advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দ্রুতগতির দুই মামলার বিচারে করোনা ‘বাধা’

কবির হোসেন
১০ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১০ জুলাই ২০২০ ০৮:২৯
advertisement

সিলেটে শিশু সামিউল আলম রাজন (১৩) ও খুলনায় শিশু রাকিব (১২) হত্যাকাণ্ড ছিল বহুল আলোচিত দুটি ঘটনা। ২০১৫ সালে রাজনকে বেঁধে নির্যাতন করে এবং রাকিবকে পেটে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যা করা হয়। দুটি হত্যাকাণ্ড সে সময় সমাজকে ব্যাপকভাবে নাড়া দিয়েছিল। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ উদ্যোগে মামলা দুটির বিচার নিম্নআদালত ও হাইকোর্টে শেষ হয় দ্রুতগতিতে, যা ছিল বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে রেকর্ড।

কিন্তু আপিল বিভাগে আসার পর করোনার কারণে বিচার বন্ধ থাকায় আটকে গেছে দ্রুত গতির মামলা দুটির বিচার। আগের দুটি ধাপে দ্রুতগতিতে বিচার শেষ হলেও শেষ ধাপে এসে দীর্ঘ জটের মুখে পড়েছে আলোচিত মামলা দুটি।

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, চাঞ্চল্যকর মামলার ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের সব সময় বিশেষ নজর থাকে। সে কারণে এই দুটি হত্যার বিচার দ্রুত সময়ে হাইকোর্টে শেষ হয়েছে। এখন আপিল বিভাগেও হবে। করোনার প্রভাব কেটে গেলে নিয়মিত আদালত চালু হলে মামলা দুটির ব্যাপারে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রাজন হত্যা : ২০১৫ সালের ৮ জুলাই সিলেটের জালালাবাদ এলাকার বাদেয়ালি গ্রামের সবজি বিক্রেতা রাজনকে চুরির অপবাদ দিয়ে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন শেখপাড়ায় বেঁধে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। রাজনের লাশ গুম করার সময় একজন ধরা পড়ে। এর মধ্যেই রাজনকে নির্যাতনের ভিডিওচিত্র ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে সারাদেশে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় মামলার দায়েরের চার মাসের মধ্যে মাত্র ১৭ কার্যদিবসে বিচার সম্পন্ন করে একই বছরের ৮ নভেম্বর রায় ঘোষণা করেন সিলেটের বিচারিক আদালত।

রায়ে আসামি কামরুল ইসলাম, ময়না চৌকিদার, তাজউদ্দিন আহমদ বাদল ও জাকির হোসেন পাভেলকে মৃত্যুদ- এবং নুর মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে পাভেল পলাতক। অন্য আসামিদের মধ্যে মুহিত আলম, আলী হায়দার ও শামীম আহমদকে সাত বছর করে এবং দুলাল আহমদ ও আয়াজ আলীকে এক বছর করে কারাদ- দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার দুই দিনের মধ্যে ওই বছরের ১০ নভেম্বর নিম্নআদালত থেকে সব নথিসহ ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যু অনুমোদনের জন্য) হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি আসামিপক্ষে আপিল করা হয়। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে এ মামলার পেপারবুকও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়।

এর পর হাইকোর্টে মামলাটিতে ২০১৭ সালের ৩০ জানুয়ারি থেকে শুনানি শুরু হয়ে ১২ মার্চ শেষ হয়। হাইকোর্ট চারজনের মৃত্যুদ- এবং অপর পাঁচ আসামির সাজা বহাল রেখে ওই বছরের ১১ এপ্রিল রায় দেন। তবে নিম্নআদালতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নুর মিয়ার সাজা কমিয়ে ছয় মাসের কারাদ- দেওয়া হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ আপিল করে, যা এখন আপিল বিভাগে বিচারাধীন।

রাকিব হত্যা : ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট খুলনার টুটপাড়ায় মোটরসাইকেল গ্যারেজ শরীফ মোটরসে কম্প্রেসর মেশিনের মাধ্যমে পেটে বাতাস ঢুকিয়ে শিশু রাকিবকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তখন সারাদেশে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মামলা দায়েরের মাত্র তিন মাসের মধ্যে ১০ কার্যদিবস শুনানি করেই খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালত ২০১৫ সালের ৮ নভেম্বর রায় দেন। রায়ে শরীফ ও মিন্টুকে মৃত্যুদ- দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার দুই দিনের মধ্যে ওই বছরের ১০ নভেম্বর ফাঁসির রায় অনুমোদনের জন্য নিম্নআদালত থেকে সব নথিসহ ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এর পর প্রধান বিচারপতির নির্দেশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ মামলার পেপারবুক প্রস্তুত করে ২০১৭ সালের ১০ জানুয়ারি শুনানি শুরু করা হয়। মাত্র ১১ কার্যদিবস শুনানি শেষে ওই বছরের ৪ এপ্রিল রায় দেন হাইকোর্ট। মৃত্যুদ-প্রাপ্ত দুই আসামি মো. ওমর শরীফ ও তার আত্মীয় মিন্টু খানের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদ- দেওয়া হয়।

এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ ২০১৭ সালে আপিল করলেও আপিল বিভাগে এর শুনানি হয়নি। মামলা দুটির বিচার নিম্নআদালত ও হাইকোর্টে দ্রুতগতিতে এগিয়েছে এবং প্রায় একই সময়ে একই গতিতে চলছে। কিন্তু মামলা দুটি আপিল বিভাগে আসার পর বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে বিচার বন্ধ থাকায় বিচার আটকে আছে। আপিল বিভাগেও যাতে দ্রুত গতিতে মামলা দুটির বিচার শেষ হয় সেই প্রত্যাশা করছেন বিচারপ্রার্থীরা।

 

advertisement
Evaly
advertisement