advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

বগুড়া-১ উপনির্বাচন
ভোটারদের কেন্দ্রে আনাই চ্যালেঞ্জ

প্রদীপ মোহন্ত, বগুড়া ও আল মামুন সোনাতলা
১০ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৯ জুলাই ২০২০ ২৩:১৬
advertisement

বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিতে পারে। কারণ করোনার মহামারীতে কর্মহীন মানুষ এবং বন্যা পরিস্থিত নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোটের কোনো আগ্রহ নেই। এর মধ্যে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করার কারণে ভোট উৎসবে অনেকটাই ভাটা পড়েছে। আগামী ১৪ জুলাই এ আসনে ভোটগ্রহণের দিন ধরা হয়েছে।

বিএনপি মাঠে না থাকলেও গোটা নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও দলীয় নেতাকর্মীরা। মোটরসাইকেল শোডাউন, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটের ইমেজ তৈরির চেষ্টা করছেন তারা। তবে অন্য প্রার্থীরাও চালাচ্ছেন প্রচার। কিন্তু এত প্রচারের পরও ভোটের প্রতি আগ্রহ নেই ভোটারদের।

সোনাতলা উপজেলার সোনাকানিয়া গ্রামের কৃষক ঠা-া মিয়া ও হুয়াকুয়া গ্রামের দিনমজুর তোফাজ্জল হোসেন বলেন, বাঙ্গালী নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকার কারণে বন্যা নিয়ে আমরা ভীষণ চিন্তিত। বন্যায় বাড়ি ডুবে গেছে। এ অবস্থায় ভোটের বিষয় আমাদের মাথায় নেই।

বন্যার কারণে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার ৫৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩টি ভোটকেন্দ্র বন্যার পানি ওঠায় ওই ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন করে নতুন ৩টি প্রতিষ্ঠানে ভোটগ্রহণের জন্য চিঠি দিয়েছে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে। তবে এবারে কোনো ভোটকেন্দ ঝুঁকিপূর্ণ নয় বলে জেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা গেছে।

সারিয়াকান্দি উপজেলার চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নের যমুনা নদীর দুর্গম চর উত্তর শিমুলতাউড়। এক মাস আগেও এই চরে বসবাস ছিল দুই শতাধিক পরিবারের। এরই মধ্যে যমুনার প্রবল ভাঙনের কারণে উত্তর শিমুলতাইড় চরের প্রায় ২০০ পরিবার বসতবাড়ি হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।

শিমুলতাইড় চরের কৃষক মোস্তফা আলী সাকিদার বলেন, যমুনার প্রবল ভাঙনে বিলীন হয়েছে পৈতৃক ভিটেমাটি, জায়গাজমি। সব হারিয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঠাঁই নিয়েছি দুর্গম চরের একটি গুচ্ছগ্রামের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে। ওই চরের ২০০ পরিবারের কারও কাছেই এখন ভোটের কোনো আনন্দ নেই। ভোটের দিন কেন্দ্রে যেতে পারব বলে মনে হয় না।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সোনাতলা উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী হাবিবুর রহমান বলেন, ভোটগ্রহণের সময় খুব কম। করোনা ও বন্যার কারণে সাধারণ মানুষ চিন্তিত। এ ছাড়া বড় দলের এক প্রার্থী নির্বাচন বর্জনের কারণে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম হতে পারে।

বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার রহমান শান্ত বলেন, করোনা ও বন্যার কারণে ভোটার উপস্থিতি কম হতে পাবে। এ ছাড়া ভোট স্থগিতের পর আবার অল্প সময়ের মধ্যে ভোটের তারিখ ঘোষণার কারণে প্রচার এখনো সেভাবে হয়নি। তাই অনেক মানুষই নির্বাচনের বিষয়টি জানেন না। ব্যাপক প্রচার চালালে ভোটার উপস্থিতি বাড়তে পারে বলে তিনি জানান।

সোনাতলা উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এএসএম জাকির হোসেন জানান, সাংবিধানিক বাধ্যবাধতার কারণে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। তাই নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১৪ জুলাইয়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির বলেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিজয়ী করতেই এমন দুর্যোগকালে ভোট নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ভোট যাতে তারা লুটপাট করতে পারে, লোকজন যাতে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হতে না পারেন এ জন্য তারা দুর্যোগকালীন সময়ের এ তারিখ বেছে নিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাহাদারা মান্নান বলেন, বন্যা পরিস্থিতি খুব একটা প্রভাব ফেলবে না নির্বাচনে। বন্যা না থাকলেই বরং ভোটারদের কষ্ট হয় কেন্দ্রে আসতে। এখন নৌকা দিয়ে যাতায়াত করতে তাদের জন্য সুবিধা হবে।

advertisement
Evaly
advertisement