advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্সের সিইও অপসারণ হচ্ছেন

আবু আলী
১০ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৯ জুলাই ২০২০ ২২:৪৩
advertisement

বীমা আইন লঙ্ঘন, অনিয়ম, জালিয়াতি, আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করায় ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মীর নাজিম উদ্দিন আহমেদকে অপসারণ করা হচ্ছে। পরিচয় গোপন করে মোটা অঙ্কের বেতনে নিজের ছেলেকে নিয়োগ দেওয়াসহ অবলিখন কর্মকর্তাকে এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ এবং অনভিজ্ঞ জনবল নিয়োগ দিয়ে অবৈধভাবে বেতন উত্তোলন করেন তিনি। এ ছাড়াও বীমা আইন ও কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়, গরমিল তথ্য প্রদানসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও জালিয়াতি করা হয়েছে। এসব প্রমাণ পেয়েছে নন-লাইফ বীমা খাতে অবৈধ কমিশন, দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধে গঠিত বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সার্ভিলেন্স টিম। এ ঘটনায় ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে জরিমানাসহ মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার অপসারণ এবং কোম্পানিটির সিটি সেন্টার শাখা কার্যালয় বন্ধের সুপারিশ করা হয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

অভিযোগের ব্যাপারে ইসলামী কমার্শিয়াল

ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মীর নাজিম উদ্দিন আহমেদ আমাদের সময়কে বলেন, পারলে অপসারণ করুক।

আইডিআরএর এক শীর্ষ কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, অনিয়ম, আইন লঙ্ঘন ও জালিয়াতির বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মীর নাজিম উদ্দিন আহমেদ তার জবাব দিয়েছেন। সেখানেই অভিযোগ স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আইডিআরএ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে।

৭ পৃষ্ঠার লিখিত জবাবে ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পঞ্চম পৃষ্ঠায় দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন।

আইডিআরএর প্রতিবেদনে বলা হয়, মীর নাজিম উদ্দিন আহমেদ তার ছেলে মীর তাসীন ইসমাম আহমেদ রেদোয়ানকে বীমা কাজের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও ব্যবসা লক্ষ্যমাত্রার ওপর এবং মাসিক ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্দিষ্ট বেতনে জেনারেল ম্যানেজার (উন্নয়ন) পদে কোম্পানিতে নিয়োগ দেন। তবে তার নিয়োগপত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট দাখিলের শর্ত থাকলেও তার ব্যক্তিগত নথিতে কোনো সার্টিফিকেট পাওয়া যায়নি। এ ছাড়াও পিতার পরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্তভাবে ‘এম এন আহমেদ’ ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আইডিআরএর নির্বাহী পরিচালকের (প্রশাসন) কাছে সাক্ষাৎকারে মীর তাসীন সেপ্টেম্বর, ২০১৯ মাসে ৭/৮টি মোটর ইন্স্যুরেন্স পলিসি সংগ্রহের কথা জানিয়েছেন। তবে কোম্পানির কাগজপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায় সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সালে ১১০টি পলিসির মাধ্যমে মোট প্রিমিয়ামের ৪০% সংগ্রহ হয়েছে মুখ্য নির্বাহীর ছেলে মীর তাসীন ইসমাম আহমেদ রেদোয়ানের মাধ্যমে। মীর তাসীনের বক্তব্যে এটা স্পষ্ট, তিনি মোট প্রিমিয়ামের ৪০% সংগ্রহ করেননি এবং এতে প্রমাণিত হয় উন্নয়ন কর্মকর্তার দ্বারা প্রিমিয়াম সংগ্রহের ডকুমেন্টটি সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা তথ্যের ওপর প্রদর্শিত।

