advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

তালিকায় অধ্যক্ষ ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীর বাবার নাম

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি
১০ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১০ জুলাই ২০২০ ০৯:২০
advertisement

বরগুনার বেতাগীতে করোনা ভাইরাসের কারণে বিপদে পড়া মানুষকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মোবাইলে মানবিক সহায়তা বাবদ নগদ টাকা দেওয়ার জন্য করা তালিকায় অসঙ্গতি, স্বজনপ্রীতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ তালিকায় সাবেক অধ্যক্ষ, সরকারি চাকরিজীবী, প্রবাসীর স্ত্রী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও সচ্ছল ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। শুধু তাই নয়, একই পরিবারের দুজনের নামও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এ তালিকায়। নীতিমালা অনুযায়ী অসচ্ছল ও সরকারের অন্য কোনো সহায়তাপ্রাপ্ত নয়, এমন ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার নিয়ম থাকলেও একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নে এ নীতিমালা পুরোপুরি মানা হয়নি বলে ভুক্তভোগী অনেকেই অভিযোগ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর নগদ টাকা প্রদানের জন্য এ উপজেলায় মোট ৭ হাজার ২২০টি নাম চূড়ান্ত করে তালিকা প্রস্তুত করেন ইউনিয়ন পরিষদের ও পৌরসভার জনপ্রতিনিধিরা। চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত এ তালিকায় দেখা গেছে বেতাগী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও বেতাগী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মনোরঞ্জন বড়ালের নাম রয়েছে। তিনি ৩ বছর আগে চাকরি থেকে অবসর নেন।

বর্তমানে শহরের কলেজ রোডের নিজস্ব বাসাভবনে বসবাস করেন। তার একমাত্র পুত্র আমেরিকা প্রবাসী। শহরের বিশিষ্ট স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিতাই লাল কর্মকারের নামও তালিকায় স্থান পেয়েছে। বেতাগী শহরের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী নিতাই লাল কর্মকারের পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে নিজস্ব পাকা ভবন রয়েছে। পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও সবুজ কানন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক স্বপন কুমার সরকার, তার বড় ভাই টেলিযোগাযোগ বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বদেশ কুমার সরকার এবং তার মেজ ভাই সমর কুমার সরকারের ছেলে বরিশাল জেলখানায় কর্মরত সাগর সরকারের নামও আছে এ তালিকায়। শহরের আরেক ব্যবসায়ী দশরত সিংহের ছেলে শুভ সিংহ, দয়াল মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক নেপাল কুংপুং এবং পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৎস্যজীবী হিসেবে সহায়তাপ্রাপ্ত মো. জাকির হোসেনের স্ত্রী লিপি আক্তারের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে চূড়ান্ত তালিকায়।

বিবিচিনি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক সহ প্রধান শিক্ষক অমল কৃষ্ণ দত্তের নামও তালিকাভুক্ত হয়েছে। মোকামিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জোয়ার করুণা গ্রামের শাহ আলমের নাম তালিকাভুক্ত করেছেন তার আপন মামা ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শিপন। শাহ আলম মাসে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা বেতন পান বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও তালিকা প্রণয়ন কমিটির সদস্য সচিব জিএম ওয়ালিউল ইসলাম বলেন. প্রস্তুতকৃত তালিকায় কিছু ভুলত্রুটি থাকতে পারে। তবে সচ্ছল ব্যক্তিরাও নগদ সহতায়তা পেতে পারেন। তাতে কোনো সমস্যা নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজীব আহসান বলেন, তালিকায় সমস্যা হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সংশোধন করার নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশোধনীর জন্য স্থানীয়ভাবে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমান ফোরকান বলেন, তালিকায় আমিও অসঙ্গতি দেখেছি। এটা সংশোধন করা দরকার।

advertisement