advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সিরাজগঞ্জে অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও ছাত্রলীগ নেতা নিহত

জেলা আ.লীগ কার্যালয় ও দলীয় কার্মকা- বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
১০ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৯ জুলাই ২০২০ ২৩:১৬
advertisement

দলীয় কোন্দল ও ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হক বিজয় হত্যাকা-ের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় এবং দলের সব ইউনিটের রাজননৈতিক কর্মকা- বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর থেকে দলীয় কার্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে। রাতেই জেলা আওয়ামী লীগের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দলের সব ইউনিটের রাজনৈতিক কর্মকা- বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়।

আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা দুই পক্ষকেই শান্তি বজায় রাখার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি। যারাই সহিংসতা করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।’ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সাংগঠনিক কর্মকা- বন্ধ রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, করোনার মধ্যে দলীয় কার্যালয়ে কী কাজ? আমরা কেন্দ্রীয় কার্যালয়েই তো সীমিত পরিসরে কাজ করছি। এখন তো সভা-সমাবেশ করার সময় নয়। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর সময়। সে জন্য তাদের দলীয় কার্যালয় বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

এদিকে বুধবার রাতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল লতিফ বিশ্বাস ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না এমপি স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আওয়ামী লীগের সব ইউনিট এবং সহযোগী সংগঠনগুলোকে করোনাকালে জনসমাবেশ ঘটে এমন রাজনৈতিক কর্মকা- বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়। কোনো জরুরি বা বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের আগে অবশ্যই তা দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে পরামর্শ

করার জন্য বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম জানান, জেলার আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতির সমাধানে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের যৌথ আহ্বানে বুধবার এক জরুরি বৈঠক হয়। বৈঠকে সাময়িকভাবে দলীয় কার্যক্রম সীমিত করার অনুরোধ করা হয়। এরপর তাদের মধ্যে একমত হয়েই কার্যক্রম সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেন নেতারা।

জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ বলেন, প্রশাসনিক নির্দেশেই আমাদের এমন উদ্যোগ নিতে হয়েছে। আমরা আওয়ামী লীগসহ সব অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছি।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন বিকালে প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম স্মরণে ছাত্রলীগ আয়োজিত দোয়া মাহফিলে যোগ দিতে যাওয়ার পথে ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ও কামারখন্দ সরকারি হাজী কোরপ আলী ডিগ্রি কলেজ শাখার সভাপতি এনামুল হক বিজয়কে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষ। ৯ দিন লাইভ সাপোর্টে থাকার পর ৫ জুলাই সকালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বড় ভাই রুবেল বাদী হয়ে ২৭ জুন জেলা ছাত্রলীগের দুই সাংগঠনিক সম্পাদকসহ সংগঠনের পাঁচ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ অবস্থায় ৭ জুলাই এনামুল হক বিজয়ের স্মরণে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সেখানে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষে অন্তত ৪০ নেতাকর্মী আহত হন। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের সভাপতি আহসান হাবিব খোকা ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ বিন আহম্মেদ বাদী হয়ে পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা করেন। মামলায় নামীয় ও অজ্ঞাত মিলে ২৮০ জনকে আসামি করা হয়। এসব মামলায় গত ২ দিনে ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

advertisement