advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নয়াদিল্লিতে করোনার দুই ওষুধ কালোবাজারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৮ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৮ জুলাই ২০২০ ০৩:০১
advertisement

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে করোনা ভাইরাস চিকিৎসায় ব্যবহৃত দুটি জরুরি ওষুধ আর খোলাবাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। রেমডিসিভির ও টসিলিজুমাব নামের এই ওষুধ সাতগুণ পর্যন্ত বেশি দামে কালোবাজার থেকে কিনতে হচ্ছে রোগীর স্বজনদের। বিবিসির এক তদন্তে এমন চিত্র ধরা পড়েছে।

অভিনব শর্মা নামে এক ব্যক্তি বিবিসিকে জানিয়েছেন, তারা চাচা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। তীব্র জ্বর ও শ্বাসকষ্ট শুরুর পর ডাক্তার শেষ চেষ্টা হিসেবে রেমডিসিভির ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। তবে ভাইরাসরোধী এই ওষুধের তীব্র চাহিদার কারণে সেটি খোলাবাজারে মেলেনি। চাচার জীবন বাঁচাতে অভিনব তার পরিচিত সবাইকে ফোন দিয়ে রেমডিসিভিরের খোঁজ পাওয়া যায় কিনা জানাতে অনুরোধ করেন। বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘আমি কাঁদছিলাম। আমার চাচা জীবনের জন্য লড়ছেন এবং আমি লড়ছিলাম তার প্রাণ বাঁচানোর সম্ভাব্য ওষুধটির জন্য। ডজন ডজন ফোন কল দেওয়ার পর সাতগুণ দাম দিয়ে পেয়েছিলাম ওষুধটি।’ ভারতে প্রতি ডোজ রেমডিসিভিরের সরকারি বাজার মূল্য ৫ হাজার ৪০০ রুপি। কিন্তু কালোবাজার থেকে তা কিনতে হচ্ছে ৩০ হাজার থেকে ৩৮ হাজার রুপি দিয়ে। একজন রোগীর জন্য সাধারণত পাঁচ থেকে ছয়টি ডোজ প্রয়োজন পড়ে। বিবিসির স্থানীয় সংবাদদাতা কৌশলে এক কালোবাজারির সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করেছিলেন। ওই ব্যক্তি রেমডিসিভির জোগাড়ের জন্য ‘সঠিক দাম’ দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাকে তিনটি ডোজ জোগাড় করে দিতে পারব। তবে প্রতি ডোজের দাম পড়বে ৩০ হাজার রুপি এবং আপনাকে এখনই আসতে হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের গিলিড সায়েন্সের উৎপাদিত ওষুধ রেমডিসিভির মূলত ইবোলা চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য আবিষ্কৃত হয়েছিল। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে করোনা চিকিৎসায় এটি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। তবে এখনো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর অনুমোদন দেয়নি। ভারতের চারটি প্রতিষ্ঠানকে রেমডিসিভির উৎপাদনের অনুমতি দিয়েছে গিলিড সায়েন্সেস। এদের মধ্যে কেবল হিটোরো ড্রাগস প্রথম ওষুধটি বাজারে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। তবে কেবল হাসপাতালগুলোয় জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য ২০ হাজার ডোজ সরবরাহ করা হয়েছে।

হিটোরো ড্রাগসের বিক্রয় বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট সন্দিপ শাস্ত্রি বলেন, ‘আমরা পরিবেশকদের কাছে ওষুধটি সরবরাহ করিনি। গাইড লাইন অনুযায়ী, আমরা সরাসরি হাসপাতালগুলোয় সরবরাহ করেছি।’ কীভাবে এই ওষুধ কালোবাজারে গেল তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানান এই কর্মকর্তা।

advertisement
Evaly
advertisement