advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বরিশালে ট্রলার ছিনতাইয়ের জন্যই পিতা-পুত্রকে খুন

বরিশাল প্রতিনিধি
৮ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৭ জুলাই ২০২০ ২৩:৩০
advertisement

বাকেরগঞ্জে চাঁই ব্যবসায়ী পিতা-পুত্র খুনের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি নিহতদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ট্রলার, মোবাইল সেটসহ বেশকিছু আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে। মূলত ট্রলার ছিনতাইয়ের জন্য পিতা-পুত্রকে খুন করেছে গ্রেপ্তারকৃতরা। তারা হচ্ছেÑ বাকেরগঞ্জের দুবারচর এলাকার মৃত জয়নাল হাওলাদারের ছেলে মো. বাদশা হাওলাদার, গোমা এলাকার সবুজ খাঁর ছেলে শাহীন খাঁ ও একই এলাকার আমির হোসেন হাওলাদারের ছেলে সানি হাওলাদার। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বরিশাল জেলা পুলিশ লাইন্সের ইন সার্ভিস সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নাঈমুল হক, আনোয়ার সাঈদ ও ফরহাদ সরদার উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সুপার জানান, গত ৩ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরলক্ষ্মীপাশা এলাকার একটি বাগানের ঝোঁপ থেকে অজ্ঞাত ২০ থেকে ২২ বছরের যুবকের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। পর দিন ৪ জুলাই সকাল ৮টার দিকে একই এলাকার নদীর পাড়ে ভাসমান অবস্থায় ৫৫ বছরের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তাদের পরিচয় অজ্ঞাত থাকলেও পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, লাশ দুটি পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার কলার দোয়ানিয়া এলাকার মো. হেলাল উদ্দিন ও তার ছেলে ইয়াসিন হাওলাদারের।

এসপি জানান, নিহত বাবা-ছেলে উভয়ে মাছ ধরার চাঁই (ফাঁদ) তৈরি করে বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করতেন। গ্রেপ্তারকৃতরা তাদের হত্যা করে আনুমানিক ৪ লাখ টাকা মূল্যের মায়ের পরশ নামের একটি ট্রলার, নগদ টাকা, নিহত হেলালের ব্যবহৃত একটি মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে জেলা পুলিশের তথ্যপ্রযুক্তির একটি টিম মোবাইল ফোনের সূত্রধরে ঘাতকদের অবস্থান নিশ্চিত করে এবং ঢাকা জেলা পুলিশের সহায়তায় সোমবার (৬ জুলাই) ঢাকার সদরঘাটের তেলঘাট এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানায়, তারা হত্যাকা-ের ৪/৫ দিন আগে থেকেই ভিকটিমদের ওপর নজর রাখছিল। ঘটনার দিন ৬০টি মাছ ধরার ফাঁদ (চাঁই) কেনার কথা বলে এবং চাঁইগুলো তাদের এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করে। পূর্ব থেকেই পরিকল্পনামাফিক বাদশা, শাহীন এবং সানি তাদের ট্রলারে ওঠে এবং চরলক্ষ্মীপাশা নামক স্থানে ট্রলার থামিয়ে চাঁইগুলো নামাতে বলে। ভিকটিম ইয়াসিনকে টাকা দেওয়ার কথা বলে ট্রলার থেকে নামিয়ে একটু দূরে বাগানের দিকে নিয়ে যায় সানি ও শাহীন। এ সময় পেছন থেকে গিয়ে ছুরি চালিয়ে ইয়াসিনের গলা কাটে বাদশা। এ সময় সানি ও শাহীন তার দুই পা চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরবর্তীতে ঘাটে এসে ভিকটিম হেলালকে শাহিন ধাক্কা দিয়ে পানিতে ফেলে দেয় এবং মূল হোতা বাদশা তার পেটের দুই পাশে ছুরি বসিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পানিতে ডুবিয়ে দেয়। এর পর তিন ঘাতক ভিকটিমদের কাছে থাকা সাড়ে ৩ হাজার টাকা, ১টি মোবাইল সেট, ট্রলার ও পরিধেয় কাপড়-চোপড় নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। পরে ট্রলারটি প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকায় বিক্রির সময় আটক হয়।

উল্লেখ্য, পিতা-পুত্র হত্যার ঘটনায় গত ৪ জুলাই অজ্ঞাত আসামি করে হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী নাছিমা বেগম বাকেরগঞ্জ থানায় হত্যামামলা দায়ের করেন।

advertisement