advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার রাস্তাগুলো বেহাল

ডাবলু কুমার ঘোষ চাঁপাইনবাবগঞ্জ
৮ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৭ জুলাই ২০২০ ২৩:৩০
advertisement

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার ক্লাব সুপার মার্কেট, নয়াগোলা, নামোশঙ্করবাটি ও পাইকরতলা রাস্তায় বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতায় অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে বেহাল হয়েছে। এর পরও ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত চলছে বিভিন্ন যানবাহন। ফলে ছোট-খাটো দুর্ঘটনা ঘটলেও পৌর কর্র্তৃপক্ষ রয়েছে উদাসীন। বছরের পর বছর ধরে রাস্তা মেরামত বা সংস্কার করা হচ্ছে না।

জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা থেকে মাত্র কয়েকশ গজ দূরেই শহরের প্রাণকেন্দ্র ক্লাব সুপার মার্কেট এলাকার রাস্তার পিচ ও স্তর উঠে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়লেও টনক নড়ছে না পৌর কর্তৃপক্ষের। অন্যদিকে গোমস্তাপুর যাওয়ার আঞ্চলিক সড়ক শহরের উপকণ্ঠ নয়াগোলা মোড়ের অংশটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলেই জমে যায় হাঁটু পানি। বর্ষা মৌসুমে এ দৃশ্য নিত্যদিনের।

খানা-খন্দগুলো খোয়া ও বালু দিয়ে ভরাট করলেও বৃষ্টির পানিতে তা কর্দমাক্ত হয়ে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়ছে  পথচারীসহ বিভিন্ন যানবাহন। এ ছাড়াও দোকানের সামনে পানির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টিতে তারা ব্যবসা করতে পারেন না। এলাকার দোকানি মো. আলম জানান, এ রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অবগত করলেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এলাকাবাসীর মতে সড়কটি প্রশস্ত করা খুবই জরুরি।

কয়েক ট্রাকচালক ও রিকশাযাত্রী বলেন, এ সড়ক দিয়ে গোমস্তাপুর এবং ভোলাহাট যেতে হয়, ফলে এ সড়কের ওপর চাপটা বেশি। এ সড়কে রয়েছে পুলিশ লাইন ও বিসিক শিল্পনগরী। সড়কটি সংকীর্ণ হয়ে পড়ায় পুরোপুরি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কটিতে প্রতিদিন পণ্যবাহী ট্রাক, অটোরিকশা ও রিকশা চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে।  এ সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি প্রশস্ত করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে নামোশঙ্করবাটি চৌমহনী ও চাঁদলাই-পাইকরতলা এলাকার রাস্তাটি আগে থেকেই কোথাও ছোট গর্ত, কোথাও বড় গর্তের সৃষ্টি এবং বৃষ্টি হলেই হাঁটুপানি জমে যাওয়ায় চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া এলাকায় নতুন অনেক বাড়িঘর নির্মাণ করায় রাস্তাটি অনেক নিচু হয়ে গেছে। এমনকি ওইসব বাড়ির নোংরা আবর্জনা রাস্তায় এসে পড়ায় ড্রেনগুলোর পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে যে ড্রেনেজ ব্যবস্থা রয়েছে, সেটি আরও বড় আকারে করা এবং রাস্তাটিও উঁচু করা জরুরি বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। এবিষয়ে ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মমরেজুল আকতার জানান, চাঁদলাই-পাইকরতলা রাস্তাটি পুরোপুরি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলেই কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে এবং শুকনো মৌসুমেও খানাখন্দ থাকায় এ রাস্তা দিয়ে কোনো রিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করতে পারে না।

অন্যদিকে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের স্বরূপনগরের রাস্তা নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়ে। রাস্তাটিতে ইট শুরকি ফেলে উপযোগী করার চেষ্টা করা হলে হিতে বিপরীত হয়ে যায়।

স্থানীয় কাউন্সিলর মো. এনামুল হক জানান, রাস্তাটি ডুবে যাওয়ার কারণে রাবিশ ফেলা হয়েছিল। তবে ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, করোনা ও বৃষ্টির কারণে উন্নয়নকাজ ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া পৌরসভার অনেকাংশে আয় কমে গেছে। তিনি আরও বলেন, তৃতীয় নগরায়ন প্রকল্প ৩-এর আওতায় চাঁদলাই-পাইকরতলার শুধু ড্রেনেজ ব্যবস্থার অনুমোদন এবং নামোশঙ্করবাটি রাস্তার কাজ অনুমোদন হয়েছে। পাথর না পাওয়ার কারণে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। বর্ষা মৌসুম পার হলেই কাজ শুরু করা হবে।

advertisement