advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

গোবিন্দগঞ্জে করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে দেরি হওয়ায় বাড়ছে সংক্রমণ

গোবিন্দগঞ্জ প্রতিনিধি
১০ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১০ জুলাই ২০২০ ০০:০৪
advertisement

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে প্রতিদিন বাড়ছে করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা, বাড়ছে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও। প্রতিদিন ১০-১২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। প্রথম দিন সংরক্ষণ করে তা গাইবান্ধা সিভিল সার্জন অফিসের মাধ্যমে পাঠানো হয় রংপুর মেডিক্যাল কলেজের পরীক্ষাগারে। পরীক্ষা শেষে তার রিপোর্ট ইমেইলে প্রেরণ করা হয়। এতে নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে ১৫ থেকে ২০ দিন দেরি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও স্বজনরা। ফলে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। সেই সঙ্গে বাড়ছে হতাশা ও আতঙ্ক।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন নমুনাপ্রতি ২০০ টাকা ফি নিয়ে দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত করোনা উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। অন্যদিকে নমুনা নেওয়ার বুথ না থাকায় মাটিতে বসে নমুনা নেওয়ার সময় হাঁচি-কাশির ড্রপলেট ছড়িয়ে ছিটিয়ে নমুনা নেওয়ার স্থানগুলো জীবাণুযুক্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে এ উপজেলায় ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, সাংবাদিকসহ করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৮৬ জনের। আর মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। করোনা উপসর্গ নিয়ে নমুনা দিতে আসা রোগীরা জানান, করোনা নমুনা রিপোর্ট পেতে ১৫-২০ দিন সময় লাগায় একদিকে যেমন রোগী বুঝতে পারে না করোনায় আক্রান্ত কিনা, অন্যদিকে না বুঝে হরহামেশায় চলাচল করায় বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। আর সংকটাপন্ন রোগীরা রিপোর্ট পেতে দেরিতে পাওয়ায় সুচিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করছে। এতে নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. রেজাউল করিম জানান, আমরা অনেক বেশি স্যাম্পল রংপুর পিসিআর ল্যাবে পাঠাই। এতে সমস্যা হচ্ছে, নমুনা রিপোর্ট পেতে ১৫-২০ দিন সময় লেগে যায়। এ রিপোর্টগুলোর মধ্যে অনেকে পজিটিভও ছিল হয়তো। তারা অসাবধানবশত চলাফেরা করায় অনেকের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে দেয়। আর যদি আমরা দ্রুত রিপোর্ট পাই, তা হলে করোনা পজিটিভ রোগীদের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারব।

এ প্রসঙ্গে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন বলেন, আমাদের স্যাম্পলগুলো পরীক্ষা করা হয় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এ স্যাম্পলগুলো প্রেরণের পর রিপোর্ট পেতে বেশ সময় লাগে। সে কারণে রিপোর্ট না জেনে রোগীদের কোয়ারেন্টিনে বাধ্য করা যায় না। তার পরও আমরা কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। আর আমাদের জেলায় পিসিআর ল্যাব স্থাপন হলে আমরা দ্রুত রিপোর্ট পাব। এসব সমস্যারও সমাধান হবে। পিসিআর ল্যাব স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে লিখিত আবেদন করেছি। দ্রুত হয়তো সরকার এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।

advertisement
Evaly
advertisement