advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বাড়িতে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি

বান্দরবানে এমএন লারমা গ্রুপের ৬ জনকে হত্যা

এন এ জাকির, বান্দরবান
৮ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৮ জুলাই ২০২০ ০২:০৯
advertisement

বান্দরবানে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সংস্কারপন্থি এমএন লারমা গ্রুপের জেলা সভাপতির বাড়িতে ঢুকে ব্রাশফায়ারে তাকেসহ ছয়জনকে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে সদর উপজেলার রাজবিলা ইউনিয়নের বাঘমারা এলাকায় এ হত্যাকা- ঘটে।

নিহতরা হলেনÑ সংগঠনের বান্দরবান জেলার সভাপতি রতন তংচঙ্গ্যা, কেন্দ্রীয় সহসভাপতি প্রজিত চাকমা, সদস্য ডেবিড মার্মা, মিলন চাকমা, জয় ত্রিপুরা ও দিপেন ত্রিপুরা। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন আরও তিনজন। আহতরা হলেন বিদ্যুৎ ত্রিপুরা, নিরু চাকমা ও মেমানু মারমা।

বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, গোলাগুলিতে জেএসএস সংস্কারপন্থি এমএন লারমা গ্রুপের ছয়জন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ হত্যাকা- ঘটানো হয়েছে। হতাহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ও সেনাসদস্যরা ঘটনাস্থলে অভিযান চালাচ্ছেন। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

জানা গেছে, পাহাড়ে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জেএসএসের মূল দল ও সংস্কারপন্থি এমএন লারমা গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। মঙ্গলবার ভোরে বাঘমারা এলাকার ভেতরের একটি পাড়ায় সংস্কারপন্থি এমএন লারমা গ্রুপের সভাপতি রতন তংচঙ্গ্যার বাসায় সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘুম থেকে উঠে একসঙ্গে নাশতা

করছিলেন। এমন সময় ৫-৬ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাসায় ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি প্রজিৎ চাকমা সভাপতি রতন তংঞ্চগ্যা মারা যান। গুলির আওয়াজ শুনে কয়েক জন পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করলেও সন্ত্রাসীরা তাদের ব্রাশফায়ার করে। এতে পালানোর সময় বাড়ির উঠানে তারা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সেম্প্রু মার্মা বলেন, সকালে বাগমারার পূর্ব দিক থেকে একটি সশস্ত্র গ্রুপ এলাকায় ঢুকে রতন তংঞ্চগ্যার বাসায় হামলা চালায়। নিহতরা সবাই ওই ঘরে অবস্থান করছিল। তবে হামলার পর অনেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়। অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে বাড়ির উঠানে পড়ে ছিল দেখেছি।

এ ব্যাপারে এমএন লারমা গ্রুপের বান্দরবান জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক উবামং মারমা জানান, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি বান্দরবান জেলা সভাপতির বাসায় আসছিলেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে তারা নাশতা করার জন্য বসছিলেন। এমন সময় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা পাড়ার পূর্ব দিকের পাহাড় থেকে নেমে এসে সভাপতির বাড়িতে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি করে পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে পালিয়ে যায়। কে বা কারা এ হামলা চালিয়েছেÑ এমন প্রশ্নের জবাবে উবামং বলেন, সন্ত্রাসীদের তো চিনি না, তবে তারা জেএসএস সন্তু লারমা গ্রুপের সদস্য হতে পারে।

এদিকে এ ঘটনার পর ওই এলাকায় জনগণের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে অনত্র নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন। ঘটনার পর পুলিশ ও সেনাসদস্যরা এলাকাটিতে টহল জোরদার করেছেন। তবে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু জানতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। স্থানীয়দের দাবি, জেএসএস সন্তু লারমা ও সংস্কারপন্থি এমএন লারমার গ্রুপের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ হত্যাকা- চালানো হয়েছে। এতে এমএন লারমা গ্রুপের ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত গুলিবিদ্ধ আরও দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিক্যালে রেফার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বান্দরবানে দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সঙ্গে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংস্কারপন্থি এমএন লারমা গ্রুপ এবং মগ লিবারেশন পার্টির ত্রিমুখী বিরোধ চলে আসছিল। পাহাড়ে চাঁদাবাজি, অপহরণ, খুনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এরা সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। আধিপত্য বিস্তারের জেরে এর আগেও বান্দরবানে বেশ কিছু হত্যাকা- ঘটে। এতে জেএসএস ও আওয়ামী লীগের কয়েক জন নেতা মারা যান। এসব হত্যাকা-ে আওয়ামী লীগ জেএসএসকে দায়ী করলেও জেএসএস মগ লিবারেশন পার্টিকে দায়ী করে। তথাপি এমএন লারমা গ্রুপের সদস্যদের হত্যার জন্য জেএসএসকে দায়ী করছে সংস্কারপন্থি এমএন লারমা গ্রুপ।

advertisement
Evaly
advertisement