advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের বয়স বাড়িয়ে বিল পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৯ জুলাই ২০২০ ২২:৩২
advertisement

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বিরোধিতার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বয়স ৬৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬৭ বছর করতে সংসদে বিল পাস হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের পক্ষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এ সংক্রান্ত ১৯৭২ সালের ‘দ্য বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার’ সংশোধন করতে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২০’ পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তি করেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। কোনো বিল সংসদে

উত্থাপনের পর সাধারণত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বিলটি সংসদীয় কমিটিতে পাঠান। তবে এই বিলের ক্ষেত্রে সেটি হয়নি। পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, ৬৭ বছর বয়স পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর থাকা যাবে।

বিদ্যমান আইনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার অনুযায়ী ৬৫ বছরের বেশি বয়স হলে কেউ গভর্নর পদে থাকতে পারবেন না। জানা গেছে, বিদ্যমান আইনে গভর্নর পদে ফজলে কবিরের মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ নেই। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারীর এই সময়ে ফজলে কবিরকে আরও দুই বছর রাখতে চায় সরকার। মূলত সে কারণেই আইন সংশোধনের প্রয়োজন হলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে করিমকে এ পদে নিয়োগ দিতেই আইনের সংশোধনী আনা হচ্ছে অভিযোগ তুলে জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সংসদ সদস্যরা আপত্তি জানান। বিএনপির সংসদ সদস্য হারুন অর রশীদ বলেন, একজনের জন্য এই আইন করা হচ্ছে। যোগ্য লোককে নিয়োগের পথ বন্ধ করা হচ্ছে। অর্থাৎ অন্য যারা আছেন তাদের অযোগ্য মনে করছি। খসড়া আইনটি প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, গভর্নর পদে বয়স ৬৭ করা হলে সিভিল সার্ভিসের সবাই চাইবে তাদেরও বয়স বাড়ানো হোক। এই দাবি উঠবে। সরকারের এ বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা উচিত।

জাতীয় পার্টির আরেক সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেন, এ আইনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে যিনি গভর্নর আছেন, তাকে ৬৭ বছর পর্যন্ত রাখা হবে। অভিজ্ঞতা, কর্মদক্ষতা কীভাবে নিরূপণ করব? রিজার্ভ চুরির টাকা তিনি ফেরত আনতে পারেননি। খেলাপি ঋণ উদ্ধার করতে পারেননি। বাংলাদেশ ব্যাংকের মনিটরিংয়ের ফাঁকে টাকা কীভাবে পাচার করে? এই পাচার বন্ধ করতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।

জবাবে অর্থমন্ত্রীর পক্ষে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো বক্তির জন্য নয়। গভর্নর পদের জন্য আইন করছে। সংসদ সদস্যরা অনেক যুক্তিসংগত কথা বলছেন। সবচেয়ে বড় যুক্তি বাস্তবতা। সেই বাস্তবতার জায়গা থেকে এই আইন করা হচ্ছে।

পরে বিএনপির হারুন অর রশীদ বলেন, আমরা দেখতে চাই এই আইন পাস হওয়ার পর নতুন কোন ব্যক্তিকে গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।’

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংককে শক্তিশালী করতে আইনটি করা প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তির জন্য এটা হচ্ছে না। প্রয়োজনের জন্য করা হয়েছে। সামনে কেউ যদি মনে করেন ৭০ করবেন তা করতে পারেন।

advertisement