advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বন্যা ও ভাঙন বেশিরভাগ মানুষই ত্রাণের দেখা পাননি

আমাদের সময় ডেস্ক
৮ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৮ জুলাই ২০২০ ০২:২৬
advertisement

কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা ও টাঙ্গাইলে বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়েছে। পানি কমেছে রাজবাড়ীর পদ্মা ও গড়াই নদীতেও। কিন্তু বিভিন্ন জেলার চরাঞ্চলে এখনো লাখো মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। আবার কোনো কোনো এলাকায় পানি কিছুটা কমলেও দুর্ভোগ বাড়ছে দুর্গতদের। এ ছাড়া বন্যার সঙ্গে সঙ্গে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন নদীতীরের মানুষ।

ঘরবাড়ি, গবাদিপশু ও পরিবারের শিশু-বৃদ্ধদের নিয়ে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে বন্যাদুর্গত লাখো মানুষ। এসব এলাকার মানুষরা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি থাকায় দুর্বিসহ জীবনযাপন করছে। অথচ এখন পর্যন্ত বন্যা ও নদীভাঙনের শিকার বেশিরভাগ মানুষই কোনো ত্রাণসামগ্রী পায়নি বলে অভিযোগ তাদের। আবার কেউ কেউ ত্রাণ পেলেও চাহিদার তুলনায় তা একেবারেই অপ্রতুল। জানা গেছে, বন্যাকবলিত এলাকায় সবচেয়ে কষ্টে রয়েছেন দিনমজুর ও নি¤œআয়ের মানুষরা। কাজ

না থাকায় দুবেলা খাবার সংগ্রহ করতে পারছেন না তারা। দুর্গত এলাকায় দরিদ্র এসব মানুষের খাবারের পাশপাশি চারণভূমি পানিতে তলিয়ে থাকায় সংকট দেখা দিয়েছে গোখাদ্যেরও। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের খবরÑ

কুড়িগ্রাম : জেলার সবকটি নদ-নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও ধরলার পানি সদর পয়েন্টে সামান্য ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদ-নদীর পানি কমায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নিতি হয়েছে। তবে দুর্ভোগ কমেনি বানবাসীদের। অন্যদিকে ধরলার প্রবল ভাঙনের মুখে পড়েছে সারোডোব ও জয়কুমোর এলাকা।

বন্যার্ত ফারুন, জোবেদ আলী, আমিনুল ইসলাম বলেনÑ পানিতে ঘরবাড়ি তলিয়ে থাকায় তারা পাকা সড়ক, বাঁধ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বন্যার্ত এলাকায় চলছে গোখাদ্যের সংকট।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, চলতি বন্যায় ৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনে বিলীন ও একটি বিদ্যালয় ভাঙনের মুখে রয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রসস্ত হয়েছে ১৫২টি বিদ্যালয়ের। ভাঙনে বিলীন বিদ্যালয়ের মধ্যে উলিপুর উপজেলার চরবজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নয়াডারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রৌমারী উপজেলার বলদমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফলুয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ ছাড়া উলিপুরের সুখেরবাতির চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনের মুখে রয়েছে।

গাইবান্ধা : ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। জেলার সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার চরাঞ্চলগুলোতে এখনো পানিবন্দি মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এদিকে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গেই ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদীর ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া, শ্রীপুর, হরিপুর, গাইবান্ধা সদরের কামারজানি, ফুলছড়ির কাতলামারি, সিংড়িয়া, কামারপাড়া এবং সাঘাটার গোবিন্দি ও হলদিয়ার বিভিন্ন গ্রামে ব্যাপক ভাঙনের ফলে গত তিন দিনে সাড়ে ৩০০ ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তর জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ২০০ টন চাল, ১ হাজার ৮০০ প্যাকেট শুকনো খাবার ও ত্রাণ হিসেবে বন্যার্তদের মধ্যে এবং ১৩ লাখ টাকা এবং গোখাদ্য হিসেবে ২ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়।

জামালপুর : বন্যার পানি কমলেও, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ও নি¤œাঞ্চলের পানি সরে না যাওয়ায় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে দুর্গত এলাকার হাজার হাজার মানুষ। এসব এলাকার মানুষরা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি থাকায় দুর্বিসহ জীবনযাপন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণসামগ্রী পায়নি বলে অভিযোগ তাদের।

ইসলামপুরের চিনাডুলি ইউনিয়নের খামারপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বন্যার পানি কমে যাওয়ায় নিজ বাড়িতে ফিরে ঘরবাড়ি মেরামত করছেন স্থানীয়রা। সেখানকার বাসিন্দা মোছা. আনোয়ারা বেগম বলেন, অনেক দিন বন্যাকবলিত থাকার পরও কোনো জনপ্রতিনিধি খোঁজ নেননি আমাদের। কোনো ত্রাণ চোখে দেখিনি। এখন পানি কমায় বাড়ি ফিরেছি। বাড়িঘর সংস্কার করার মতো উপায়ও নেই।

বন্যার পানির তোড়ে কাঁচা-পাকা অনেক রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় যাতায়াত ও মালামাল পরিবহনে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ। এ পর্যন্ত বন্যায় ৯৬ কিলোমিটার আংশিক কাঁচা রাস্তা এবং ১৭ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অপরদিকে মাদারগঞ্জের পাকরুল এলাকায় যমুনার পানি কমার সাথে সাথে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয়রা।

টাঙ্গাইল : নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। জেলায় এখনো পানিবন্দি রয়েছে ২১,১৭৮টি পরিবার। ভাঙনকবলিতদের অভিযোগ, তাদের অনেকেই সরকারি ত্রাণ সহযোগিতা পাননি। কেউ কেউ পেলেও চাহিদার তুলনায় সেগুলো অপ্রতুল।

টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ত্রাণ শাখা আমাদের সময়কে জানায়, জেলার ৬টি উপজেলায় বন্যার কড়াল থাবা পড়েছে। এর মধ্যে গোপালপুর উপজেলার ৩টি, ভূঞাপুরের ৪টি, কালিহাতীর ৪টি, টাঙ্গাইল সদরের ৫টি, নাগরপুরের ৫টি ও দেলদুয়ারের ৩টিসহ মোট ২৪টি ইউনিয়ন এবং এলেঙ্গা পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৫৮৫টি বাড়ি নদীতে একেবারে বিলীন এবং ১০৬৫টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নাগরপুরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পূর্ণ নদীতে চলে গেছে।

বন্যার্তদের ৪০০ টন চাল, নগদ ৮ লাখ টাকা এবং ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

রাজবাড়ী : জেলার পদ্মা ও গড়াই নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করছে। গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়ন থেকে পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পর্যন্ত পদ্মা নদীর ভাঙনে ১২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে গড়াইয়ের ভাঙনে জঙ্গল, নাড়ুয়া ও শাওরাইল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, শতশত একর জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পদ্মা ও গড়াই নদীর ভাঙনে গত ১ মাসে ২ হাজার একর জমি বিলীন হয়ে গেছে। ৮ শতাধিক ঘরবাড়ি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। অসহায় মানুষ এখন সড়কের পাশে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে। চর এলকায় গরু-ছাগলের খাদ্যের সংকট দেখে দিয়েছে। দীর্ঘ ৫০ কিমি এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিলেও রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের তেমন তৎপরতা না থাকায় প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম মঙ্গল জানান, জেলায় বন্যা উপলক্ষে ১৫০ টন চাল ও ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

advertisement
Evaly
advertisement