advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ইতালি ঢুকতে না পারা বাংলাদেশিরা কোয়ারেন্টিনে

নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১০ জুলাই ২০২০ ২৩:৩১
advertisement

কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে ইতালি গিয়েও ঢুকতে না পেরে দেশে ফিরে এসেছেন ১৪৭ বাংলাদেশি। গত বৃহস্পতিবার রাত ২টা ৩৪ মিনিটে তাদের বহন করা বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে তাদের পাঠানো হয় রাজধানীর আশকোনার হজক্যাম্পে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে। বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন তৌহিদ-উল আহসান এ তথ্য জানিয়েছেন।

ইতালির রোমের ফিউমিসিনো ও মিলানের মালপেনসা বিমানবন্দরে গত বুধবার দুটি পৃথক ফ্লাইটে অবতরণ করা বাংলাদেশিদের নামতে দেয়নি ইতালি। পরে অন্য দেশের যাত্রীদের নামিয়ে পরীক্ষা করা হলেও বাংলাদেশিদের ওই বিমানে করেই ফেরত পাঠানো হয়। তৌহিদ-উল আহসান জানান, কাতার এয়ারওয়েজের কিউআর-৬৩৮ ফ্লাইটটিতে তিন শতাধিক যাত্রী দেশে ফিরেছেন। তাদের মধ্যে ইতালি ঢুকতে না পারা ১৪৭ জন ছিলেন। তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে একটি ফ্লাইটের দুই ডজনের বেশি বাংলাদেশি আরোহীর শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয় বলে দাবি করে ইতালি। করোনাক্রান্ত ব্যক্তিরা বাংলাদেশ থেকে টাকার বিনিময়ে ভুয়া বা জাল সার্টিফিকেট নিয়ে গিয়েছিলেনÑ এমন খবরে তুলকালাম চলছে গোটা ইতালিতে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চঝুঁকির বিবেচনায় বাংলাদেশসহ ১৩ দেশের নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এমনকি গত দুই সপ্তাহে বাংলাদেশ ভ্রমণকারী বিদেশি নাগরিকদের জন্যও প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে ইউরোপের দেশটি। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশসহ ১৩টি ঝুঁকিপূর্ণ দেশের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা জারি করে বিশেষ

অর্ডিন্যান্সে স্বাক্ষর করেন ইতালীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্তো স্পেরাঞ্জা। বাকি দেশগুলো হলোÑ আর্মেনিয়া, বাহরাইন, ব্রাজিল, বসনিয়া হার্জেগোভিনা, চিলি, কুয়েত, উত্তর মেসিডোনিয়া, মলদোভা, ওমান, পানামা, পেরু ও ডমিনিকান রিপাবলিক।

এর মধ্যেই ইতালির টুডে পত্রিকার সম্পাদকীয়তে ছাপা হয়েছে বাংলাদেশ থেকে ‘করানো নিয়ে’ ইতালি যাওয়া এবং ‘ঘুরে বেড়ানো’ এক ব্যক্তির গল্প। তাতে লেখা হয়Ñ ৫৩ বছর বয়স্ক লোকটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকা থেকে ইতালি আসেন ২৩ জুন। তিনি তখন করোনা আক্রান্ত ছিলেন এবং তার উপসর্গও ছিল। তাকে আটকে রাখা উচিত ছিল। কিন্তু তিনি ইতালির ফিউমিচিনোতে বিমান থেকে নেমেই অনেক জায়গা ঘুরে রাজধানী রোমে চলে আসেন। তারমিনি স্টেশনে তাকে কাশতেও দেখা যায়। স্টেশনের থার্মো স্ক্যানারে ধরা পড়েÑ তার গায়ে জ্বরও রয়েছে। পরে তাকে নিকটস্থ ক্লিনিকে পাঠানো হলে দেহে করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে। তদন্তে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে ইতালি নামার পরও তার করোনা ধরা পড়েছিল। তাই আইসোলেশনে থাকার কথা ছিল তার। কিন্তু বাস্তবে তিনি প্রথম পাঁচ দিনেই অসংখ্যবার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। ওইসব জায়গার সব এখনো নির্ধারণ করা বাকি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

এদিকে রোমে নতুন আরও ১৪ বাংলাদেশির করোনা সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৮ জন একই পরিবারের সদস্য। এ নিয়ে শুধু রোমেই বাংলাদেশ থেকে আসা ৯৮ জনের মধ্যে করোনা পাওয়া গেল। বর্তমানে ইতালিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

advertisement
Evaly
advertisement