advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ময়মনসিংহ নগরীতে এবার বসছে সাত কোরবানির হাট

মো. নজরুল ইসলাম ময়মনসিংহ
১০ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১০ জুলাই ২০২০ ০০:০৪
advertisement

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন (মসিক) এলাকায় এবার কোরবানির পশুর হাট বসছে সাতটি। তবে হাটে করোনা ভাইরাস বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য মসিক বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। হাটে ক্রেতা-বিক্রেতারা যাতে স্বাস্থ্যবিধি সম্পূর্ণভাবে মানেন, তার জন্য ইজারাদারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মসিকের টিম বিশেষ নজরদারি করবে বলে জানিয়েছেন মেয়র ইকরামুল হক টিটু।

এদিকে কোরবানির ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, পশু খামারিদের দুশ্চিন্তা ততই বাড়ছে। বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ না কমায় তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। খামারিরা পশু বাজারে নিতে পারবেন কিনা, বাজারে নিলেও ক্রেতা মিলবে কিনা, ক্রেতা মিললেও দাম সঠিক পাবেন কিনাÑ এসব নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন।

মসিক এলাকায় শম্ভুগঞ্জ বাজারে রয়েছে স্থায়ী গরুর হাট। এ ছাড়াও অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট বসবে নগরীর সার্কিট হাউস সংলগ্ন আবুল মনসুর সড়ক, খাগডহর ইউনিয়ন পরিষদ মাঠ, জয়বাংলা বাজার সংলগ্ন (ছাইতান কান্দা মাঠ), সুতিয়াখালী স্কুলমাঠ (জিতেন্দ্রগঞ্জ বাজার), শিকারীকান্দা ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (জিটিআই) মাঠ।

আসন্ন ঈদুল আজহার পশুর হাটে ও পশু কোরবানিতে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার্থে ইত্তেফাকুল ওলামা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ইমাম সমিতি, কসাই সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে গত ৫ জুলাই মতবিনিময় করেন মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটু। তিনি কোরবানির পশুর হাটে বয়স্ক ও শিশুসহ একটি পশু ক্রয়ে এক পরিবার থেকে দুই-তিন জনের অধিক মানুষকে হাঁটে যাওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

মসিক প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রাজীব কামুার সরকার জানান, পশুর হাটের দরপত্রে এবার ইজাদার এবং দূর থেকে আগত পাইকারদের জান-মালের নিরাপত্তাসহ সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বাজারে আগত ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং নিজ খরচে পশুর হাটে বিদ্যুৎ, পানি, স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

ময়মনসিংহ অঞ্চলে অসংখ্য গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়ার খামার গড়ে উঠেছে। গ্রামের একজন বিধবা বা সাধারণ কৃষক থেকে শুরু করে লাখ লাখ মানুষ গরু, ছাগল ও ভেড়া পালন করেন। এখন অনেক শিক্ষিত যুবক ডেইরি ফার্ম ও গরু মোটা তাজাকরণকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। যে কারণে প্রত্যন্ত এলাকায় বড় বড় গরু ও ছাগলের খামার গড়ে উঠেছে। সারাবছর কসাইদের কাছে বিক্রির পাশাপাশি কিছু কিছু স্পেশাল গরু বড় করা হয় কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে।

খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনা নিয়ে তারা এখনো দুশ্চিন্তামুক্ত হতে পারেননি। সব সময়ই কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সারাবছর গরু লালন-পালনে তারা বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেন। তাই এখন পশু বিক্রি করতে না পারলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন খামারিরা।

ভালুকার খামারি মোশাররফ হোসেন বলেন, এবার তিনি খামারের ২৫টি গরু মোটাতাজা করেছি কোরবানির হাটে বিক্রির করার জন্য। এত টাকা বিনিয়োগ করে যদি কোরবানির ঈদে দাম ভালো না পাই তা হলে আমাদের মতো খামারিদের দুঃখের কোনো সীমা থাকবে না। গরু পালন করতে গিয়ে অনেক ঋণ হয়েছে। ধার-দেনা করে কোরবানির আশায় গরু পালন করেছি। করোনার বর্তমান অবস্থায় এখন আতঙ্কের মধ্যে আছি।

ধোবাউড়ার সীমান্তবর্তী বিধবা আইমন নেছা জানান, স্বামী-সন্তান কেউ নেই। অনেক ধারদেনা করে একটি ষাঁড় গরু গত দুই বছর ধরে সন্তানের মত লালন-পালন করেছেন। বাজার ঠিক থাকলে গরুটি লক্ষাধিক টাকা বিক্রি হবে। যদি করোনার কারণে বাজারে উপযুক্ত দাম না পান, তা হলে তার মরণ ছাড়া গতি নেই। কোরবানির হাট ছাড়া কসাইদের কাছে গরুটি বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হবে বলেও জানান তিনি।

advertisement