advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

করোনাকালে চার্জ আদায়ে অটল টেকনাফ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ

আব্দুল্লাহ মনির টেকনাফ
৮ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৭ জুলাই ২০২০ ২৩:৩০
advertisement

করোনার প্রভাবে দুই মাস ধরে কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরে মিয়ানমার থেকে আমদানিকৃত বিপুল পরিমাণ কাঠ পড়ে আছে। লকডাউনের কারণে এসব কাঠ খালাস করতে না পারায় বন্দরে লেগেছে কাঠের জট। এ অবস্থায় কাঠ আমদানিকারকরা পড়েছেন নতুন সমস্যায়। বন্দর কর্তৃপক্ষ এসব কাঠ খালাস করতে আমদানিকারকদের কাছে চার্জ আদায়ে অটল রয়েছে। ব্যবসায়ীরা চাচ্ছেন, চার্জ মওকুফ এবং কাঠ খালাস করতে। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর তারা আবেদন করেছেন। কিন্তু এখনো এ ব্যাপারে কোনো সুরাহা হয়নি। এ নিয়ে ব্যবসায়ীরা পড়েছেন দুশ্চিন্তায়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার গত ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ গত দুই মাসের পণ্য খালাস চার্জ মওকুফ করে। চট্টগ্রাম বন্দর সরকারের নির্দেশনায় ৫ এপ্রিল এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এতে বলা হয়, করোনার বিস্তার ও সংক্রমণ প্রতিরোধে সাধারণ ছুটি ঘোষণার সময়ে বন্দরে কনটেইনারবাহী যেসব জাহাজ আসছে এবং আসবে, সেসব কনটেইনার ছুটির সময়ে খালাস করা হলে তার বিপরীতে শতভাগ চার্জ মওকুফ করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে এমন নির্দেশনা থাকলেও তা অমান্য করে টেকনাফ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে শতভাগ চার্জ আদায়ে অটল। এ অবস্থায় টেকনাফ স্থলবন্দর ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট চেয়ারম্যান বরাবর আমদানিকৃত কাঠ খালাস চার্জ মওকুফ চেয়ে ৭ জুন একটি আবেদন করে টেকনাফ স্থলবন্দর সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন। বিষয়টির এখনো সুরাহা না হওয়ায় চিন্তিত ব্যবসায়ীরা।

এ প্রসঙ্গে টেকনাফ স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল হক বাহাদুর বলেন, করোনা রোধে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণায় গত দুই মাস লকডাউনে থাকতে হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা কোনো কাঠ খালাস কিংবা সরবরাহ করতে পারেনি। তার মাঝে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ কাঠ খালাসে গত দুই মাসের অতিরিক্ত চার্জ আদায়ে অটল। ফলে একেকজন ব্যবসায়ীকে লাখ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যদি বৃহত্তম চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সেখানকার ব্যবসায়ীদের স্বার্থে চার্জ মওকুফ করতে পারে, তা হলে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ কেন পারবেন না? আমরা চার্জ মওকুফ চেয়ে আবেদনও করেছি। কিন্তু তার এখন পর্যন্ত সুরাহা হয়নি। এভাবে চলতে থাকলে কাঠ ব্যবসা অচল হয়ে পড়বে। ফলে সরকার কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হবে।

স্থলবন্দর সূত্রে জানা যায়, মিয়ানমার থেকে আমদানি করা অর্ধলাখ পিস বিভিন্ন প্রকারের কাঠ টেকনাফ স্থলবন্দরে পড়ে আছে। এসব কাঠ দেখভাল করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। কাঠগুলো লকডাউনের কারণে সরবরাহ দিতে পারেনি ব্যবসায়ীরা। বন্দর কর্তৃপক্ষ এসব কাঠ থেকে অতিরিক্ত চার্জ আদায় করা হচ্ছে না। করোনার আগে যে পরিমাণ চার্জ আদায় করা হতো, তা নেওয়া হচ্ছে। তবে মিয়ানমার কাঠ রপ্তানি না করলেও সেখান থেকে কোটি টাকার কাঠ টেকনাফ স্থলবন্দরে আসছে। তার বিপরীতে সরকারও রাজস্ব পাচ্ছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ স্থলবন্দর ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন চৌধুরী বলেন, কাঠ থেকে অতিরিক্ত চার্জ আদায়ের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা আগের নিয়মে চার্জ নিচ্ছি। এ ব্যাপারে সরকারের নির্দেশনার কোনো চিঠি এবং চট্টগ্রাম বন্দরের চার্জ মওকুফের বিষয়ে অবগত নই।

তিনি আরও বলেন, তবে টেকনাফ বন্দর সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে কাঠের চার্জ মওকুফের আবেদন পেয়েছি। সেটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি।

advertisement