advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান
কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করুন

৮ জুলাই ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ৮ জুলাই ২০২০ ০২:৩৫
advertisement

করোনা মহামারীর কারণে দেশ যখন বিপর্যস্ত ঠিক তখনই এই পরিস্থিতিকে সুযোগ নিয়ে একটি চক্র আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। যা লজ্জাজনক ও নিন্দনীয়। বর্তমান সময়ে সাধারণ চিকিৎসার জন্যও হাসপাতালগুলো রোগী ভর্তি হতে গেলেই করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট চায়। এই সার্টিফিকেট ছাড়া রোগী ভর্তি তো দূরের কথা, অনেক সময় চিকিৎসাই দিতে চায় না তারা। এর বাইরে কর্মস্থল, পোশাক কারখানা এবং ভ্রমণের জন্য করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট অনেকটা বাধ্যতামূলক হয়েছে। কিন্তু সাধারণভাবে করোনা টেস্ট সময়সাপেক্ষ এবং উপসর্গ ছাড়া পরীক্ষা করানো কঠিন। আর এই সুযোগ নিচ্ছে প্রতারক চক্র।

তারা বিভিন্ন হাসপাতাল, করোনা টেস্টিং সেন্টারের সিল, চিকিৎসকের নাম, স্বাক্ষর এবং করোনা সার্টিফিকেটের স্টাইল জাল করে ভুয়া সার্টিফিকেট দিচ্ছে। তারা শুধু নেগেটিভ নয়, পজিটিভ সার্টিফিকেটও দিচ্ছে। সর্বশেষ রাজধানীর উত্তরা ও মিরপুরে রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে কমপক্ষে ৮ জনকে আটক করেছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে র‌্যাব সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করে। অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতালটি টেস্ট না করেই কোভিড-১৯ ‘পজিটিভ’ ও ‘নেগেটিভ’ সনদ দিত বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট জানান রিজেন্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তিন ধরনের অভিযোগ ও অপরাধের প্রমাণ তারা পেয়েছেন। প্রথমত, তারা করোনার নমুনা পরীক্ষা না করে ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করত। এ ধরনের ১৪টি অভিযোগ র‌্যাবের কাছে জমা পড়ে, যার পরিপ্রেক্ষিতে এই অভিযান। দ্বিতীয়ত, হাসপাতালটির সঙ্গে সরকারের চুক্তি ছিল ভর্তি রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার। সরকার এই ব্যয় বহন করবে। কিন্তু তারা রোগীপ্রতি লক্ষাধিক টাকা বিল আদায় করেছে (এ সময় সারোয়ার আলম গণমাধ্যমকর্মীদের বিলের নথি দেখান)। পাশাপাশি রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়েছে এই মর্মে সরকারের কাছে ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকার বেশি বিল জমা দেয়। সারোয়ার আলম বলেন, রিজেন্ট হাসপাতাল এ পর্যন্ত শদুয়েক কোভিড রোগীর চিকিৎসা দিয়েছে। তৃতীয় অপরাধ হলো, সরকারের সঙ্গে চুক্তি ছিল ভর্তি রোগীদের তারা কোভিড পরীক্ষা করবে বিনামূল্যে। কিন্তু তারা আইইডিসিআর, আইটিএইচ ও নিপসম থেকে ৪ হাজার ২০০ রোগীর বিনামূল্যে নমুনা পরীক্ষা করিয়ে এনেছে। করোনা দুর্যোগের এ সময়ে কতটা অবিবেচক ও অমানবিক হলে এমনটা হতে পারে! এবং একটি বিষয় পরিষ্কার যে এতদিন এসব হাসপাতাল নিয়ে সরকারের কোনো মনিটরিংই ছিল না, যা ভেবে আমরা আশ্চর্য হই। আমরা চাই এসব জালিয়াতির ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের কঠোর শাস্তি হোক। কারণ তাদের এসব টেস্টের সঙ্গে মানুষের জীবন-মরণের প্রশ্ন জড়িত। অতএব এ রকম অভিযান অব্যাহত থাকুক।

advertisement
Evaly
advertisement