advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কমলগঞ্জে খাসিয়াদের বিদ্যুৎ পেতে বাধা বন বিভাগ

শাব্বির এলাহী কমলগঞ্জ
৮ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৭ জুলাই ২০২০ ২৩:৩০
advertisement

বন বিভাগের বাধায় বিদ্যুৎ পাচ্ছে না মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার খাসিয়া অধিবাসীসহ কয়েকশ পরিবার। দাবি আদায়ে তারা মানববন্ধনও করেছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জাতীয়ভাবে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা করেছিলেন। তবে বন বিভাগের বাধার কারণে শতভাগ বিদ্যুতের আওতাভুক্ত হতে পারেনি এ উপজেলার আদমপুর বনবিট এলাকার কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জি ও পুঞ্জির বাইরের কালেঞ্জি গ্রাম।

খাসিয়া হেডম্যান রিটেংগেন খেরিয়াম বলেন, বিদ্যুৎ ও রাস্তাঘাটের সমস্যার কারণে আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পাশের লাউয়াছড়া ও মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও বন বিভাগ অহেতুক কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জিতে বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপনে বাধা দিয়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলাকে সরকারিভাবে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দিলেও কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জি ও তৎসংলগ্ন গ্রাম বিদ্যুতায়নের বাইরে রয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর আবারও বন বিভাগ জরিপ কাজ করে। এ জরিপ কাজ শেষে গত শনিবার (৪ জুলাই) সকাল থেকে আবারও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কালেঞ্জি পুঞ্জিতে নতুন করে বিদ্যুতায়নের কাজ শুরু করে। আর তখনো বন বিভাগের লোকজন এ কাজে বাধা সৃষ্টি করে।

সহকারী হেডম্যান উয়াংবর সুটিং, সাবেক হেডম্যান নাইট খেরিয়েম, কালেঞ্জি গ্রামের বাসিন্দা মোবারক আলী ও আবদুল কাইয়ুম জানান, সম্প্রতি কমলগঞ্জ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত ঘোষণা করা হলেও আমরা কয়েকশ পরিবারের সদস্যরা বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তারা অতি শিগগির তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার দাবি জানান। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে হবে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন তারা।

জানা যায়, বন বিভাগের আপত্তির কারণে এ দুটি গ্রামে বিদ্যুতায়ন না হওয়ায় পুঞ্জির নারী ও পুরুষ সদস্যরা টিলার নিচের কূপ থেকে পানি সংগ্রহ করে টিলার ওপরে তুলে নিয়ে আসেন। বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত হলে বৈদ্যুতিক পাম্প বসিয়ে নিচ থেকে টিলার ওপরে ঘরে ঘরে পানি তোলা যেত। কালেঞ্জি গ্রাম ও পুঞ্জির অনেক শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজে লেখাপড়া করে। বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের লেখাপড়ায় ব্যাঘাত ঘটছে।

আদমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জি ও তার পাশের গ্রাম বিদ্যুতায়নের আওতায় আসতে হবে। গত মার্চ মাসে বন বিভাগ সর্বশেষ সরেজমিন তদন্ত করেছে। সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিভাগ আবার কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জি ও কলেঞ্জি গ্রামে বিদ্যুতায়নের কাজ শুরু করলে বন বিভাগ বাধা সৃষ্টি করে। তিনি আরও বলেন, বনাঞ্চলে অন্যান্য খাসিয়া পুঞ্জিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও কেন বন বিভাগ কালেঞ্জি পুঞ্জিতে বাধা সৃষ্টি করছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

আদমপুর বনবিট কর্মকর্তা শ্যামল রায় বলেন, কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জি ও গ্রামে বিদ্যুতায়নের জন্য ইতোপূর্বে বন বিভাগ একটি জরিপ সম্পন্ন করলেও বিদ্যুতায়ন কাজ শুরু করা সম্পর্কে তার কাছে বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি। তাই তিনি আপাতত কাজটি বন্ধ রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগকে বলেছেন।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় কমলগঞ্জে শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিত হলেও কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জি ও একটি গ্রাম বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছে। বন বিভাগের বাধার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কমলগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডিজিএম প্রকৌশলী গণেশ চন্দ্র দাশ বলেন, কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জি ও কালেঞ্জি গ্রামকে বিদ্যুতায়নের আওতায় আনতে কাজ শুরু হয়েছিল। ঠিকাদারের লোকজন খাসিয়া পুঞ্জি এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটিও এনে রাখে। শুধু বন বিভাগের আপত্তির কারণে এ দুটি গ্রামকে এখনো বিদ্যুতায়নের আওতায় আনা যায়নি। এ নিয়ে মাসতিনেক আগে বন বিভাগ জরুরিভাবে জরিপও করেছে। তা হলে কেন তারা এখন বাধা প্রত্যাহার করছে না, তা বোঝা যাচ্ছে না। শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতেই শনিবার থেকে আবারও ঠিকাদারের লোকজন বিদ্যুতায়নের কাজ শুরু করলে বন বিভাগের লোকজন বাধা দেয় বলে জানান তিনি।

advertisement