advertisement
advertisement

জয়পুরহাটে ফুপা হত্যা করলেন স্কুলছাত্রকে

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
৮ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৮ জুলাই ২০২০ ০২:২৬
advertisement

মায়ের সঙ্গে ফুপাকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলাই কাল হলো অষ্টম শ্রেণির ছাত্র রয়েলের জীবনে। তাই পথের কাঁটা দূর করতেই মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে কোমল পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের বড়ি খাইয়ে অজ্ঞান করার পর গেঞ্জি দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয় তাকে। হত্যাকা-ের প্রায় এক সপ্তাহ পর গ্রেপ্তার হয়ে পুলিশের কাছে এমন স্বীকারোক্তি দিয়েছেন পাষ- ফুপা আমান উল্লাহ।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদসা ইউনিয়নের ছাওয়ালপাড়া গ্রামের দিনমজুর বকুল হোসেনের ছেলে স্থানীয় হরিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র রয়েল দিন দশেক আগে হঠাৎ নিখোঁজ হয়। এরই মধ্যে ১ জুলাই জয়পুরহাটের বানিয়াপাড়া কামিল মাদ্রাসা এলাকার তুলসীগঙ্গা নদী থেকে অর্ধগলিত একটি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এদিকে নিখোঁজ হওয়া রয়েলের মুঠোফোনের সূত্র ধরে গতকাল মঙ্গলবার তার আপন ফুপা ট্রাকচালক আমান উল্লাহকে আটক করে পুলিশ। তিনি সদর উপজেলার কড়ই মালোপাড়া গ্রামের মৃত গোলজার হোসেনের ছেলে।

আমান উল্লাহ পুলিশকে জানিয়েছেন, রয়েল তার মায়ের সঙ্গে

আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে। এ ঘটনা রয়েল তার বাবাকে বলে দেয়। তার পর ওই বাড়িতে যেতে নিষেধ করা হয় তাকে। এই ক্ষোভের জের ধরে পথের কাটা ভেবে রয়েলকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেন তিনি।

হত্যাকা-ের বর্ণনা দিতে গিয়ে ঘাতক জানান, জয়পুরহাট শহরে ঘুরে বেড়ানোর জন্য মোবাইল ফোনে রয়েলকে ডেকে নিই। এর পর হিচমীবাজার থেকে দুটি কোল্ড ড্রিংকস কিনি এবং কড়ই মাদ্রাসাপাড়া এলাকার একটি ফার্মেসি থেকে ঘুমের ওষুধ কিনে সেগুলোর সঙ্গে মিশ্রণ করি। এর পর রয়েলকে খাওয়ালে সে অজ্ঞান হয়ে যায়। তার পর তার পরনের গেঞ্জি দিয়েই তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর নদীতে ফেলে দিই।

এদিকে এমন লোমহর্ষক হত্যাকা-ের বিচার দাবি করেছেন এলাকাবাসী। নিহতের বাবা বকুল হোসেন বাদী হয়ে ইতোমধ্যে ভগ্নিপতি আমান উল্লাহকে আসামি করে জয়পুরহাট সদর থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

জয়পুরহাটে দিন দিন শিশুসহ হত্যাকা- বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনের কর্মীরা। এ বিষয়ে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন জয়পুরহাট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম জানান, হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

জয়পুরহাট সদর থানার ওসি শাহরিয়ার খান বলেন, আমান উল্লাহ নিজেই রয়েল হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী নিহত রয়েলের মা পান্না বেগমকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান ওসি। এ ছাড়া এ হত্যার সঙ্গে আর কারা জড়িত আছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে।

advertisement
Evaly
advertisement