advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দেশের ইতিহাসে সংক্ষিপ্ততম বাজেট অধিবেশন সমাপ্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৯ জুলাই ২০২০ ২৩:১৬
advertisement

করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যে অনুষ্ঠিত দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত বাজেট অধিবেশন শেষ হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ হওয়া ৯ কার্যদিবসের এই অধিবেশনে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের ওপর আলোচনা হয়েছে মাত্র দুই দিন। বাজেটের ওপর আলোচনার দিন ও ঘণ্টার হিসেবে এটি ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে সব থেকে কম। অতীতে বাজেটের ওপর ৪০ থেকে ৬৫ ঘণ্টার মতো আলোচনা হয়েছে। এবার আলোচনা হয়েছে মাত্র ৫ ঘণ্টা ১৮ মিনিট।

বৈশ্বিক মহামারীর মধ্যে গত ১০ জুন বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। শুরুর দিন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লার মৃত্যুতে আনা শোকপ্রস্তাব গ্রহণের মধ্য দিয়ে বৈঠক মুলতবি করা হয়। পরদিন ১১ জুন সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট পেশ হয়। করোনা

মহামারীকালে এ বছর বাজেট উপস্থাপনেও ছিল ভিন্নধর্মী আয়োজন। প্রতিবছর অর্থমন্ত্রীকে তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে সংসদে বক্তব্য দিয়ে বাজেট উপস্থাপন করতে দেখা গেলেও এবার মাত্র ৫৭ মিনিটে বাজেট উপস্থাপন শেষ হয়। এর মধ্যে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল মাত্র ৭-৮ মিনিট। বাকি পুরো সময়টা ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাজেটের বিস্তারিত বিষয় তুলে ধরা হয়। বাজেট ডকুমেন্ট বিতরণেও ছিল এবার সাদামাটা আয়োজন। দুই দিন বিরতি দিয়ে ১৪ জুন পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি করা হয়। এরই মাঝে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাসিম ও ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ মুহম্মদ আবদুল্লাহ মারা যান। যার ফলে ১৪ জুনের বৈঠকও শোকপ্রস্তাব গ্রহণের মধ্যে শেষ হয়। যদিও পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ১৪ জুন বৈঠকে সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনার কথা ছিল। পরদিন ১৫ জুন মাত্র এক ঘণ্টা আলোচনার মধ্য দিয়ে সম্পূরক বাজেট পাস হয়। এর পর ২৩ জুন

পর্যন্ত বৈঠক মুলতবি করা হয়। ২৩ জুন বেলা ১১টায় বৈঠক বসে কয়েকটি বিল উপস্থাপন শেষে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। এর আগে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংসদে বক্তব্য দেন। ওই দিন ১১ জন সংসদ সদস্য বাজেটের ওপর আড়াই ঘণ্টা আলোচনা করেন। এর পর আরও ছয় দিন বিরতি দিয়ে ২৯ জুন সংসদের বৈঠক বসে। ওই দিন বাজেটের ওপর প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনাসহ চারজন এক ঘণ্টা ৫০ মিনিট আলোচনা করেন। এর পর পাস হয় অর্থবিল। পরদিন ৩০ জুন বাজেট পাস হয় সংসদে। মোট ১৮ জন সংসদ সদস্য পাঁচ ঘণ্টা ১৮ মিনিট বাজেটের ওপর আলোচনা করেন। বিল পাস হয় পাঁচটি।

প্রতিবছর বাজেট পাসের সময় অন্তত অর্ধডজন দাবির ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হলেও এবার মাত্র দুটি মন্ত্রণালয়ের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রণালয় দুটি ছিল স্বাস্থ্য ও আইন। এবার বাজেটে ৫৯টি দাবির বিপরীতে ৪২১টি ছাঁটাই প্রস্তাব এসেছিল। জাতীয় পার্টি ও বিএনপির ৯ জন সদস্য এই ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো দিয়েছিলেন। এবার বাজেট অধিবেশনে সম্পূরক বাজেটের ওপর দুই দিন এবং সাধারণ বাজেটের ওপর ছয় দিন আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়। সব মিলিয়ে ২০/২২ ঘণ্টার মতো আলোচনার পরিকল্পনা ছিল। তবে মাঝপথে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এই পরিকল্পনায় কাটছাঁট করা হয়। এবার অধিবেশনে সামাজিক দূরত্ব মেনে বসানো হয় সংসদ সদস্যদের। সেজন্য অধিবেশনে উপস্থিতি ৮০-৯০ জন সাংসদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়।

গতকাল দুপুরে অধিবেশন সমাপনী সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের আদেশ পড়ে শোনানোর মধ্য দিয়ে সমাপ্তি টানেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। স্পিকার বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বিশেষ পরিস্থিতিতে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করে এ অধিবেশন পরিচালনা করা হয়েছে। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সতর্কতার সঙ্গে অধিবেশন চালানো হয়েছে। কার্যপ্রণালি বিধি অনুসরণ করে অধিবেশন পরিচালনা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সফলভাবে অধিবেশন সমাপ্ত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

advertisement
Evaly
advertisement