advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

করোনার মধ্যেই সক্রিয় হতে চায় বিএনপি

নজরুল ইসলাম
১১ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১১ জুলাই ২০২০ ১১:১৬
বিএনপির লোগো
advertisement

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া দলকে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় করতে চায় বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে প্রায় চার মাস পর সীমিত পরিসরে হলেও সাংগঠনিক পুনর্গঠনসহ সার্বিক দলীয় কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে দলটির নীতিনির্ধারকরা। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া কয়েক দফা স্থগিত করে নেতাকর্মীদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করে দলটি।

দলটির নেতাদের ভাষ্য, সামর্থ্যবান নেতাকর্মীদের ত্রাণ তৎপরতা ও দলীয় চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকায় এ কাজে বিএনপি সফল হয়েছে। কিন্তু করোনার মধ্যে বেরিয়ে আসা সরকারের স্বাস্থ্য খাতের নানা দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঢাকায় দুই-এক নেতা কথা বললেও সারাদেশ ছিল চুপ। এ অবস্থায় পুনর্গঠন কাজ শুরু হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দল সক্রিয় এবং সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করাও সহজ হবে। এখন দলটির কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীই নতুন করে পুনর্গঠনের ওপর স্থগিতাদেশ চান না। ভার্চুয়াল হলেও পুনর্গঠনের পক্ষে তারা। তবে এখনই পুনর্গঠন না করে আরও কিছুদিন করোনা পরিস্থিতি দেখার পক্ষে রয়েছেন সিনিয়র একাধিক নেতা।

জানতে চাইলে পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্র্ণ নেতা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আমাদের সময়কে বলেন, আশা করি সীমিত পরিসরে আগামী ১৬ জুলাই থেকে শুরু করতে পারব। এর পর থেকে কমিটি গঠন-পুনর্গঠন করা যাবে। বিভিন্ন জেলার অনেক থানা কমিটি প্রস্তুত আছে । সেগুলো ঘোষণা দেওয়া হবে। ভার্চুয়ালি এসব কর্মকা- চলবে।

দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ না বাড়ালে ১৬ জুলাই থেকে বিশ^স্বাস্থ্য সংস্থা নির্দেশিত স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি এবং সামাজিক দূরত্ব অনুসরণ করে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম/সাংগঠনিক গঠন ও পুনর্গঠন কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে সীমিত আকারে শুরু করবে বিএনপি। এ ছাড়াও করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে নেতাকর্মী স্বাস্থ্য সুরক্ষা বজায় রেখে অসহায় জনগণের পাশে আরও সক্রিয়ভাবে কীভাবে দাঁড়ানো যায়, কীভাবে তাদের চিকিৎসায় সহযোগিতা করা যায় সে বিষয়ে নেতাদের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হচ্ছে। যদিও সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল এরই মধ্যে তাদের পুনর্গঠন কাজ শুরু করেছে। যুবদলও দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করবে।

বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ একাধিক নেতা জানান, করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার পক্ষে। তিনি চান সবার মতামত নিয়ে কাজটি শুরু করতে। যার কারণে বিভিন্ন সময়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একাধিক বার জাতীয় স্থায়ী কমিটির নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছে।

গত মাসে (দশ সাংগঠনিক বিভাগ) বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গেও ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। দুই দিনের বৈঠকে প্রথম দিনে ১০ জুন ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহের বিভাগীয় সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকরা বৈঠকে যুক্ত ছিলেন। পরদিন ১১ জুন রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও ফরিদপুরের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৈঠকে করোনাসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভাগীয় নেতাদের কাছে মতামত জানতে চান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। বৈঠকে অধিকাংশ বিভাগের নেতারা সাংগঠনিক কার্যক্রম পুরোদমে চালু রাখার পক্ষে মতামত তুলে ধরেন। যুক্তি হিসেবে তারা বলেন, মাঠের বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি দীর্ঘমেয়াদে সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়তে পারে। এতে অনেক সিনিয়র ও কেন্দ্রীয় নেতা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন। অনেকের মধ্যে গা-ছাড়া ভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে যদি মানুষকে সহায়তা করা যায়, তা হলে সাংগঠনিক কর্মকা-ও করা যায়। তারা এসব বিষয় বিবেচনা করে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালুর দাবি জানান।

