advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কালজয়ী প্রেমের ছবি-১
দেবদাস : ব্যর্থ প্রেমের অব্যর্থ চলচ্চিত্র

ফয়সাল আহমেদ
১০ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৯ জুলাই ২০২০ ২৩:৩২
advertisement

ট্র্যাজেডির কাহিনি মানুষের হৃদয়ের অন্তস্তলে গভীরতম ও বিষাদময় অনুভূতি স্পর্শ করে। এই অনুভূতি যেমন মানুষের ব্যর্থতার প্রতিনিধিত্ব করে, একই সঙ্গে প্রকাশ করে তার মহত্ত্ব। এভাবে ট্র্যাজেডি একটি চরিত্রকে জীবনের চেয়ে বড় মাপের করে তোলে। এ কারণেই শরৎচন্দ্রের দেবদাস সর্বকালের মানুষের হৃদয়ের কাছে আবেদন রেখে কালজয়ী হয়েছে।

দেবদাসের কাহিনি নিয়ে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে ও ভাষায় নির্মিত চলচ্চিত্রের সংখ্যা ১৬। ১৯২৯ সালে দেবদাস অবলম্বনে নির্বাক চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। নীতিশচন্দ্র মিত্রের পরিচালনায় সেই ছবিতে দেবদাস চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ফণী বর্মা। প্রযোজনায় ছিল ইস্টার্ন ফিল্ম সিন্ডিকেট। ১৯৩৫-এ দেবদাস আসে সবাক চলচ্চিত্র হিসেবে। নিউ থিয়েটার্সের প্রযোজনায় ছবির পরিচালনা ও নায়কের ভূমিকায় ছিলেন প্রমথেশ বড়ুয়া। তিনি পরে হিন্দি ও অসমিয়া ভাষায়ও দেবদাস নির্মাণ করেন। ১৯৭৯ সালে উত্তম কুমার ও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় একসঙ্গে অভিনয় করেন দেবদাস ছবিতে। দিলীপ রায় নির্মিত এ সিনেমায় সৌমিত্র ছিলেন দেবদাস ও উত্তম ছিলেন চুনীলালের ভূমিকায়। আর পার্বতী চরিত্রে ছিলেন সুমিত্রা মুখোপাধ্যায়। উর্দুতেও নির্মিত হয়েছে দেবদাস। বাংলাদেশে দেবদাস-কাহিনি অবলম্বনে মোট দুটি সিনেমা নির্মিত হয়, দুটির পরিচালকই প্রয়াত চাষী নজরুল ইসলাম।

অসংখ্য দেবদাস সিনেমার মধ্য থেকে দু-একটি কাহিনিচিত্র সম্পর্কে খানিকটা বলা যাক। প্রমথেশ বড়ুয়ার পরিচালনা এবং তার ও যমুনার অভিনয়সমৃদ্ধ বাংলা ভাষার দেবদাস (১৯৩৫) কিংবা বিমল রায় পরিচালিত দিলীপ কুমার ও সুচিত্রা সেন অভিনীত হিন্দি দেবদাসের (১৯৫৫) চলচ্চিত্রায়ণ যতটা উপন্যাসানুগ। এর অনেক পরের ঐশ্বরিয়া রাই ও শাহরুখ খান অভিনীত সঞ্জয় লীলা বানসালির দেবদাস (২০০২) তেমন নয়। শুধু প্রমথেশ বড়ুয়া আর বিমল রায়ের শিল্পজ্ঞানভিত্তিক দক্ষ পরিচালনার জন্য নয়, সিনেমা তৈরির নান্দনিকতার কারণেও সঞ্জয় লীলা বানসালির দেবদাসের সঙ্গে আগের সিনেমাটির পার্থক্য আকাশ-পাতালের। প্রথম দুজন চেয়েছেন উপন্যাসের নান্দনিকতা ক্ষুণœ না করে শিল্প সৃষ্টি করতে আর শাহরুখ খানদের উদ্দেশ্য ছিল বাণিজ্যিক ফর্মুলা অনুযায়ী দর্শকের মনোরঞ্জন, বক্স অফিসের সাফল্য। সময়ের পরিবর্তনে মানুষের রুচি বদলায়, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, পরিচালক-প্রযোজক ধ্রুপদী কোনো সাহিত্যকর্ম বিকৃত করবেন কেবল দর্শকের মনোরঞ্জনের জন্য।

বাংলাদেশে নির্মিত বুলবুল আহমেদ ও কবরী অভিনীত দেবদাস (১৯৮২) কাহিনির প্রতি বিশ্বস্ত থেকে চাষী নজরুল ইসলামের দক্ষ পরিচালনা এবং চরিত্র দুটিতে কুশলী অভিনয়ের জন্য বিশ্বাসযোগ্য হয়ে দর্শক-সমালোচক উভয়েরই প্রশংসা অর্জন করেছে। মূলধারার বাণিজ্যিক ছবির গড্ডলিকা প্রবাহে সিনেমাটি বিসর্জিত হয়নি। এই দেবদাসে নাম-ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন প্রয়াত অভিনেতা বুলবুল আহমেদ। পার্বতী চরিত্রে ছিলেন কবরী। চন্দ্রমুখী ও চুনিলালের ভূমিকায় ছিলেন আনোয়ারা ও রহমান। ২০১৩ সালে মুক্তি পায় একই পরিচালকের দ্বিতীয় দেবদাস। এবার রঙিন। নাম-ভূমিকায় ছিলেন সময়ের শীর্ষ নায়ক শাকিব খান। পার্বতী করছেন অপু বিশ্বাস। চন্দ্রমুখী চরিত্রে মৌসুমী আর চুনিলাল চরিত্রে শহীদুজ্জামান সেলিম।

advertisement