advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আ.লীগকে ক্ষমতায় রাখতেই রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইনের সংশোধন : ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ জুলাই ২০২০ ১৮:০৫ | আপডেট: ৯ জুলাই ২০২০ ১৮:১০
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পুরোনো ছবি
advertisement

আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতেই রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইনের সংশোধন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রিজেন্ট হাসপাতালের অপকর্ম সরকারের মদদেই হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার ‘রাজনৈতিক লসমূহের নিবন্ধন আইন : করোনাভাইরাস বিপর্য়য়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের আবারো সংবিধান বিরোধী পদক্ষেপ’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ এন্ড কমিউনিকেশনের আয়োজনে এ ভার্চুয়াল আলোচকরা নিজ নিজ বাসা থেকে এই আলোচনায় যুক্ত হন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইনের সংশোধনের উদ্দেশ্য একটাই- সেটা হচ্ছে আওয়ামী লীগকে বার বার ক্ষমতায় নিয়ে আসা, আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখা। নির্বাচন কমিশন তাদের দায়িত্ব পালন করছে, তারা তাদের প্রভুদেরকে ক্ষমতায় রাখার জন্য সমস্ত আইন তৈরি করছে।’

তিনি বলেন, ‘আসুন আমাদের দায়িত্ব আমরা পালন করি। জনগণের কাছে আমাদের যে কমিটমেন্ট আছে, তা নিয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই এবং এই সরকারকে চলে যেতে বাধ্য করি। নির্বাচন কমিশন নতুন করে গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারি।’

আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় নিয়ে আসা এবং তাদেরকে ক্ষমতায় রাখার প্রক্রিয়াটি ২০০৭ সালের এক-এগারোর সেনা সমর্থিত সরকার থেকে শুরু হয়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই প্রক্রিয়াটা শুরু হয়েছে এক এগারো থেকে। বিরাজনীতিকরণের একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে রাজনীতিকে দূরে সরিয়ে, রাজনৈতিকলগুলোকে একেবারে অকার্যকর করে। এখনো পরিকল্পিতভাবে সচেতনভাবে সেই কাজ চলছে। ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন একইভাবে নির্বাচন কমিশনগুলো তাদের দায়িত্ব পালন করেছে সেই দায়িত্বটা ছিল যে- আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় নিয়ে আসা। সংবিধান থেকে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা বাতিল করার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়ে ক্ষমতাসীন দলকে ক্ষমতায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

রিজেন্ট হাসপাতাল নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটা হাসপাতাল কী করে একটা মিথ্যা সার্টিফিকেট দিতে পারে। কালকে (গত বুধবার) আমি যে দেখলাম টেলিভিশনের খবরে-আমাদের সমস্ত মন্ত্রীরা তার (রিজেন্ট হাসপাতালের কর্ণধার মো. সাহেদ) সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্টভাবে পরিচিত, অত্যন্ত ঘনিষ্টভাবে তাদের সঙ্গে কথা বলছেন, কাজ করছেন। অর্থাৎ পুরোপুরি সরকারের মদদ নিয়ে এই অপকর্মটা তারা করেছে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সরকার চরম উদাসীনতা ও অবহেলার মধ্য দিয়ে মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেবে-এটা কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাই এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সত্যিকারের একটি গণতান্ত্রিক ও  কল্যাণমূলক রাষ্ট্র  নির্মাণ ও করতে চাই। এই অবস্থায় সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সমস্ত রাজনৈতিক লগুলোকে একটা জায়গায় আসতে হবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে শুদ্ধ করে আনতে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ কালীন সরকার এবং এই সরকারকে চলে যেতে হবে- এই দাবি তুলতে হবে।’  

বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য জহিরউদ্দিন স্বপনের পরিচালনায় এ ভার্চুয়াল সভায় আর বক্তব্য রাখেন দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসুর মাহমুদ চৌধুরী, বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজ ও নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিব আবদুর রশিদ সরকার প্রমুখ।

advertisement
Evaly
advertisement