তবে ওই বৈঠকে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে তিনটি বিভাগের সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, এখন প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশ করার সময় নয়। দেশে করোনা ভাইরাসের এখন পিক টাইম চলছে। প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চার হাজার মানুষ আক্রান্ত এবং অর্ধশতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর আসছে। কে কখন আক্রান্ত হয় বলা মুশকিল। সুতরাং এ মুহূর্তে প্রকাশ্যে সভা সমাবেশসহ সাংগঠনিক কার্যক্রম করা যৌক্তিক নয়। অবশ্য সীমিত পরিসরে নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ে কিছু কর্মসূচি বা অন্যান্য কার্যক্রম চালুর পক্ষে মত দেন তারা।

গত মাসে দলের করণীয় ঠিক করতে স্থায়ী কমিটির একাধিক নেতার মতামত নেন তারেক রহমান। স্থায়ী কমিটির এক নেতা জানান, তার সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কথা হয়েছে। তিনি জানতে চেয়েছিলেন কী করা উচিত। আমি বলেছি, করোনা পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নেতাকর্মীদের কোনো অবস্থায় আক্রান্তের মধ্যে ফেলে দেওয়া যাবে না। যেহেতু বিশেষজ্ঞরা বলছেন করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি পিকে (সর্বোচ্চ চূড়ায়) অবস্থান করছে, তাই আরও কিছুদিন কর্মকা- স্থগিত রাখার জন্য। এর পরই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাংগঠনিক কার্যক্রম ১৫ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গত ২৪ জুন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিশ^ব্যাপী কোভিড-১৯ অতিমারীর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাংগঠনিক কার্যক্রম/সাংগঠনিক গঠন ও পুনর্গঠন কার্যক্রম আগামীকাল ২৫ জুন পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছিল। এই স্থগিতাদেশ ১৫ জুলাই পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।

এ অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল বৈঠকে ময়মনসিংহ বিভাগের জেলা ও মহানগর নেতাদের মতামত নেন তারেক রহমান। সেখানে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকরাও ছিলেন। এর আগে গত শনিবার সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সহসম্পাদক ও জেলার নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পর্যায়ক্রমে সাংগঠনিক সব বিভাগের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন তারেক রহমান।

জানতে চাইলে বৈঠকে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, গত মাসে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভার্চুয়াল বৈঠক হয়েছিল। সেখানে আমরা প্রস্তাব করেছিলাম বিভাগভিত্তিক যেন জেলার নেতাদের সঙ্গেও একই ধরনের বৈঠক করে। এরই অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ বিভাগের সঙ্গে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন। এতে দেশের চলমান করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ও দলের সাংগঠনিক কর্মকা-সহ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা প্রস্তাব করেছি, দলীয় নেতাকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বজায় রেখে সীমিত পরিসরে হলেও দলের সাংগঠনিক কর্মকা- চালু করার জন্য। একইভাবে অসহায় জনগণের পাশে আরও সক্রিয়ভাবে কীভাবে দাঁড়ানো যায়, সবাই যাতে চিকিৎসা পায় সে ব্যাপারে সহযোগিতা করার জন্য। তবে সবার আগে নেতাকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি দেখতে হবে- এ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

বৈঠক সূত্র জানায়, জেলার নেতারা মতামত দেন, প্রথমে তাদের ধারণা ছিল জুন মাসে হয়তো করোনার প্রভাব কমে যাবে। যেহেতু করোনা সংক্রমণ কমে যাওয়ার লক্ষণ নেই বা কেউ বলতেও পারছে না কবে এর শেষ হবে, এজন্য দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আর স্থগিত রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাই সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সব কর্মকা- চালানো উচিত। জেলা নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়।

জানতে চাইলে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সামগ্রিকভাবে প্রতিনিয়ত দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন। মতামত নিচ্ছেন। আসলে দলের কর্মকা- তো স্থবির হয়ে আছে। কারণ বেশিরভাগ জেলা কমিটি ভেঙে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। এসব কমিটিতে যারা আছেন, তারা তো কেয়ারটেকার, অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো। তারা নতুন কমিটি করে দায়িত্ব শেষ করবেন। জেলায় নতুন নেতৃত্ব না আসা পর্যন্ত দলের কার্যক্রম সেভাবে গতিশীল হবে না।

 

 

advertisement
Evaly
advertisement