advertisement
advertisement

১৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালায় শহীদুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৮ জুলাই ২০২০ ০৩:২৫
advertisement

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ২২ হাজার বিও অ্যাকাউন্টধারীর ১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও তার স্ত্রী নিপা সুলতানা নূপুরকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গত সোমবার লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার সীমান্তবর্তী মাইজদি এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসা থেকে ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। করোনা ভাইরাস মহামারীর মধ্যে অফিস গুটিয়ে ওই আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করেছিলেন তারা।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়ে ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. আবদুল বাতেন বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ ব্রোকারেজ হাউসটি গত
২২ জুন ২২ হাজার বিও অ্যাকাউন্টধারীর কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপন করেছিল। এ ঘটনায় পল্টন থানায় দুটি মামলা দায়ের হয়। সেই মামলায়ই তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশের রমনা বিভাগের একটি টিম।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানায়, ক্রেস্ট সিকিউরিটি লিমিটেড ঢাকা স্টক এক্সেচেঞ্জের একটি ব্রোকার হাউস। প্রতিষ্ঠানটিতে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা লেনদেন করেন। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, পরিচালক তার স্ত্রী নিপা সুলতানা ও ভাই ওয়াহিদুজ্জামান। ক্রেস্ট সিকিউরিটিজে ইতোমধ্যে ২২ হাজার বিও অ্যাকাউন্টধারীরা প্রায় ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। গত ২২ জুন গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট থেকে ১৮ কোটি টাকা সরিয়ে নিয়ে অফিস বন্ধ করে দেয় শহীদুল্লাহ। এ ছাড়া ৪৪-৪৫ গ্রাহকের কাছ থেকে মুনাফা দেওয়ায় শর্তে বেআইনিভাবে ৩০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল তারা। সেই টাকাও মেরে দিয়েছে ওই দম্পতি। এ টাকা আত্মসাৎ করে তারা এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করেছিলেন। এদিকে ১৮ কোটি টাকা প্রতিষ্ঠানটি সরালেও সেই বার্তা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মোবাইলে পাঠায়নি তারা। এর পর বিনিয়োগকারীরা প্রতিষ্ঠানটির পল্টন ও জনসন রোডের অফিসে গিয়ে তালা দেখে দুটি মামলা করেন। এই নিয়ে ওই দম্পতির বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা দায়ের হয়েছে।
আত্মসাৎ করা টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে কিনা জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, আমরা এ বিষয়ে তদন্ত করে দেখব। তদন্তের স্বার্থে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেব। তাদের অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে, কোথায় কোথায় টাকা পাঠানো হয়েছে সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শহীদুল্লাহ ও তার স্ত্রী মিলে গ্রাহকের শত কোটি টাকার বিনিয়োগ ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

advertisement
Evaly
advertisement