advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ৪১৮ জন
কোভিড হাসপাতালগুলোর ৭৫ শতাংশ শয্যাই খালি

দেশে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৪১ জনের শনাক্ত ৩৩৬০

নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১০ জুলাই ২০২০ ১০:৪৬
প্রতীকী ছবি
advertisement

দেশে আগের দিন দুপুর থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত নতুন তিন হাজার ৩৬০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪১৮ জন। বর্তমানে কোভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে রোগী ভর্তি আছেন তিন হাজার ৫৯৬ জন, যা মোট শয্যার মাত্র ২৪.০৬ শতাংশ। বাকি ৭৫.৯৪ শতাংশ শয্যাই খালি রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে ১৪ হাজার ৯৪৫ সাধারণ শয্যা ও ৩৯৪টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে ৬ হাজার ৩০৫টিসহ ঢাকা বিভাগে রয়েছে ৮ হাজার ১৩৫ সাধারণ ও ২২৪টি আইসিইউ শয্যা। চট্টগ্রাম বিভাগে ২ হাজার ৩৬০ সাধারণ ও ৬৬টি আইসিইউ শয্যা। ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৮০টি সাধারণ ও ১৭টি আইসিইউ শয্যা। রাজশাহী বিভাগে এক হাজার ৬২০ সাধারণ ও ২৩টি আইসিইউ শয্যা। রংপুর বিভাগে ৭৫৭ সাধারণ ও ২০টি আইসিইউ শয্যা। খুলনা বিভাগে ৭৫৫ সাধারণ ও ১৮টি আইসিইউ শয্যা। বরিশাল বিভাগে ৪৪৩ সাধারণ ও ১০টি আইসিইউ শয্যা। সিলেট বিভাগে ৩৯৫ সাধারণ ও ১৬টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে।

জানা গেছে, এসব হাসপাতালগুলোয় গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন মাত্র ৪১৮ রোগী। গতকাল দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালগুলোর সাধারণ শয্যায় মোট তিন হাজার ৫৯৬ এবং আইসিইউ

শয্যায় ১৯১ রোগী ভর্তি ছিলেন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সাধারণ শয্যায় ১ হাজার ৭৫৭ ও আইসিইউ শয্যায় ১০৩ জন। চট্টগ্রাম বিভাগে সাধারণ শয্যায় ৯০৬ ও আইসিইউ শয্যায় ৪১ জন। ময়মনসিংহ বিভাগে সাধারণ শয্যায় ৪৯ ও আইসিইউ শয্যায় ৪ জন। রাজশাহী বিভাগে সাধারণ শয্যায় ১৪৪ জন ও আইসিইউ শয্যায় ৮ জন। রংপুর বিভাগে সাধারণ শয্যায় ৭৪ ও আইসিইউ শয্যায় ৬ জন। খুলনা বিভাগে সাধারণ শয্যায় ২২৮ ও আইসিইউ শয্যায় ১০ জন। বরিশাল বিভাগে সাধারণ শয্যায় ২৬৫ ও আইসিইউ শয্যায় ১০ জন। সিলেট বিভাগে সাধারণ শয্যায় ১৭৩ ও আইসিইউ শয্যায় ৯ জন ভর্তি আছেন। স্বাস্থ্য হিসাব বলছেÑ কোভিড হাসপাতালের নির্ধারিত সাধারণ শয্যায় ২৪.০৬ শতাংশ আর আইসিইউ শয্যায় ৪৮.৫০ শতাংশ রোগী রয়েছেন। বাকি সাধারণ শয্যার ৭৫.৯৪ ও আইসিইউ শয্যার ৫১.৫০ শতাংশ শয্যা খালি রয়েছে।

অভিযোগ আছে, হাসপাতালগুলোতে শয্যা খালি থাকলেও কোভিড রোগীদের ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না। আবার যারা ভর্তি হচ্ছেন, তারাও নানাভাবে হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন। গত বুধবার সকালে রাজধানীর কাফরুলের একজন করোনা আক্রান্ত রোগীকে তার স্বজনরা হলি ফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এর আগের দিন রাজধানীর মুগদা হাসপাতালে ভর্তি একজন রোগীকে আইসিইউতে নেওয়ার প্রয়োজন হলে স্বজনরা অনেক চেষ্টা-তদবির করেও আইসিইউ শয্যা পাননি। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, আইসিইউ শয্যা খালি থাকা সত্ত্বেও তাদের দেওয়া হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করেনি।

করোনায় মৃতের সংখ্যা ২২০০ ছাড়াল

দেশে আগের দিন দুপুর থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪১ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল দুই হাজার ২৩৮ জনে। এ সময় নতুন করে আরও তিন হাজার ৩৬০ জন করোনা আক্রান্তকে শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ ৭৫ হাজার ৪৯৪ জন। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন তিন হাজার ৭০৬ জন। এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৪৪ জন।

গতকাল দুপুরে কোভিড-১৯ সম্পর্কিত পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য বুলেটিনে এসব তথ্য জানান অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৫ হাজার ৮৬২টি এবং যার মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে ১৫ হাজার ৬৩২টি। পরীক্ষায় শনাক্তের হার ২১.৪৯ শতাংশ। দেশে এখন পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৯ লাখ ৪ হাজার ৭৮৪টি। এসব পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছে এক লাখ ৭৫ হাজার ৪৯৪ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪৮.১৭ ও মৃত্যুর হার ১.২৮ শতাংশ।

ডা. নাসিমা জানান, ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ২৯ পুরুষ ও ১২ নারী। মৃতের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে দুজন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৯ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে দুজন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে একজন এবং এক থেকে ১০ বছরের মধ্যে একজন রয়েছেন। এখন পর্যন্ত যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে পুরুষ এক হাজার ৭৭০ ও নারী ৪৬৮ জন।

অঞ্চল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ১২, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৪, রাজশাহী বিভাগে ২, খুলনা বিভাগে ৬, সিলেট বিভাগে ২, রংপুর বিভাগে ৩ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ২ জন রয়েছেন। এর মধ্যে হাসপাতালে ৩৮ জন ও বাসায় ৩ জন মারা গেছেন। এ সময়ে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ৮৭৯ জনকে। আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৬৬৮ জন। এখন পর্যন্ত মোট ছাড়া পেয়েছেন ১৬ হাজার ৯৫৫ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৭ হাজার ৬৭ জন।

advertisement
Evaly
advertisement