advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

চাকরির প্রলোভনে ভিয়েতনাম, তিন প্রতারক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৯ জুলাই ২০২০ ২২:৪৩
advertisement

গ্রামের নিরীহ মানুষদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভিয়েতনামে নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে তিন দালালকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৩। গত বুধবার রাজধানীর পল্টন এলাকায় মাশ ক্যারিয়ার সার্ভিস ও দ্য জেকে ওভারসিস লিমিটেডের অফিস থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেনÑ জামাল উদ্দিন ওরফে সোহাগ, কামাল হোসেন ও জামাল হোসেন। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ২৫৪টি বাংলাদেশি পাসপোর্টও জব্দ করা হয়।

প্রতারিত হয়ে ভিয়েতনাম থেকে সম্প্রতি দেশে ফেরত আসা ১১ বাংলাদেশির অভিযোগের ভিত্তিতে এই তিন

প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়। একই ভাবে ভিয়েতনাম গিয়ে আটক হয়েছেন আরও ২৭ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব ৩-এর অধিনায়ক রকিবুল হাসান। তিনি জানান, প্রতারণার অংশ হিসেবে গ্রেপ্তারকৃতরা একাধিকবার ভিয়েতনামে গিয়ে সেখানকার দালালদের সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানকার দালালরা জানান, সেখানে বাংলাদেশিদের কাজের সুযোগ রয়েছে। এর পর বাংলাদেশি এজেন্সিগুলো সাধারণ মানুষকে প্রলোভন দেখায় যে, ভিয়েতনামে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার কাজের সুযোগ আছে। সেই প্রলোভনে পা দিয়ে ভিকটিমরা ওই দেশে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে তাদের কাছ থেকে চার লাখ করে টাকা নেওয়া হয় এবং পাসপোর্ট বানিয়ে ভিয়েতনামের দালালদের কাছে পাঠানো হয়।

এর পর দালালেরা ভিয়েতনাম থেকে অফার লেটার তৈরি করে বাংলাদেশের এজেন্সিগুলোতে পাঠায়। সেই অফার লেটার দেখিয়ে ভিয়েতনাম অ্যাম্বাসি থেকে ভিসা সংগ্রহ করে দালালচক্র। সাধারণত বিদেশি বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে ভিয়েতনাম সরকার এক বছরের জন্য ডিএন ভিসা দিয়ে থাকে। সে জন্য প্রত্যেক অভিবাসীকে দুই হাজার মার্কিন ডলার নিয়ে যেতে বাধ্য করে এজেন্সিগুলো।

রকিবুল হাসান আরও বলেন, এভাবে সাধারণ মানুষ ভিয়েতনামে প্রবেশের পর সেখানকার দালালরা বিমানবন্দর থেকে তাদের রিসিভ করে এবং তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে আটক রাখা হয়। পরবর্তীতে তাদের পরিবার থেকে টাকা চাওয়া হয়। স্থায়ী কাজ না দিয়ে ছোটখাটো কাজ দেওয়া হয়। এ অবস্থায় তাদের আর দেশে ফিরে আসা সম্ভব হয় না। শুরু হয় মানবেতর জীবনযাপন।

একই প্রক্রিয়ায় ভিয়েতনামে যাওয়া নাজমুল হাসান (২৬) অসুস্থ হয়ে গেলে ৩ এপ্রিল বিনাচিকিৎসায় মারা যান। তার স্বজনরা দ্য জেকে ওভারসিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সহযোগিতা পাননি। পরে ২৭ এপ্রিল তাকে সেখানে দাফন করা হয়। এ ছাড়াও জেকে ওভারসিস ২০১৯ সালের নভেম্বরে ১৪ বাংলাদেশিকে ভিয়েতনামে পাঠায়, যাদের কারোরই এখনো কাজের সুযোগ মেলেনি।

র‌্যাব অধিনায়ক আরও বলেনÑ অনুসন্ধানের শুরুতে এ ঘটনার সঙ্গে মাশ ক্যারিয়ার সার্ভিস, জেকে ওভারসিস লিমিটেড, অ্যাডভেন্ট ওভারসিস লিমিটেড, মেসার্স সন্ধানী ওভারসিস লিমিটেড ও আল নোমান হিউম্যান রিসোর্স লিমিটেডসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ভিয়েতনামে অবস্থানরত বাংলাদেশি দালাল আব্দুল জব্বার, মোস্তফা, গোলাম আজম সুমন, কল্পনা, আজমীর, মিলন, শোভন, আতিক প্রমুখের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও র‌্যাবের এ কর্মকর্তা জানান।

advertisement
Evaly
advertisement