advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রভাবশালীরা ফায়দা লুটছে, জলাবদ্ধতার শিকার মানুষ

সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
১০ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৯ জুলাই ২০২০ ২২:৪৩
advertisement

সন্দ্বীপ উপজেলার মাইটভাঙ্গা ইউনিয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি স্বয়ংক্রিয় স্লুইসগেটের দরজা তুলে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। এটি দিয়ে সাগরের পানি খালে ঢুকিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল মাছ চাষ করছে। সাগরের পানি খালে প্রবেশ করাতে গিয়ে পুরো এলাকায় জোয়ারের পানি ঢুকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।

দুই বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড মাইটভাঙ্গা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডেও খালের ওপর এই স্লুইসগেট নির্মাণ করে। জোয়ারের সময় এটির দরজা নিজ থেকে বন্ধ হয়ে জোয়ারের পানি লোকালয়ের ঢুকতে বাধা সৃষ্টি করে। ভাটার সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধি লোহার তৈরি হ্যান্ডেল দিয়ে স্লুইসগেটের দরজা তুলে লোকালয়ে জমে থাকা পানি বের করে দেয়।

কিন্তু এই নিয়ম ভেঙে মাইটভাঙ্গা ইউনিয়নের এই স্লুইসগেটটির দরজা জোয়ারের সময় ওপর দিকে তুলে মোটা দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। আবার ভাটার সময় গেটের দরজা নামিয়ে পানি আটকে রাখা হয়। ফলে জোয়ারের সময় পানি স্লুইসগেট দিয়ে সরাসরি লোকালয়ে প্রবেশ করে। বর্ষার বৃষ্টিতে লোকালয়ের পানি খালে এসে স্লুইসগেট দিয়ে নদীতে নিষ্কাশন না হয়ে জলবদ্ধতা আরও বাড়িয়ে তোলে। কারণ এখন সাগরের পানির উচ্চতা লোকালয়ের সমতলের চেয়ে বেশি। এতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে মাছ চাষের পুকুরের মাছ ভেসে যাচ্ছে। রাস্তাঘাট ডুবে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জমে থাকা পানিতে রাস্তাঘাট, সবজি বাগান, গবাদিপশুর চারণভূমি নষ্ট হচ্ছে।

জোয়ারের সময় নদী থেকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পানির সঙ্গে স্লুইসগেট দিয়ে খালে ঢুকে। অমাবস্যা, পূর্ণিমা ও বৃষ্টির সময় জোয়ার স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি হওয়ায় তখন পানি ঢুকিয়ে জলবদ্ধতার তৈরি করে। তিন-চার দিন পর স্লুইসগেটের মুখে জাল বসিয়ে পানি ছেড়ে জমানো মাছ ধরে।

জানা যায়, স্থানীয় নামার বাজার এলাকার তসলিমের নেতৃত্বে মাছ ধরার জন্য জলাবদ্ধতা তৈরি করা হয়। প্রায় ২০ দিন আগে ইউএনও অফিস থেকে তসলিমকে স্লুইসগেটের হ্যান্ডেল দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি গেটের দরজা খুলে পানি ঢুকিয়ে জলবদ্ধতা তৈরি করছেন।

এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ রয়েছে। মাইটভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. দিদারুল আলম বলেন, মাত্র এক গেটের একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়েছে। তাতেও আবার এই অত্যাচার চলছে।

স্লুইসগেটের অপব্যবহার সম্পর্কে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেকশন অফিসার মো. ফরহাদ আইসলোশন সেন্টার থেকে মুঠোফোনে বলেন, আমরা স্থানীয় একজন থেকে প্রায় স্লুইসগেটের চাবি (হ্যান্ডেল) নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেছি। তিনি কাকে দিয়েছেন সেটা বলতে পারব না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

advertisement
Evaly
advertisement