বীমা আইনের ৮০ ধারা অনুসারে নিজে, স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান, পিতা বা মাতা, ভ্রাতা বা বোনের মাধ্যমে এমন কোনো কার্যাকলাপে জড়িত হন, যদ্দ¡ারা বীমাকারীর স্বার্থে ব্যাঘাত হতে পারে। এই বিধান অনুসারে ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা তার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এবং বীমা বিষয়ে অনভিজ্ঞ নিজ ছেলেকে ব্যবহার করে বীমাকারীর স্বার্থে ব্যাঘাত ঘটিয়েছেন এবং বীমা বাজারে চরম বিশৃঙ্খলার পরিবেশ সৃষ্টি করে স্বীয় পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। ফলে তাকে অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছে আইডিআরএ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স ২০১৮ সালে ৩.৫১ কোটি টাকা, ২০১৯ সালে প্রথম কোয়ার্টারে ১.৫৭ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ০.৫৬ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে। কোম্পানির অনুমোদিত ব্যয়সীমার অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের প্রবণতার ফলে কোম্পানির বিনিয়োগ কম হয় এবং বীমা দাবি পরিশোধের সক্ষমতা হ্রাস পেয়ে বীমা গ্রাহকদের স্বার্থ ক্ষুণœœ হয়েছে। সিটি সেন্টার শাখায় আগস্ট ২০১৯ মাসে নিট প্রিমিয়াম ২০ লাখ ৪০ হাজার ৯৮৯ টাকা সংগ্রহের জন্য উক্ত নিট প্রিমিয়ামের মোট ৪৭.৯০% অর্থ বেতন ও কমিশন বাবদ দেওয়া হয়েছে মর্মে দেখানো হয়। এজেন্ট এবং উন্নয়ন কর্মকর্তাদের হাজির করার জন্য বলা হলে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা সিটি সেন্টার শাখার সব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে হাজির করতে ব্যর্থ হন। এ ক্ষেত্রে প্রতীয়মান হয়, কোম্পানিটি সিটি সেন্টার শাখা উক্ত প্রিমিয়াম সংগ্রহের লক্ষ্যে নিট প্রিমিয়ামের ৪৭.৯০% উত্তোলন করে অধিকাংশ পরিমাণ অর্থ বীমা গ্রাহককে দিয়েছে, যা বীমা আইন ২০১০-এর ৬০ ধারার বিধানের লঙ্ঘন।

সার্ভিলেন্স টিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, নন-লাইফ বীমা কোম্পানির কমিশন সংক্রান্ত অনিয়ম দূর করার লক্ষ্যে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের জারি করা সব সার্কুলারের নির্দেশনা পরিপালন না করে ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স বিভিন্ন অপকৌশল গ্রহণ করে। এর মধ্যে অপেশাদার এবং অনভিজ্ঞ লোককে কোম্পানির উচ্চপদে অধিক বেতন-ভাতাদিসহ আর্থিক সুবিধা দিয়ে উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের সার্কুলার নম্বর নন-লাইফ ৬৪/২০১৯ এবং নন-লাইফ ৭০/২০১৯ জারির পর অবৈধ কমিশনের নামে গ্রাহককে নির্ধারিত প্রিমিয়ামের চেয়ে হ্রাসকৃত রেটে অবৈধ সুবিধা প্রদানের উদ্দেশ্যে জানুয়ারি ২০১৯ থেকে অক্টোবর ২০১৯ মাসে উচ্চ পর্যায়ের বিভিন্ন পদবি দিয়ে নতুন নতুন উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়। কর্মকর্তাদের বেতনশিটের সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত নথি পরীক্ষান্তে দেখা যায়, প্রকৃত লোক স্বাক্ষর ব্যতিরেকে বেতন উত্তোলন করেছেন এবং স্বাক্ষর না করেও বেতন তোলা হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাকে তার সিটি সেন্টার শাখার উন্নয়ন কর্মকর্তাদের নিয়ে কর্তৃপক্ষের অফিসে হাজির হতে নির্দেশনা দিলেও তিনি সবাইকে হাজির করতে সক্ষম হননি। ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে বীমা কোম্পানিটির সিটি সেন্টার শাখার উন্নয়ন কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকারে দেখা গেছে তাদের মধ্যে অনেকের বীমা বিষয়ে ন্যূনতম জ্ঞান নেই এবং এদের অনেকেই ২০১৯ সালের জুলাই মাসের পর শাখায় যোগদান করেছেন। তাদের মধ্যে কোম্পানির একজন কর্মকর্তার স্ত্রীও রয়েছেন। এতে প্রতীয়মান হয়, শুধু অবৈধভাবে কমিশনের নামে টাকা পলিসি গ্রাহককে জোগানের এবং বীমাকারী কর্তৃক আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এ অপকৌশল অবলম্বন করা হয়েছে।

advertisement
Evaly
advertisement