advertisement
advertisement

আমাদের সময়কে ড. মহিউদ্দিন
টিকা কার্যকর হয় চার ধাপে

নজরুল ইসলাম
৮ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৮ জুলাই ২০২০ ০৩:২৩
advertisement

বাংলাদেশি প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে করোনার টিকা (ভ্যাকসিন) আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে গ্লোবাল ফার্মাসিউটিক্যালস গ্রুপ অব কোম্পানিজ লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড। গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের কোয়ালিটি অ্যান্ড রেগুলেটরি অপারেশনসের ম্যানেজার ও ইনচার্জ এবং টিকা আবিষ্কার গবেষক দলের সদস্য ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আমাদের সময়ে সঙ্গে কথা বলেন। ড. কাকন নাগের নেতৃত্বে যে গবেষক দল এ টিকা আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে সেই দলে আরও রয়েছেন ড. আসিফ মাহমুদ, সমির কুমার, মো. জিকরুল ইসলাম, জুয়েল চন্দ্র বাড়ই, মো. মাকসুদুর রহমান খান। বাকি বিজ্ঞানীরা নানাভাবে এ গবেষণাকাজে সহযোগিতা করেছেন। গত সোমবার টেলিফোনে আমাদের সময়কে ড. মহিউদ্দিন বলেন, মোটা দাগে বলতে গেলে একটি কার্যকর টিকা আবিষ্কার করতে গেলে শুরু থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত চারটি

ধাপ অতিক্রম করতে হয়। ধাপগুলো হচ্ছে রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল (অ্যানিমেল), ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল (মানবদেহে), সর্বশেষ বাজারজাত। তিনি বলেন, রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টে সময় কতটুকু লাগবে এটা বলা খুব কঠিন। এর কোনো নির্ধারিত সময় থাকে না। কখনো অল্প সময়ে ডেভেলপ করা যায়, কখনো দীর্ঘ সময়

লেগে যায়। পৃথিবীতে এমনও ঘটনা আছে টিকা আবিষ্কার করতে একশ বছরও লেগেছে। আবার ৩ বছর, ১০ বছরেও পাওয়া গেছে টিকা। আশার কথা হচ্ছেÑ করোনা ভাইরাসের টিকা এক বছরের মধ্যেই পেয়ে যাচ্ছি। চীনে গত বছরের ডিসেম্বরের করোনা ভাইরাস সংক্রমণ দেখা দেয়। এর পর পৃথিবীর নানা দেশে টিকা আবিষ্কারের চেষ্টা করছে। বাংলাদেশও এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। আশা করি ডিসেম্বরেই করোনা ভাইরাসের টিকা দেশের মানুষ পেয়ে যাচ্ছে। সব ঠিক থাকলে মানুষের সেবায় এই টিকা নিয়োজিত করা যাবে।

রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টে জিনোম সিকোয়েন্সিং গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন এ গবেষক। তিনি বলেন, টিকা আবিষ্কারের প্রথম ধাপ হচ্ছে রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট। টিকা আবিষ্কারে জিনোম সিকোয়েন্সিং দরকার। আগেই টার্গেট সেট করতে হবে। করোনার ভাইরাসের কথাই যদি ধরি, এ পর্র্যন্ত ৫ হাজার ৭৪৩টি জিনোম সিকোয়েন্সিং ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশনে (এনসিবিআই) জমা হয়েছে। এটা একটা জিন ব্যাংক। এই জিনোম সিকোয়েন্সিংগুলো বিজ্ঞানীরা স্ক্রিনিং করেন অর্থাৎ পরীক্ষা করেন। এখান থেকে টিকার টার্র্গেট সেট করেন, যেন সব জিনোমের ক্ষেত্রে কাজ করে। এর বায়োলজিক্যাল যেসব অ্যাক্টিভিটি রয়েছে, তা ঠিক করা হয়।

এর পর প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অ্যানিমেল বডিতে তিনটি পদ্ধতিতে কাজ করা হয় বলে জানান গবেষক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, কোন পদ্ধতিতে এটা প্রয়োগ করা হবে তা-ও ঠিক করা হয়। এখন বর্তমানে পৃথিবীতে তিন ধরনের ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষকরা কাজ করছেন। ভাইরাল ভেক্টর, ডিএনএ, মেসেঞ্জার আরএনএ। এই ভ্যাকসিন দিয়ে প্রি-ক্লিনিক্যাল স্টাডি করা হয়। এতে দেখা হয় এই অ্যানিমেল মডেলে প্রাণিদেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হয় কিনা। যদি তৈরি করতে পারে তা হলে আবার দেখতে হবে করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রে এটি তা করতে পারে কিনা। তার পর দেখতে হবে সে এ ভাইরাসকে নিউট্রোলাইস করতে পারে কিনা। যদি কনফার্ম হওয়া যায় তা হলে বুঝতে হবে এ টিকা কাজ করছে।

ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য অর্র্থাৎ মানবদেবে এ টিকা প্রয়োগ করতে নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান সিআরও নিয়োগ দিতে হয় বলে জানান গবেষক মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, এখন আমাকে একটি গাইডলাইনের আওতায় প্রি-ক্লিনিক্যাল স্টাডি করতে হবে। এর পর সিআরও নিয়োগ করতে হবে। সিআরও ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য প্রি-ক্লিনিক্যাল ডেটাসহ বিএমআরসিতে জমা দেবে। তার রিভিউ করে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমতি দেবে। এর পর ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ফেজ-১, ফেজ-২ ও ফেজ-৩ উপায়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হবে। সেখানে যদি পাস করে, এর পর বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের জন্য ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে আবেদন করা হবে।

অনুমোদনের পর তা উৎপাদন ও বাজারজাত করতে উদ্যোগ নিতে হবে বলে জানান মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, বাজারজাত করার পরও মানবদেহে এ টিকা সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা ফার্মাকো ভিজিল্যান্সের মাধ্যমে মনিটরিং করতে হবে। এভাবেই একটা কার্যকর টিকা আবিষ্কার করা হয় বলে জানান মহিউদ্দিন।

advertisement
Evaly
advertisement