advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কোরবানিতে পশুর সংকট হবে না চট্টগ্রামে

মো. মহিউদ্দিন চট্টগ্রাম
৮ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৮ জুলাই ২০২০ ০৩:২৩
advertisement

আসন্ন ঈদুল আজহায় বন্দরনগরী চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর (গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া) চাহিদা ৭ লাখ ৩১ হাজার। চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলা ও নগরীর তিনটি থানায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হয়েছে ৬ লাখ ৮৯ হাজার ২২টি। ফলে কোরবানিযোগ্য পশুর সংকট হবে না বলে মনে করছেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, বৈশ্বিক মহামারী করোনায় সৃষ্ট আর্থিক সংকটের কারণে অনেকেই এবার কোরবানি দিতে পারবেন না। এ ছাড়া বিভিন্ন জেলা থেকে চট্টগ্রামের বাজারে পশু আনা হয়।

এদিকে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে পশুর বাজারে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে কঠোর অবস্থানে থাকবে প্রশাসন। বাজারের শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিবছর বাজারে ভিড় হলেও এবার ভিন্ন চিত্র দেখা যাবে। ক্রেতা-বিক্রেতা সামাজিক দূরত্ব মেনেই বেচা-কেনা করবেন। এ বিষয়ে ইজারাদারদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলা পাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৮ হাজার ৭১ খামারি (ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান) স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পশুর মধ্যে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭২টি গবাদিপশু, মহিষ ৫৭ হাজার ১৩১, ছাগল ও ভেড়া এক লাখ ৬৭ হাজার ২১০ ও অন্যান্য ১০৯টি। গত বছর ৭ লাখ ৩০ হাজার ৭৮৯টি পশু জবাই হয়েছিল। তখন স্থানীয় উৎপাদন ছিল ৬ লাখ ১০ হাজার ২১৯টি। এরমধ্যে ৫ লাখ ১৩ হাজার ১৭টি গবাদিপশু, ৩ হাজার ৪৩৫টি মহিষ, ছাগল-ভেড়া ২

লাখ ২৬ হাজার ৩৭টি।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রেয়াজুল হক আমাদের সময়কে বলেন, চাহিদার অনুপাতে চট্টগ্রামে কোরবানিযোগ্য পশুর ৪১ হাজার ৯৭৪টি ঘাটতি থাকছে। কোরবানি সামনে রেখে বিভিন্ন জেলা থেকে চট্টগ্রামের বাজারে পশু নিয়ে আসেন বেপারিরা। ফলে ঈদে পশুসংকটের কোনো আশঙ্কা নেই। এ ছাড়া করোনা সংকটে এবার নি¤œ-মধ্যত্তি অনেক পরিবার কোরবানি দিতে পারবে না। ফলে পর্যান্ত পশু পাওয়া যাবে। করোনার কারণে ক্রেতা-বিক্রেতারা বাজারে বিশৃঙ্খলা করবেন নাÑ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘অন্যান্যবার বিক্রেতারা কয়েক হাট ঘুরিয়ে দাম ধরার চেষ্টা করলেও এবার করবেন না। ক্রেতারাও দ্রুত কিনে বাজার ত্যাগের চেষ্টা করবেন। তাই ভিড় হবে না।

সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে কঠোর প্রশাসন : চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার নিয়মিত বাজারের পাশাপাশি অস্থায়ী হাট বসানো হয়। এসব বাজারে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও বিভিন্ন জেলা থেকে পশু আনা হয়। এতে ব্যাপক লোকসমাগম ঘটে। ক্রেতা ছাড়াও উৎসুক লোকজন বাজারে ঘুরতে যায়; কিন্তু এবারের ভিন্ন পরিস্থিতিতে লোকসমাগম করতে দেবে না প্রশাসন। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ ও জেলা পুলিশ এরই মধ্যে বাজার নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

নগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির পশুর হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করবে। এজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তার পাশাপাশি পশুর হাটে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে কাজ করবে পুলিশ। জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, জেলার অধীন পশুর হাটে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। ক্রেতা-বিক্রেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করবে তারা। কোরবানির পশুর হাটে নিয়মিত জীবাণুনাশক স্প্রে ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ইজারাদারকে নির্দেশনা দেওয়া হবে।

অভিযান চলবে : পশুর হাটে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. বদিউল আলম জানান, নগরীর পশুর হাটে ভিড় কমাতে একটি পশু কিনতে দুজনের বেশি আসতে পারবেন না। সাধারণত কোরবানির পশুর হাটে মানুষের বাড়তি ভিড় থাকে। অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পশু পছন্দ করে কেনেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার সেই সুযোগ দেওয়া হবে না।

advertisement
Evaly
advertisement