advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

শ্রমিকের বেতনে আরও ২৫০০ কোটি টাকা

আকার বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৭৫০০ কোটি টাকা # ৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে সরকার

হারুন-অর-রশিদ
১০ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১০ জুলাই ২০২০ ০৮:৪৮
advertisement

করোনা সংকটে রপ্তানি আদেশ বাতিল ও রপ্তানি বন্ধ থাকায় রপ্তানিমুখী শিল্পের শ্রমিকদের তিন মাসের বেতন দিতে ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করে সরকার। তিন মাসের মধ্যে এপ্রিল ও মে মাসের বেতন দিতে খরচ হয়েছে ৪ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা। তহবিলের মাত্র ২৫৮ কোটি টাকা অবশিষ্ট থাকলেও জুনের বেতনের চাহিদা রয়েছে ২ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা। চাহিদার কারণে তহবিলের আকার বাড়িয়ে ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। বাড়তি আড়াই হাজার কোটি টাকার জন্য সরকারকে বলা হলেও সরকার কোনো টাকা দেয়নি। এখন এই টাকা দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহৎশিল্প ও সেবা খাতের জন্য গঠিত ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র জানায়, করোনার সংক্রমণ শুরু হলে বিশ্বের সব দেশ আমদানি-রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। ফলে নতুন আদেশ বন্ধ ছাড়াও আগের আদেশে তৈরি করা মালামাল শিপমেন্ট নেননি বিদেশি ক্রেতারা। এতে রপ্তানিমুখী কারখানাগুলো পণ্য বিক্রি করতে না পেরে তাদের আয় বন্ধ হয়ে যায়। তৈরি পোশাক, চামড়া, পাটজাতপণ্য, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন রপ্তানিমুখী শিল্পে ৫০ লাখ শ্রমিকের বেতন পাওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন দিতে সরকার বাজেট থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। কারখানার নামে ঋণ সৃষ্টি করে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সরাসরি শ্রমিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে এই বেতন দেওয়া হচ্ছে। বিনাসুদে এ ঋণ পাচ্ছেন কারখানার মালিকরা। শুধু এককালীন ২ শতাংশ সার্ভিস চার্জ নেওয়া হচ্ছে। আগের দুই মাসে ৪৭ ব্যাংকের মাধ্যমে বেতন দেওয়া হয়েছে। শেষ মাস জুনের বেতন চাহিদা রয়েছে ৩২টি ব্যাংকের ঋণগ্রহীতাদের। সরকার বাজেট থেকে অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৩০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ থেকে অনুদান হিসেবে এ ঋণ দিচ্ছে। কারণ এই ঋণ দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো সুদ নিচ্ছে না। ইতোমধ্যে কোন ব্যাংকে কত অনুদান দেওয়া হচ্ছে তা ব্যাংকগুলোকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থছাড়ও হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আবু ফরাহ মো. নাছের বলেন, সরকারের বরাদ্দ শেষ হয়ে যাওয়ায় ৩০ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে বাড়তি চাহিদার ঋণ দেওয়া হয়েছে। এখানে গ্রাহক ২ শতাংশ সার্ভিস চার্জ দেবেন আর ব্যাংক আরও ৭ শতাংশ সুদ পাবে সরকারের ভর্তুকি থেকে। ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলোর চাহিদামাফিক অর্থছাড় করা হয়েছে। প্রায় সব কারখানায় বেতনও দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, সবচেয়ে বেশি বেতন দিচ্ছে এক্সিম ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংকটির কাছে মাত্র ১৮ কোটি টাকা অবশিষ্ট থাকলে জুন মাসের বেতন দিতে ঋণের চাহিদা রয়েছে ২০৬ কোটি টাকা। ঘাটতি ১৮৭ কোটি টাকা অনুদান দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংকের ১৮১ কোটি টাকার চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে অনুদান পেয়েছে ১৭০ কোটি টাকা। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ১৬০ কোটি টাকা চাহিদা পুরোটাই অনুদান পেয়েছে। সাউথইস্ট ব্যাংকের মাধ্যমে জুনের বেতন দিতে চাহিদা ১৫৮ কোটি টাকা। কিন্তু পূর্বের বরাদ্দ থেকে মাত্র ১২ কোটি টাকা থাকায় ১৪৫ কোটি টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে পেয়েছে। এ ছাড়া মার্কেন্টাইল ব্যাংক ১২৩ কোটি, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ১২০ কোটি, প্রিমিয়ার ব্যাংক ১১৮ কোটি, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ১০৫ কোটি বাড়তি বরাদ্দ পেয়েছে। অন্য ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইস্টার্ন ৬০ কোটি, জনতা ৩৪ কোটি, অগ্রণী ৫৮ কোটি, রূপালী ৩০ কোটি, পূবালী ৯২ কোটি, বেসিক ১৬ কোটি, প্রাইম ৯৭ কোটি, স্যোসাল ইসলামী ৩২ কোটি, আইএফআইসি ৯০ কোটি, ন্যাশনাল ৪৯ কোটি, ঢাকা ৬৮ কোটি, ওয়ান ৯৭ কোটি, এনসিসি ৪২ কোটি, ব্যাংক এশিয়া ৭২ কোটি, স্ট্যান্ডার্ড ২৪ কোটি, ট্রাস্ট ২৯ কোটি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ৬৪ কোটি, যমুনা ৪৬ কোটি, ব্র্যাক ২৮ কোটি, এনআরবি কমার্শিয়াল ২৯ কোটি, স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ৭৩ কোটি ও এইচএসবিসি ৬৭ কোটি অতিরিক্ত চাহিদার কারণে বরাদ্দ পেয়েছে।

advertisement
Evaly
advertisement