advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

লোকসানের আশঙ্কায় সৈয়দপুরের খামারিরা

গোপাল চন্দ্র রায় সৈয়দপুর
৮ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৭ জুলাই ২০২০ ২৩:৩০
advertisement

পবিত্র ঈদুল আজহা আসন্ন। কিন্তু এখন পর্যন্ত গবাদিপশুর পাইকারদের পদধূলি পড়েনি নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার খামারগুলোয়। ফলে কাক্সিক্ষত দাম পাওয়া তো দূরের কথা, বরং লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন খামারিরা। ঈদুল আজহা যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে তাদের দুশ্চিন্তা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবারে উপজেলায় ৭৬টি খামারে ৯ হাজার ১৯০টি গবাদিপশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ হাজার ৫৯৬টি গরু এবং ২ হাজার ৫৯৪টি ভেড়া ও ছাগল। সৈয়দপুরের বেশ কয়েক জন খামার মালিক জানান, মূলত কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে লাভের আশায় তারা সারাবছর গরু-ছাগল লালনপালনে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে থাকেন। কিন্তু এবার করোনার কারণে এখন পর্যন্ত খামারে কোনো পাইকারের পদধূলি পড়েনি। অথচ অন্য বছরগুলোয় রোজার ঈদের পর পরই ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গবাদিপশুর পাইকাররা এসে চুক্তিবদ্ধ হয়ে টাকা বায়না দিয়ে যেতেন।

দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর ধরে গরুর খামারের সফল ব্যবসায়ী সৈয়দপুর শহরের বাঁশবাড়ী মহল্লার মেসার্স ইউসুফ ডেইরি ফার্মের মালিক হাজী মো. জামিল আখতার মিন্টু বলেন, এবার তার খামারে কোরবানির জন্য ১৫০টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। গরুর গঠন অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। তিনি বলেন, প্রতিবছরই রোজার ঈদের পরই বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা খামারে এসে গরু কিনতেন। কিন্তু এবার এখন পর্যন্ত কেউ যোগাযোগ করেনি। ফলে কিছুটা শঙ্কায় আছি।

উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের আদানী মোড়ের রাদিয়া ট্রেডার্স খামারির মালিক মোছা. আফসানা ও সবুজ বাংলা খামারের মালিক আরজিনা বেগম জানান, তারা ব্যাংক ঋণ নিয়ে ১৮-২০টি গরু সারাবছর ধরে লালনপালন করছেন। এতে তাদের অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু তাদের খামারেও এখন পর্যন্ত কোনো পাইকার আসেনি। ফলে করোনার বর্তমান পরিস্থিতিতে হাটবাজারে ক্রেতা মিলবে কিনা এবং মিললেও সঠিক দাম পাওয়া যাবে কিনা এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

সৈয়দপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাহেদুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, করোনার কারণে খামারিদের মাঝে কিছুটা হলেও ভীতি সঞ্চার হয়েছে। তবে এখনো গরু-ছাগল বিক্রির প্রচুর সময় আছে। খামারিরা যাতে হাটবাজারে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে গরু-ছাগল বিক্রি করতে পারে এবং হয়রানির শিকার না হয়, এ জন্য প্রশাসনের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

advertisement