advertisement
advertisement

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নগদ সহায়তা পাননি আমতলীর বাছাইকৃত অর্ধেক পরিবার!

‘’

মো. হানিফ মিয়া,আমতলী (রবগুনা)
১০ জুলাই ২০২০ ১৭:৪৭ | আপডেট: ১০ জুলাই ২০২০ ১৮:১৭
advertisement

মুজিববর্ষে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নগদ অর্থ সহায়তা বরগুনার আমতলী উপজেলার হতদরিদ্র পরিবারের ৬ হাজার ৫৪৪ জন মানুষের কাছে এখনো পর্যন্ত পৌঁছায়নি। জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মতারিখ, সিম রেজিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন তথ্যের গড়মিল থাকায় এ সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত রয়েছেন। সারা দেশের ন্যায় এ উপজেলার একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নে করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া ১১ হাজার ২৯৯টি হতদরিদ্র পরিবারকে বাচাই করে তালিকাভুক্ত করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

তালিকাভুক্ত হতদরিদ্র প্রতিটি পরিবারকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঈদ উপহার হিসেবে নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা অর্থ সহায়তা দেওয়ার সিন্ধান্ত নেয় সরকার। ঈদুল ফিতরের আগেই তালিকাভুক্তদের নিজ নিজ মোবাইলে এ টাকা পৌঁছানোর কথা থাকলেও এখনো আমতলীর অর্ধেক হতদরিদ্র পরিবার সে টাকা পাননি। ফলে এসব দরিদ্রদের মাঝে অসন্তোষ লক্ষ্য করা গেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, বাচাইকৃতদের তালিকায় তথ্যে গড়মিল থাকা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের খামখেয়ালীপনা ও ভুল তথ্য দেওয়ার কারণে তারা প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঈদ উপহার থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মুজিববর্ষে সারা দেশে ৫০ লাখ পরিবারকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান কর্মসূচির বাছাইকৃতদের তথ্য সংশোধনের জন্য সংশোধনীর তালিকা এসেছে। তথ্যে ভুল থাকায় আমতলী পৌরসভার বাছাইকৃত তালিকাভূক্ত ১ হাজার ৪৮৫ জনের মধ্যে থেকে ১ হাজার ৬০ জনের তথ্য সংশোধন করা হবে। এ ছাড়া একই কারণে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে গুলিশাখালী ইউনিয়নের তালিকাভূক্ত ১ হাজার ৬০২ জনের মধ্যে থেকে ৯৫৭ জন, আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের ১ হাজার ৩০২ জনের মধ্যে থেকে ৭২৮ জন, কুকুয়া ইউনিয়নের ১ হাজার ৪০২ জনের মধ্যে থেকে ৮২২ জন, হলদিয়া ইউনিয়নের ১ হাজার ৬০২ জনের মধ্যে থেকে ১ হাজার ৯৭ জন, চাওড়া ইউনিয়নের ১ হাজার ৩০৩ জনের মধ্যে থেকে ১০৪৮ জন, আমতলী সদর ইউনিয়নের ১ হাজার ৩০১ জনের মধ্যে থেকে ২৮৪ জন ও আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ১ হাজার ৩০২ জনের মধ্যে থেকে ৫৪৮ জনের তথ্য সংশোধন করা হবে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মতারিখ, সিম রেজিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন তথ্যের গড়মিল থাকায় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন এসব উপকারভোগীরা। তথ্যে গড়মিল থাকা উপকারভোগীদের তথ্য নতুনভাবে জনপ্রতিনিধিরা যাচাই-বাছাই করছেন। কাজ শেষ হলে আবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তালিকা প্রেরণ করা হবে।’

অপরদিকে বাচাইকৃত তালিকায় নাম থাকা এমন অনেকেই অভিযোগ করেন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তারা এখানো কোনো টাকা পাননি। জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মতারিখ, সিম রেজিস্ট্রেশনসহ অন্যান্য তথ্য সঠিক থাকলেও তাদের মোবাইলে এখন পর্যন্ত কোনো টাকা আসেনি। এমনকি সংশোধিত তালিকায়ও তাদের নাম নেই। এমন পরিস্থিতিতে অনেকটাই শঙ্কিত তালিকাভুক্ত এসব উপকারভোগীরা।

উপজেলার চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান বাদল খান বলেন, ‘ভুলক্রুটি সংশোধন করে আবার তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। বাচাইকৃত তালিকাভুক্তরা বঞ্চিত হবেন না।’

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা পারভীন বলেন, ‘তালিকাভুক্ত যেসব উপকারভোগীর তথ্যে ভূল আছে তা সংশোধনের কাজ চলমান রয়েছে। বাচাইকৃত উপকারভোগীরা যাতে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নগদ অর্থ সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন সেই বিষয়টি আমরা দেখছি।’

advertisement