advertisement
advertisement

বোরো ধানের ভালো দামে বেড়েছে আউশের আবাদ

উত্তম ঘোষ যশোর
৮ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৭ জুলাই ২০২০ ২৩:৩০
advertisement

আউশ ধানের চাষের দিকে ঝুঁকেছেন যশোরে চাষিরা। বোরো ধানের ভালো দাম পাওয়া ও সেচ সুবিধা পাওয়ার কারণে এবার কৃষকরা আউশ চাষের দিকে ঝুঁকেছেন। বোরো কাটার পরপরই অনেক কৃষক আউশ ধান রোপণ করেছেন। ফলে চলতি মৌসুমের যশোরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ হাজার ১৯১ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। এবার বোরোর ভালো দাম পাওয়ায় আউশ ধান উৎপাদনের উৎসাহ-উদ্দীপনা আরও বেড়ে গেছে চাষিদের।

কৃষি সম্প্রসরাণ অধিদপ্তরের যশোর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে যশোরের আউশ ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৪ হাজার ৮২৬ হেক্টর জমিতে। আবাদ হয়েছে ১৭ হাজার ১৫ হেক্টর জামিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ হাজার ১৯১ হেক্টর জমিতে আউশ ধানে আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে আবাদ হয়েছে যশোর সদরে ১ হাজার ৪৮০ হেক্টরে, চৌগাছা উপজেলায় ২ হাজার ৬০০ হেক্টরে, ঝিকরগাছা উপজেলায় ২ হাজার ৫০০ হেক্টরে, মনিরামপুর উপজেলায় ৪ হাজার ৪৮০ হেক্টরে, অভয়নগরের ৬৬৫ হেক্টরে, কেশবপুরে ৮০০ হেক্টরে, শার্শায় ৩হাজার ২৭০ হেক্টরে, বাঘারপাড়ায় ১ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে এবার আউশ ধানের আবাদ হয়েছে।

যশোর চৌগাছার হাকিমপুর গ্রামের চাষি আমির হামজা জানান, তিনি প্রতিবছর পাটের আবাদ করতেন। পাটের বাজার দর ভালো না পাওয়া এবং পাট পচানো পর্যাপ্ত পানি না থাকার কারণে পাটের পরিবর্তে এবার ৪ বিঘা জমিতে আউশ ধানের আবাদ করেছে। এই আবাদ বর্ষা মৌসুমে হওয়ায় তেমন পানির খরচ হয় না। তেমনি অল্প দিনের ফসল আউশ ধানের ফলন ভালো হওয়ায় এবং ধানের বাজার মূল্য বর্তমানে বেশি হওয়ায় তিনি এই আউশ ধানের আবাদ করেছেন।

যশোর সদরে চূড়ামনকাটি পুলতাডাঙ্গা মাঠে বোরো ধান কাটার পর পরই একই জমিতে ৩ বিঘা আউশ ধান চাষ করেছেন আমিন উদ্দিন। তিনি বলেন, এবার বোরো ধানের ভালো দাম পেয়েছি। তা ছাড়া এই ধানে সেচ খরচ নেই বললেই চলে। ওপরে বৃষ্টিতে প্রায় আবাদ হয়ে যায়। এতে খরচ অন্য ধান চাষের তুলনায় অনেক কম হয়।

মনিরামপুর উপজেলার রহিতা ইউনিয়নের কৃষক আলতাপ হোসেন জানান, এ বছর সাড়ে তিন বিঘা জমিতে আউশ ধান রোপণ করেছি। আউশ ধান আবাদে উৎপাদন খরচ কম। পানি সেচ দেওয়ার দরকার হয় না। সেই সাথে কীটনাশক ও স্যার প্রয়োগ করতে হয় সীমিত। তা ছাড়া এবার বোরো ধানের ভালো দাম পেয়ে আউশ ধান উৎপাদনের উৎসাহ-উদ্দীপনা আরও বেড়ে গেছে। ধানের দাম এভাবে থাকলে আগামী বছর আরও বেশি করে চাষ করবেন বলে জানান তিনি।

কৃষি সম্প্রসরাণ অধিদপ্তরের যশোর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ড. আকতারুজ্জামান বলেন, অল্প সময়ের আবাদ উৎপাদন খরচ অন্যান্য ধান আবাদের থেকে কম। সেই সাথে ফলন ও ভালো পাওয়ায় চাষিরা এই আউশ ধানের আবাদের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। তা ছাড়া এবার বোরো ধানের ভালো দাম পাওয়ায় জেলায় আউশ ধানে আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে চলতি মৌসুমের যশোরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ হাজার ১৯১ হেক্টর জমিতে আউশ দানে আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে ও বৈশ্বিক খাদ্য সংকটের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে অনেকটা সাহায্য করবে বলে মনে করেন তিনি।

advertisement
Evaly
advertisement