advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিশ্বব্যাপী বেড়েছে করোনা সুরক্ষা সামগ্রীর চাহিদা

আব্দুল্লাহ কাফি
১০ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৯ জুলাই ২০২০ ২৩:১৬
advertisement

করোনা ভাইরাস মহামারীতে এখন বিপর্যস্ত বিশ্ব অর্থনীতি। ক্রেতাদের চাহিদা না থাকায় বাংলাদেশের পোশাকসহ অন্য রপ্তানি খাতও এখন কঠিন সময় পার করছে। তবে এ সময়ে সারাবিশে^ই মাস্ক, বিশেষ পোশাকের মতো ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর (পিপিই) বিপুল চাহিদা চোখ এড়ায়নি উদ্যোক্তাদের। বিষয়টি মাথায় রেখে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের কেউ কেউ ব্যবসার ধরন পাল্টাচ্ছেন। তারা মনে করছেন, বাংলাদেশের রপ্তানিতে পিপিই আশীর্বাদস্বরূপ, এগুলোর রপ্তানিও বেড়েছে। আর সরকারও জানিয়েছে, পিপিই রপ্তানির ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্র জানায়, সারাবিশে^ পিপিইর ব্যাপক চাহিদায় এটি রপ্তানির মাধ্যমে ব্যবসার সুযোগ সরকার হাতছাড়া করতে চায় না। ব্যবসায়ীদের এ জন্য সব ধরনের সুবিধা দিতে সরকার প্রস্তুত। প্রয়োজনে কাঁচামাল ও মেশিনারিজ আমদানিতেও শুল্ক সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এ ছাড়াও রপ্তানি বাড়াতে মন্ত্রণালয় ও ইপিবি সার্বক্ষণিক তদারকি করছে।

শিল্প উদ্যোক্তারাও বলছেন, পিপিই রপ্তানির মাধ্যমে ব্যবসার এই সাময়িক সুযোগ কাজে লাগানো প্রয়োজন। বিশেষ করে এসব পোশাক হাসপাতালগুলোয় প্রয়োজন পড়ে। তাই

পোশাক কারখানার সাধারণ মেশিনারিজ দিয়ে এই পোশাক তৈরি করা সম্ভব নয়। এর জন্য আলাদা মেশিনারিজ ও প্রশিক্ষিত দক্ষ কর্মী প্রয়োজন, যা আমাদের দেশে অপ্রতুল। এ ক্ষেত্রে সরকারের সহায়তা প্রয়োজন।

ইপিবির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বাংলাদেশ ৪৪ কোটি ৬৭ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পিপিই রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় এসেছে পুরো শরীর আবৃত করার বিশেষ পোশাক বিক্রি থেকে। দুই ক্যাটাগরিতে পুরুষ এবং নারীদের জন্য আলাদাভাবে তৈরি এ পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৩২ কোটি ৬২ লাখ ৩০ হাজার ডলারের। পিপিই রপ্তানির পরের অবস্থানে আছে চিকিৎসা প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম (মেডিক্যাল প্রটেকটিভ গিয়ার)। চারটি বিশেষ ক্যাটাগরিতে এ খাতে রপ্তানি হয়েছে ৮ কোটি ৬৮ লাখ

৫০ হাজার ডলারের পণ্য। এ ছাড়া ১ কোটি ৫২ লাখ ৬০ হাজার ডলারের তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক, ১ কোটি ১৫ লাখ ৮০ হাজার ডলারের অন্যান্য মাস্ক ও সার্জিক্যাল আইটেম এবং ৬৮ লাখ ৪০ হাজার ডলারের মেডিক্যাল ও সার্জিক্যাল ব্যবহারের সুরক্ষা গার্মেন্ট পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

এ বিষয়ে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে পুরো বিশ্ব অর্থনীতি বিপর্যস্ত। বিশ্ববাজারে পণ্যের চাহিদা না থাকায় বাংলাদেশের রপ্তানিও কমেছে। তবে এই দুঃসময়ে পিপিই রপ্তানি আমাদের জন্য বড় সুযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সুযোগটি আমরা কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চাই না। পিপিই রপ্তানির ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশের কমার্শিয়াল কাউন্সিলরদের বাজার যাচাইয়ের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোন কোন দেশে কেমন চাহিদা রয়েছে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে তথ্য পাওয়ার পরে আরও জোরদারভাবে এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখা হবে। পিপিই যেহেতু অপ্রচলিত পণ্য, তাই রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রণোদনার সুযোগ রয়েছে। উদ্যোক্তারা এই সুযোগটা পাবেন। একই সঙ্গে কাঁচামাল আমদানি ও মেশিনারিজ আমদানির ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে শুল্ক সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় থাকবে।’

ইপিবি মহাপরিচালক অভিজিৎ চৌধুরী বলেন, করোনার শুরু থেকেই বিভিন্ন দেশ থেকে বিচ্ছিন্নভাবে পিপিই চাহিদা আসতে থাকে। আমাদের যেহেতু মানসম্পন্ন পণ্য পাঠাতে হয় তাই যে যার মত পণ্যটি তৈরি করলে আন্তর্জাতিক মান রক্ষা না-ও হতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। তাই আমরা বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত কমার্শিয়াল কাউন্সিলরদের চিঠি দিয়েছি, যাতে তারা বাজার বিশ্লেষণ করে চাহিদার তথ্য দিতে পারেন। তাদের সুপারিশ অনুযায়ী সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। বিশেষ করে ইউরোপ, আমেরিকা ও লাতিন আমেরিকায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা পোশাকের চাহিদা রয়েছে। এসব দেশ থেকে অর্ডার আসছে। যারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে তাদের শিল্পমালিকদের কাছে পাঠানো হচ্ছে।’

তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহ-সভাপতি ফয়সাল সামাদ আমাদের সময়কে বলেন, ‘পিপিই অপ্রচলিত পণ্য। করোনা মহামারীর আগে এর তেমন চাহিদা ছিল না, এখন চাহিদা বেড়েছে। তবে এটা দীর্ঘস্থায়ী নয়, সাময়িক। তাই এর ওপর পুরোপুরি ভিত্তি করে রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব নয়। এ ছাড়া দেশের সব শিল্পকারখানা পিপিইর বিশেষ পোশাক তৈরি করতেও পারে না। তাই রপ্তানির ক্ষেত্রে এটি সাময়িক সহায়ক হতে পারে, দীর্ঘমেয়াদি নয়।

অন্যদিকে বিজিএমইএর পরিচালক মোহাম্মদ নাসির বলেন, বর্তমান দুঃসময়ে পিপিই রপ্তানি বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। এ সুযোগকে কাজে লাগানো দরকার। এ ক্ষেত্রে সরকারের নীতি সহায়তা প্রয়োজন। যদিও সব কারখানা এ পোশাক তৈরি করতে পারবে না, তার পরেও যারা তৈরি করতে পারবে তাদের জন্য নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি করতে হবে।

advertisement