-একদিনের মধ্যে প্রচারে নামব।

তবে মাঠে নেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আহসানুল তৈয়ব জাকির। তিনি বলেন, করোনা মহামারী আর বন্যার দুর্ভোগে মানুষের মধ্যে ভোটের নামে প্রহসনের প্রস্তুতি চলছে। নির্বাচনী এলাকার অর্ধলক্ষাধিক মানুষ বন্যায় দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। দুর্গত এলাকায় ত্রাণ নেই। আশ্রয়হীন মানুষ খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন। দুই উপজেলায় দেড় শতাধিক মানুষ করোনায় সংক্রমিত। করোনা ও বন্যায় বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

আহসানুল তৈয়ব আরও বলেন, দুই উপজেলার ৯ ইউনিয়নের ৭০-৮০টি গ্রামের ৬০-৭০ হাজার মানুষ পানিবন্দি। অনেক ভোটকেন্দ্র জলমগ্ন রয়েছে। এ রকম একটি অবস্থার মধ্যে মানুষের কাছে ভোট চাইতে যাওয়া বিব্রতকর।

তবে আওয়ামী লীগের বেশ কজন নেতাকর্মী বলেন, করোনার ঝুঁকি ও বন্যা দুর্ভোগের

মধ্যে ভোট নেওয়া হলে কেউ ভোট দিতে যাবেন বলে মনে হয় না। তখন কেন্দ্রে ভোটার নয়, শুধু ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা থাকবেন। ভোটার পাওয়া যাবে না।

সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল মিয়া জানান, ইসির সিদ্ধান্ত মোতাবেক উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণের জন্য প্রস্তুত তারা। তবে চকরতিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রোহদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নিজামউদ্দিন উচ্চবিদ্যালয় ও ঘুঘুমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখনো জলমগ্ন। আবার দলিকারচর, শিমুলতাইড়, বিরামের পাঁচগাছি ও আউচারপাড়া চরও জলমগ্ন। এসব চরে ভোটকেন্দ্র রয়েছে। তিনি বলেন, বন্যার উন্নতি হচ্ছে। নতুন করে অবনতি না হলে ১৪ জুলাই ভোটগ্রহণে তেমন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে আরেক দফা বন্যা হলে এসব কেন্দ্র পার্শ্ববর্তী সুবিধামতো জায়গায় স্থানান্তর করতে হবে।

সোনাতলা উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এসএম জাকির হোসেন বলেন, তার উপজেলায় যমুনার চরাঞ্চলের মহেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তেকানিচুকাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যায় প্লাবিত হয়েছে।

বগুড়া-৬ আসনের সাংসদ ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মো. সিরাজ বলেন, বগুড়া-১ আসনের উপনির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ও বন্যায় মানুষের দুর্ভোগ উপেক্ষা করে ভোটগ্রহণের আয়োজন করায় এ উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জিএম সিরাজ আরও বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও বন্যায় দুর্ভোগে জাতীয় সংকটের এমন সময়ে উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণের নামে ভোটারবিহীন কেন্দ্রে ব্যালট কেটে বাক্স ভরানোর অশুভ ফন্দি করা হচ্ছে।

advertisement
Evaly
advertisement