advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের কোথায় ভুল

করোনা মহামারী মোকাবিলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১০ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১০ জুলাই ২০২০ ০৮:৪৮
advertisement

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেছে। দেশটিতে সর্বোচ্চ সংক্রমণ ও মৃত্যু ছিল এপ্রিলের শেষ দশ দিন। সেই সময় থেকে এখন আড়াই মাস অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু দেশটিতে সংক্রমণ কমার কোনো লক্ষণই নেই। বরং চলতি সপ্তাহে ২৪ ঘণ্টায় ৬০ হাজারের বেশি মানুষ করোনা ভাইরাসে শনাক্ত হয়েছে, যা এ যাবৎকালে একদিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণ। এর মধ্য দিয়েই দেশটিতে সর্বমোট সংক্রমণের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। খবর বিবিসি।

ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনা কিছুটা বেমানান হয়। কারণ জনসংখ্যার দিক থেকে ইউরোপের একটি দেশ হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্যের সমান। তার পরও ইউরোপে এখন করোনা ভাইরাস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। ইতোমধ্যে দেশগুলো সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে। স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ঠিক এখানে যুক্তরাষ্ট্র ভুল পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসতেই ট্রাম্প প্রশাসন লকডাউন তুলে নিতে তড়িঘড়ি করেছে এবং তুলেও নিয়েছে। টেক্সাস, ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া ও আরিজোনায় লকডাউন তুলে নেওয়ার পর সংক্রমণ হু-হু করে বেড়েছে। গত দুই সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ায় রোগী বেড়েছে ৯০ শতাংশ। এতো গেল লকডাউন নীতির কথা। এর পর মাস্ক পরা নিয়েও দেশটির উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা ছিলেন দ্বিধাবিভক্ত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ মাস্ক না পরার দিকে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। এতে মার্কিন জনগণ একটা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলেনি। তবে শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত নিউইয়র্ক এখন অনেকটাই সেরে উঠেছে। ৮ এপ্রিল যেখানে শুধু নিউইয়র্কেই ৭৯৯ জন মারা গেছেন, তা এখন এক অঙ্কে নেমে এসেছে। নিউইয়র্কে এখন প্রতি ১০০ জন টেস্ট করার পর ১.৩৮% পজিটিভ পাওয়া যাচ্ছে।

তবে এখন পর্যন্ত আমেরিকায় অর্থনীতি স্থিতিশীল আছে। অনেক পূর্ভাবাসে যে ভয়াবহ বিপর্যয়ের কথা বলা হচ্ছিল সেটা হয়নি এবং আরও উন্নতি হচ্ছে কিছু ক্ষেত্রে। চাকরি হারানোর যে শতকরা হার সেটা ২০ শতাংশ অনুমান করা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত এখন সেটা ১১.৪%। বিজ্ঞানের দিক থেকেও অগ্রসর অবস্থানে আছে আমেরিকা। এই দেশটিকে মেডিক্যাল ব্যবস্থায় চিকিৎসাসেবা থেকে শুরু করে ভ্যাকসিন তৈরিতে একটা অগ্রসরতা দেখা গেছে।

আমেরিকার অন্যতম প্রধান চিকিৎসাবিজ্ঞানী অ্যান্থনি ফাউচি বলছে, যদি দেরিও হয় তবুও ২০২১ সালের মধ্যে আমেরিকায় তৈরি ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে। এমন পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র করোনা মহামারী মোকাবিলায় অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে। কিন্তু ফাউচি হয়তো তাকে মনে করিয়ে দিতে চান যে, ‘মিথ্যা আত্মতুষ্টিতে ভোগা ভালো নয়’।

advertisement