advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পাহাড়ে প্রথম পিসিআর ল্যাব হচ্ছে রাঙামাটিতে

জিয়াউর রহমান জুয়েল রাঙামাটি
১০ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৯ জুলাই ২০২০ ২৩:১৬
advertisement

বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ শনাক্তে আর পিছিয়ে থাকছে না পাহাড়। পার্বত্যাঞ্চলে প্রথম পিসিআর (পলিমার চেইন রিঅ্যাকশন) ল্যাব হচ্ছে রাঙামাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ স্থাপনের কাজও শুরু হবে খুব শিগগির। পাহাড়বাসীর জন্য আশা জাগানিয়া দুটি উদ্যোগই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বেসরকারি সহায়তায়। ফলে জনভোগান্তির সঙ্গে কমে আসবে করোনায় মৃত্যু ও সংক্রমণের হারও।

এরই মধ্যে পাওয়া বসুন্ধরা গ্রুপের ৬৯ লাখ টাকায় দ্রুত গতিতে চলছে পিসিআর ল্যাবের যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ। আগামী ২৫ জুলাই এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। দৈনিক ২০০টি নমুনা পরীক্ষা করা হবে। এতে ১২ থেকে ১৫ দিনের পরিবর্তে দিনে দিনেই মিলবে রিপোর্ট। রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ আমাদের সময়কে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

করোনা আক্রান্তের দিক থেকে দেশের সর্বশেষ জেলা রাঙামাটি। ৬ মে শিশু ও নার্সসহ ৪ জন আক্রান্ত দিয়ে এর সংক্রমণ শুরু হয়। আর ৯ জুলাই পর্যন্ত গত ৬৪ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ঠেকেছে ৪১৮ জনে। মারা গেছেন ৭ জন। আশার কথা, এরই মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২৩১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যাই বেশি। পিসিআর ল্যাবের যন্ত্রপাতি কেনার জন্য গত ২৬ জুন শিল্প পরিবার ‘বসুন্ধরা গ্রুপের

৬৯ লাখ টাকা অনুদানের চেক পায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। রাঙামাটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) পবন চৌধুরী এ চেক হস্তান্তর করেন।

এর পরই ল্যাব স্থাপনের অনুমতি চেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। গত ১ জুলাই রাঙামাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ল্যাব স্থাপনের জন্য অনুমতি দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্তি মহাপরিচালক ও টেকনিক্যাল কমিটি ল্যাবরেটরি ইনভেস্টিগেশন কোভিড ১৯-এর সভাপতি ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

রাঙামাটি সিভিল সার্জন অফিসের করোনাবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. মোস্তফা কামাল-জানান, বৃহস্পতিবার পাওয়া রিপোর্টে নতুন ২২ জন শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রাঙামাটি সদরে ১৭, কাপ্তাইয়ে তিন ও কাউখালী দুজন। ৯ জুলাই পর্যন্ত দুই হাজার ৩৬৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়া গেছে দুই হাজার ২৫৩ জনের। অপেক্ষমাণ রয়েছে ১১৪ জনের রিপোর্ট।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ বলেন, দুটি উদ্যোগই বাস্তবায়ন হচ্ছে বেসরকারি সহায়তায়। এতে রাঙামাটিবাসীর ভোগান্তি ও দুশ্চিন্তা কমবে।

পিসিআর ল্যাব ও কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ স্থাপনের উদ্যোগ এ মুহূর্তে রাঙামাটিবাসীর জন্য আশা জাগানিয়া খবর বলে মনে করেন রাঙামাটি রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ও বেসরকারি টেলিভিশন ‘যমুনা’র সাংবাদিক ফজলুর রহমান রাজন। বলেন, ‘আমরা উচ্ছ্বসিত’।

advertisement