advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সব খবর

advertisement

স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত সরকার দেবে

একাদশ থেকে দ্বাদশে উত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠান নেবে

এম এইচ রবিন
৮ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৮ জুলাই ২০২০ ১২:০৮
advertisement

একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে উত্তীর্ণের ক্ষেত্রে পরীক্ষাবিহীন প্রমোশনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। শিক্ষা বোর্ড কিংবা প্রশাসন কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। তবে বার্ষিক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। এর জন্য প্রয়োজন সরকারি সিদ্ধান্ত। করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই সরকার সিদ্ধান্ত দেবে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

শিক্ষা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতির মধ্যে স্কুল-কলেজের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখার পক্ষে নয় শিক্ষা প্রশাসন। অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা না নিয়েও পরবর্তী ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উত্তীর্ণ করতে পারবে স্কুল-কলেজ কর্তৃপক্ষ। ফলে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ছাড়াই দ্বাদশ শ্রেণিতে উন্নীত করার ক্ষেত্রেও কোনো বাধা নেই।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির প্রধান ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এ বিষয়ে সরকার হস্তক্ষেপ করবে না। একাদশ শ্রেণির প্রথম বর্ষের কারিকুলাম শেষ করেছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিছু প্রতিষ্ঠান প্রথম বর্ষের পরীক্ষাও শুরু করে। করোনা ছুটির কারণে তা শেষ করতে পারেনি। কিন্তু আধাসাময়িক পরীক্ষা সবাই নিতে পেরেছে। এখন এসব প্রতিষ্ঠান চাইলে সাময়িক পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করেই পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণ করতে পারে।

এ ছাড়া উচ্চ মাধ্যমিকে কখনো প্রথম বর্ষ থেকে দ্বিতীয় বর্ষে কোনো শিক্ষার্থীকে আটকে রাখা হয়নি। সবাই দ্বিতীয় বর্ষে দ্বাদশ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয় এবং পরের বছরের কারিকুলাম শেষ করে চূড়ান্ত বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়।

এ বিষয়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফৌজিয়া জানান, তার প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণির প্রথম বর্ষ ফাইনাল পরীক্ষা নেওয়া যায়নি। করোনা ছুটিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। তবে একাদশ শ্রেণির প্রথম বর্ষের কারিকুলাম শেষ জুনে। জুলাই মাসে দ্বিতীয় বর্ষের ক্লাস শুরু হওয়ার কথা। সে জন্য তারাও অনলাইনে দ্বিতীয় বর্ষের কারিকুলাম অনুযায়ী ক্লাস শুরু করেছেন। প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদের সভায়। তিনি বলেন, বার্ষিক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত এখনো জানি না। এক্ষেত্রে সরকারের নির্দেশনা লাগবে। আমরা সরকারের নির্দেশনার অপেক্ষা করছি। তবে শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছি।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহানআরা জানান, তার প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণির ফাইনাল পরীক্ষা করোনা ছুটির আগেই সম্পন্ন হয়েছে। তবে বার্ষিক পরীক্ষা কবে কখন কীভাবে নেওয়া হবে, তা নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত লাগবে। সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। নিয়মিত অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

সরকারি কবি নজরুল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আইকে সেলিম উল্লাহ্ খোন্দকার জানান, তার প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণির তিনটি ক্লাস টেস্ট নেওয়া হয়েছে করোনা ছুটির আগে। এখন প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা অনলাইনে চলমান আছে।

চলতি শিক্ষা বর্ষের সাত মাস পার হতে চললেও এখনো করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন্ধ আছে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ সময়ে অনুষ্ঠিত হয়নি অভ্যন্তরীণ কোনো পরীক্ষা। সেশনের সময় চলে যাওয়ায় একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে কলেজগুলো। আগামী বছর এপ্রিল মাসে তাদের এইচএসসি পরীক্ষা নির্ধারিত আছে। এছাড়া বার্ষিক পরীক্ষা কীভাবে কোন পদ্ধতিতে নেওয়া হবে-সে হিসাব কষছে শিক্ষা প্রশাসন।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বেশ কয়েকটি উপায় নিয়ে এগুচ্ছে শিক্ষা প্রশাসন। এই মুহূর্তে কোনটি নিশ্চিত বলা যায় না, কোন পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। বার্ষিক পরীক্ষায় কারিকুলাম সংক্ষিপ্ত করার কথাও ভাবছে প্রশাসন। আবার কারিকুলাম সংক্ষিপ্ত না করে চলতি শিক্ষাবর্ষ আগামী শিক্ষাবর্ষের প্রথম দুই-তিন মাস পর্যন্ত নেওয়া হবে কিনাÑ সেটিও ভাবছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বার্ষিক পরীক্ষা সম্পর্কে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক জানান, এটি সরকার থেকে সিদ্ধান্ত আসতে হবে। এখনো করোনা পরিস্থিতি অনুকূলে নেই। আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোন পদ্ধতিতে কীভাবে এই পরীক্ষা নেওয়া যায় পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।

 

advertisement
Evaly
advertisement