advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

যশোর-৬ উপনির্বাচন
আওয়ামী লীগএকাট্টা গ্রুপিং ভেঙে

উত্তম ঘোষ যশোর
৮ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৮ জুলাই ২০২০ ০২:২৬
advertisement

নির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণার আগমুহূর্তেও কেশবপুর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ছিল গ্রুপিং। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তে জাতীয় সংসদের যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের উপনির্বাচনে জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারকে মনোনয়ন দেওয়ায় দেখা দেয় রাজনীতির নতুন মেরুকরণ। শাহীন চাকলাদারের নির্দেশে নতুনভাবে সক্রিয় হয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বিভেদ ভুলে সবাই মিলে দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করতে একাট্টা এখন উপজেলা আওয়ামী লীগ।

স্থগিত হওয়া নির্বাচনে পুনরায় নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর বিএনপি প্রার্থীর ভোট বর্জন ও জাতীয় পার্টির নীরব ভূমিকার পরও একাই মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তার পক্ষে কর্মী-সমর্থকরা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচার। ১৪ জুলাই ভোটে জয়ী হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী এসব কর্মী-সমর্থক। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থীর সমার্থকরা বলেছেন, করোনায় ভীতি কাজ করছে। এর মধ্যে কীভাবে নির্বাচন হবে? মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে এভাবে ভোট হতে পারে না।

করোনায় স্থগিত হওয়া যশোর ৬ ও বগুড়া-১ আসনের উপ-নির্বাচনের শূন্য আসনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। পুনরায় নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর গত রবিবার থেকেই মাঠে নেমেছে যশোর ৬ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাহীন চাকলাদার। স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিটি ইউনিয়নে কর্মী সমাবেশ করছে। আশ্বাস দিচ্ছেন এলাকার উন্নয়ন ও পাশে থাকার। যদিও নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পরও প্রতিনিয়ত নির্বাচনী এলাকার জনগণের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। অন্যদিকে রবিবার নির্বাচনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি দলীয় ফোরামের এক বৈঠকের পর করোনা পরিস্থিতিতে কার্যত উপনির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি প্রার্থী। আর নির্বাচন করবে বা করবে নাÑ এমন সিদ্ধান্তের দোলাচলে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আহসান হাবিব এখন নীরব ভূমিকায়। ফলে আওয়ামী লীগ অনেকটাই নির্ভার মনে করছে নিজেদের।

আর ভোটাররা বলেছেন, করোনা প্রাদুর্ভাবে যশোর-৬ (কেশবপুর) সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন স্থগিত হলেও মাঠ ছাড়েননি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শাহীন চাকলাদার। নির্বাচিত না হয়েও জনগণের দুঃসময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি মোতাবেক সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্থে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, চিকিৎসাসরঞ্জাম সরবরাহ অব্যহত রেখেছেন। এতে গোটা কেশবপুর উপজেলায় আপামর মানুষের আস্থা-বিশ্বাসের ঠিকানা হয়ে উঠেছেন তিনি। ফলে কেশবপুরে উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীই সুফল পাবে না বলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বিএনপিপ্রার্থী আবুল হোসেন আজাদের দাবিÑ সংবিধানের দোহাই দিয়ে মানুষকে মৃত্যুঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিয়ে ভোটের এই আয়োজন কখনই মেনে নেওয়া যায় না। জীবনের চেয়ে সংবিধান কখনো বড় হতে পারে না। কারণ মানুষের জন্যই সংবিধান। মানুষ না থাকলে সংবিধান দিয়ে কী হবে? শাহীন চাকলাদারের দাবি, ভোটাররা কথা দিচ্ছেন নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকে বিজয়ী করার; আর তিনি আশ্বাস দিচ্ছেন সুখে-দুঃখে সব সময় জনগণের পাশে থাকার।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচিত না হয়েও জনগণের দুঃসময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি মোতাবেক সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্থে করোনার এই সময়ে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহানের কাছে বিপুল পরিমাণ মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও পিপিই প্রদান করেছেন শাহীন চাকলাদার। পাশাপাশি গোটা উপজেলায় দুস্থ-অসহায়-কর্মহীন ১০ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা ও দলীয় নেতাদের মাধ্যমে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছে। এ ছাড়াও জেলা শহর ছাড়াও অন্য উপজেলা শহরে কয়েকটি ট্যাংক লরির মাধ্যমে জীবাণুনাশক স্প্রে কার্যক্রম চলছে। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে করোনা চিকিৎসায় ইতোমধ্যে একটি ডিজিটাল এক্সরে মেশিন, একটি মনিটর যুক্ত ইসিজি মেশিন, একটি থার্মাল স্ক্যানার মেশিন প্রদান করেছেন।

কেশবপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ভ্যানচালক ফজলু জানান, করোনার মধ্যে কেশবপুরে আবারও নির্বাচনের উৎসব। সব উপজেলায় এমপি থাকেন। তিনি তার এলাকায় সরকারের সব উন্নয়ন করে থাকে। কেশবপুর উপজেলাব্যাপী ব্যবসা-বাণিজ্য ও উন্নয়নমূলক কর্মকা- মুখ থুবড়ে পড়েছে। জনগণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এক সংসদ সদস্যের অনুপস্থিতিতে সাধারণ সরকারি কোটা থেকে জনগণ বঞ্চিত হচ্ছে। তাই সংসদীয় আসনে উপনির্বাচন অতি জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন তিনি।

কেশবপুর পালপাড়া এলাকার শিক্ষক অমল বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কেশবপুরে কোনো এমপি নেই। এমপি না থাকার কারণে সরকারের বিভিন্ন সরকারি কাজে বাধাগ্রস্ত ও উন্নয়ন হচ্ছে না। তাই নির্বাচন কমিশনের দ্রুত স্বাস্থ্যবিধি মেনে নির্বাচন করা উচিত।

কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম রুহুল আমীন বলেন, ‘ভোটের প্রচরে আমরা জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার যে ওয়াদা করেছিলাম, তা নির্বাচিত হওয়ার আগেই বাস্তবে রূপ পাচ্ছে। করোনা মোকাবিলায় নেতা-কর্মীদের জনসমাগম এড়াতে কিছুটা গোপনে হলেও প্রায়ই শাহীন চাকলাদার কেশবপুরে যাতায়াত অব্যহত রেখেছিল। স্থগিত হওয়া নির্বাচন আবার তফসিল ঘোষণার পরই আবারও এখানে এসে দলীয় নেতাদের সঙ্গে জরুরি মিটিং করে জনগণের বিপদে করণীয় বিষয়ে আলাপ করেন এবং ভোট চাচ্ছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই উপনির্বাচনের প্রচার করে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিধিমোতাবেক প্রার্থীদের প্রচার চালাতে বলা হয়েছে। তা ছাড়া নির্বাচন কমিশন ও উপজেলা প্রশাসনের একত্র হয়ে সুষ্ঠাভাবে নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

এ পরিস্থতিতে নির্বাচন নিয়ে জেলা নির্বাচন অফিসের সিনিয়র নির্বাচন কর্মকতা হুমায়ন কবির জানান, ‘সার্বিক পরিস্থিতি আমরা নজরে রাখছি। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও দেশে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেসব অভিজ্ঞতা ও ইসির গাইডলাইন অনুসরণ করে এখানকার উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী ভোটারদের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হবে। নিরাপদ দূরত্ব রক্ষার জন্য নির্দিষ্ট দুরত্বে বৃত্ত আঁকার পরিকল্পনা রয়েছে। ইসি সচিবালয়ের গাইডলাইনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসুরক্ষার জন্য স্থানীয়ভাবেও বিভিন্ন পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শাহীন চাকলাদার বলেন, দলের দুঃসময়ে জীবন বাজি রেখে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। ভূমিকা রেখেছি দলকে সুসংগঠিত করার। কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগকে সব বিভেদ ভেঙে ঐক্যবদ্ধ করেছি। দলের প্রতি শ্রম ও ত্যাগের মূল্যায়ন হিসেবে আমার হাতে নৌকা প্রতীক তুলে দিয়েছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ১৪ জুলাই ভোটের দিন আমার তথা শেখ হাসিনার নৌকাকেই বেছে নেবেন মানুষ। নৌকা হলো উন্নয়নের প্রতীক। বিজয়ী হয়ে নেতৃত্বে উপজেলাটিকে উন্নত, আধুনিক ও বাসযোগ্য জনপদ হিসেবে গড়ে তুলব। তিনি আরও বলেন, করোনার দুঃসময়ে বিএনপি জনগণের পাশে ছিল না। তাই জনগণ তাদের মেনে নিতে পারবে না। তাই বিএনপি নির্বাচন বর্জন করেছে।

এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আহসান হাবিব বলেন, করোনা ভাইরাসের সময়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ায় মানুষের করোনার ঝুঁকি বেড়ে যাবে। এই নির্বাচন প্রার্থীদের আত্মঘাতী নির্বাচন।

ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবুল কালাম আজাদ বলেন, করোনা নিয়ে মানুষের মধ্যে ভীতি কাজ করছে। এর মধ্যে কীভাবে নির্বাচন হবে? মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে এভাবে ভোট হতে পারে না। সংবিধানের দোহাই দিয়ে মানুষকে মৃত্যুঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিয়ে ভোটের এই আয়োজন কখনই মেনে নেওয়া যায় না। জীবনের চেয়ে সংবিধান কখনো বড় হতে পারে না। কারণ মানুষের জন্যই সংবিধান।

advertisement
Evaly
advertisement