advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নগদ অর্থ সহায়তা প্রদানের কর্মসূচি
তালিকায় অর্ধেকেই অসঙ্গতি

চার উপায়ে তালিকা হালনাগাদের পরামর্শ অর্থ মন্ত্রণালয়ের

আবু আলী
৮ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৮ জুলাই ২০২০ ০৯:৫৫
advertisement

মুজিববর্ষে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লক্ষাধিক পরিবারের মধ্যে মোবাইল ব্যাংকিং পরিষেবার মাধ্যমে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদানের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে যে তালিকা তৈরি করা হয়, সেখানে অসঙ্গতি থাকায় ৪ লাখ ৯৩ হাজার ২০০ জনের তথ্য পুরোপুরি বাতিল করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তথ্যে অসঙ্গতি রয়েছে ২২ লাখ ৮৬ হাজার ৫২৮ জনের, যা সংশোধন করা হবে।

একই সঙ্গে উপকারভোগীকে নগদ সহায়তা প্রদানে নতুন করে তালিকা প্রস্তুত করতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের অফিসগুলোকে অনুরোধ জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি এ কর্মসূচি আরও স্বচ্ছ করতে ৪টি সুপারিশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। খবর অর্থ বিভাগ সূত্রের।

জানা গেছে, মোবাইল ব্যাংকিং পরিষেবার মাধ্যমে নগদ সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে অর্থ বিভাগ। এক্ষেত্রে বিভিন্ন তথ্য ভা-ারের তথ্যাদি নিরীক্ষায় বড় ধরনের অসঙ্গতি পায় অর্থ মন্ত্রণালয়। এ কারণে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ২০০ জনের তালিকা পুরোপুরি বাতিল করে দেওয়া হয়।

অর্থ বিভাগের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, অসঙ্গতির মধ্যে অন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থেকে সুবিধা পাওয়া ১ লাখ ৭ হাজার ৩৮৬ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ২ হাজার ৮৫৫ জন সরকারি কর্মচারীর নাম থাকায় তাদেরও বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পেশা হিসেবে বেদে, গৃহিণী, হিজড়া, পথশিশু, প্রতিবন্ধী, ইমাম, চা শ্রমিক, চা দোকানদার, ভিক্ষুক, ভবঘুরে, বেকার ইত্যাদি উল্লেখ ছিল ৭৯ হাজার ৬২১ জন, ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্রের মালিক ৫৫৭ জন এবং ৬ হাজার ৭৮৬ জন সরকারি পেনশনভোগীর নাম ছিল। এ ছাড়া একই ব্যক্তির একাধিকবার নাম এসেছে ২ লাখ ৯৫ হাজার ৯১৯ জনের। ফলে তাদের এ সুবিধা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ৮ লাখ ২৯ হাজার ৯৪৮ জনের জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্ট কার্ডের বিপরীতে নিবন্ধনকৃত মোবাইল নম্বর নেই। ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৫২৬ জনের জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্ট কার্ডের বিপরীতে নিবন্ধনকৃত মোবাইল নম্বরের মিল নেই। জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্ট কার্ডে রক্ষিত তথ্যের সঙ্গে মিল নেই ৭ লাখ ৯৮ হাজার ৬৭৭ জনের। সুনির্দিষ্ট পেশা উল্লেখ নেই ১৯ হাজার ১৮২ জনের। ১৯৫ জনের মোবাইল নম্বরের ডিজিট কম/বেশি দেওয়া হয়েছে। ফলে এ তালিকা পুনরায় প্রস্তুত করা হচ্ছে।

চার সুপারিশ

সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে অর্থ বিভাগ বলছে, মাঠ পর্যায় থেকে এসব অসঙ্গতি সংশোধন করা হলে সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা সম্ভব। এক্ষেত্রে চারটি সুপারিশ করা হয়েছে। এসব সুপারিশে বলা হয়েছেÑ উপকারভোগীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্ট কার্ডের বিপরীতে নিবন্ধনকৃত মোবাইল নম্বর যেটি তিনি ব্যবহার করছেন শুধু এমন মোবাইল নম্বর চিহ্নিত করতে হবে।

উপকারভোগীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্ট কার্ডের বিপরীতে নিবন্ধনকৃত মোবাইল নম্বর না থাকলে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে উপকারভোগীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্ট কার্ডের বিপরীতে ১০ টাকায় আমানত সংবলিত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা; উপকারভোগীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্ট কার্ডের বিপরীতে নিবন্ধনকৃত মোবাইল নম্বরটি ১১ ডিজিট সঠিক ফরমেটে লিপিবদ্ধকরণ এবং উপকারভোগীর পেশা সুনির্দিষ্টভাবে লিপিবদ্ধকরণ প্রভৃতি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, আমাদের পরামর্শ মোতাবেক উপকারভোগীর তালিকাটি হালনাগাদ করা হলে তার আলোকে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

advertisement
Evaly
advertisement